Skip to main content

Posts

Showing posts from December 4, 2013

অপরিণামদর্শিতার খেসারত মানুষ কেন দেবে? আন্দোলনের নামে সহিংসতা

রাজনীতি জীবনের মূল্যে তার খাজনা প্রতিদিন নিচ্ছে। একতরফা নির্বাচনের ঘোষণা এবং তার জবাবে বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধ শুরুর পর থেকে রাজনীতি সহিংস মাত্রা পেয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগুনে পুড়ে অথবা গুলিবিদ্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে। সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব যতই সীমা ছাড়াচ্ছে, ততই তাদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। দুই জোটের বিনাশী তৎপরতা জনমনে ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে। এই অবস্থার আশু অবসানই এখন জাতীয় দাবি। বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর কর্মীদের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বান শুনে মনে পড়ে যায়, ‘এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে!’ ইতিমধ্যে স্কুলগামী শিশু, ঘরফেরতা পেশাজীবী-গৃহবধূ, দিনমজুর বৃদ্ধ বীভৎস আগুনে পুড়ে অথবা গণশত্রু ককটেলের আঘাতে জীবন হারিয়েছেন। এ এমন মৃত্যু, যার কোনো সান্ত্বনা নেই; এ এমন মৃত্যু, কোনো মানুষেরই যা হওয়া উচিত নয়। অথচ যা হওয়া উচিত নয়, তা-ই ঘটছে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার এই আহ্বান তাই অপরিণামদর্শী সহিংসতার দায় লাঘব করতে পারে না। এমনকি সরকারি বাহিনীর গুলিতেও আন্দোলনকারীসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।...

সহিংস রাজনীতি- চাই অহিংস নৈতিক শক্তির উত্থান by আলী রীয়াজ

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আর যা-ই হোক, স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করা যায় না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর সারা দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সারা দেশে যে ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তাতে কেবল যে উদ্বেগ, আশঙ্কা, আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে তা-ই নয়, অনেকেই এ প্রশ্ন তুলছেন যে এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে কি না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসহায়ত্বের বোধ ছড়িয়ে পড়েছে, নিরাপত্তাহীনতা এখন সমাজের সর্বস্তরে। যাদের পরিবার-পরিজনের প্রাণনাশ হয়েছে, তাদের মানসিক অবস্থার কথা বর্ণনা করার চেষ্টা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাদের ক্ষতি কোনো বর্ণনাতেই তুলে ধরা সম্ভব নয়। দলীয় অন্ধ বিবেচনার বাইরে দাঁড়িয়ে যে সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিতে কথা বলছ, তাদের কণ্ঠস্বরকে আর্তনাদের মতোই শোনাচ্ছে। আর কত মানুষের মৃত্যু, আর কত মানুষের অগ্নিদগ্ধ শরীর, আর কত ধ্বংসযজ্ঞের পর সরকার ও বিরোধী রাজনীতিবিদেরা বুঝতে পারবেন যে এর অবসান দরকার? এ প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে। ক্ষমতার রাজনীতির পৃথিবী কি এতটাই অন্ধকার যে সেখানে জীবিত ও মৃত মানুষের মধ্যে ফারাক করা যায় না? সেই অন্ধকারে লাল রক্ত...

শুভবুদ্ধির উদয় হোক- দেশ কোন দিকে যাচ্ছে?

নির্বাচনের বিরোধিতা করে যখন বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির সময় ক্রমশ বাড়ছে, তখন একতরফা নির্বাচনের নানা উদ্যোগ-আয়োজনও চলছে। সোমবার সারা দেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের কাজ শেষ হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই প্রক্রিয়ায় শরিক না হওয়ায় নির্বাচন-প্রক্রিয়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই নিজেকে সরিয়ে নিল দলটি। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও গতকাল দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ পরিবেশ নেই—এই অজুহাতে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তাঁর এ ঘোষণাই যে শেষ কথা, তা হলফ করে বলা যায় না। কাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরোধী জোটের অবরোধের ডাক দেওয়া আছে, নির্বাচন ঠেকাতে এখন যদি তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়, তবে পরিস্থিতি আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সমঝোতার আহ্বানই উপেক্ষিত হয়েছে এবং দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। দুই দফা অবরোধ কর্মসূচিতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। এই অবস্থায় শান্তিপূর্ণ, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল দুরূহ নয়, অসম্ভবও। জাতীয় পার্টির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা যদি শেষ পর্যন্ত বহাল থাক...

এরশাদের সিদ্ধান্ত বদলের নেপথ্যে

তিন কারণে নির্বাচন বর্জন করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একটি বিশেষ পক্ষের নির্দেশনা, শক্তিধর একটি দেশের সর্বশেষ বার্তা এবং ১৮ দলীয় জোটের প্রতিরোধের ভয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। যদিও গতকাল জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেছেন, জাতির কাছে আমি তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এককভাবে নির্বাচন করবো, কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবো না এবং সব দল অংশ না নিলে নির্বাচনে যাবো না। আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। তবে, এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক ভবন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটি বিশেষ পক্ষের প্রতিনিধিরা এরশাদের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। তারা এরশাদকে বলেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। গতকাল সকালে আঞ্চলিক শক্তিধর একটি দেশের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা পান এরশাদ। তার এক সপ্তাহ আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ভারত সফর করেন। বর...

কী দোষ ছিল স্বপনের?

রাজনীতির ধারেকাছেও ছিলেন না ইজিবাইকচালক স্বপন। কিন্তু রাজনীতির অশুভ ছোবল থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। সহিংসতার আগুনে ঝলসে গেছে তাঁর শরীর। অবরোধ চলাকালে গত সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ছিটিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তাঁর একমাত্র সম্বল ইজিবাইকটি। দগ্ধ হয়েছেন তিনি। স্বপন এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বপনের একটাই প্রশ্ন, কী দোষ ছিল তাঁর? তাঁর পরিবার বলতে সাত বছরের মেয়ে স্বপ্ন। যে কি না, পঙ্গুত্ব বরণ করে ছয় মাস ধরে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাই অবরোধের মধ্যেও মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগানোর তাগিদে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ঝলসে গেছে স্বপনের শরীরের ৭০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত এলাকাবাসীর চাঁদায় কোনো রকমে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আর্থিক সংকটের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি। হাসপাতালের বারান্দায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর স্বপন চিকিৎসক ও দেখতে আসা লোকদের বলছিলেন, ‘যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না। মনে হয়, তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ি। কিছু একটা করেন আপনারা।’ স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাত্রী সেজে আমার গাড়িতে উঠে দুর্বৃত...