Skip to main content

Posts

Showing posts from January 2, 2014

ফিরে দেখা ২০১৩- দুর্নীতির ছোবলে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রকাঠামো by ইফতেখারুজ্জামান

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের জন্য ২০১৩ সালটি ছিল বিনষ্ট সম্ভাবনার এক হতাশাব্যঞ্জক চিত্র। জনগণ, যারা দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে দেখতে চায়, তাদের জন্য বছরটি ছিল উদ্বেগজনক, আর সরকারের জন্য আত্মঘাতী। দুর্নীতির অভিযোগকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অস্বীকার করার প্রবণতা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাকে পদদলিত করেছে। দুর্নীতির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে। নীতি ও শাসনকাঠামোতে দুর্নীতি-সহায়ক শক্তির প্রভাব ক্রমাগত বেড়েছে। বছরের শেষে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের প্রশ্নবিদ্ধ সম্পদ আহরণের নগ্ন চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার ফলে পর্বতসম মুনাফা এবং সম্পদ আহরণের এই সুযোগ যে বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের ক্ষমতার লড়াইয়ের মূল প্রণোদনা, তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়েছে। সর্বোপরি রাষ্ট্রক্ষমতা একধরনের চৌর্যোন্মাদনার করাভূত হতে চলেছে। নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকারের বিপুল জনসমর্থন অর্জনে যে কয়েকটি উপাদান শীর্ষ ভূমিকায় ছিল, তার অন্যতম ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকার। শুরুটা মন্দ ছিল না। অষ্...

খোলা চোখে- কূটনীতি বনাম রাজনীতি by হাসান ফেরদৌস

আমাকে মাফ করবেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের যে দাবি কোনো কোনো মহল থেকে তোলা হচ্ছে, সে ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। সে দেশের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, তা আমরা জানি। কাউকে নিন্দা বা সমর্থন করে পার্লামেন্টে এ ধরনের রুটিন প্রস্তাব গ্রহণ তো নতুন কোনো ব্যাপার নয়। মার্কিন কংগ্রেসে হরহামেশাই কাউকে না কাউকে গালমন্দ করে প্রস্তাব উঠছে। সে একধরনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। কিন্তু রাজনীতি ও কূটনীতি তো এক নয়, এই দুটোকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে কী করে! পত্রিকার পাতায় অথবা রাজনৈতিক সমাবেশে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের দাবি উঠলে তাতে ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নেই। কিন্তু এমন দাবির পক্ষে সমর্থন যদি সরকারের ভেতর থেকে আসে, তাহলে মাথা চুলকাতে হয় বইকি! বাংলাদেশ সরকারের একজন বর্ষীয়ান মন্ত্রী, যিনি নিজে একসময় কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, মুখ ফসকে বলে বসেছেন, পাকিস্তান একটি বর্বর দেশ। কথাটা শুনে ভড়কে গেছি। পুরো একটা দেশকে বর্বর বলে ফেললাম! সেখানে এখনো কয়েক লাখ বাঙালি স্থায়ীভাবে বাস করে। একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জেলে...

পরিবেশ- গাছ কাটা আন্দোলন by পাভেল পার্থ

পৃথিবীর মূল সম্পদগুলো হলো ভূমি, জল ও প্রতিবেশগত বৈচিত্র্য। গরিব নিম্নবর্গের প্রাকৃতিক মূলধনও তাই। প্রতিবেশবৈচিত্র্যের অন্যতম কারিগর উদ্ভিদ। উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য শ্রেণীকরণে বৃক্ষ, বিরুৎ, গুল্ম ও তৃণর ভেতর বৃক্ষরূপটি চারধারের বাস্তুসংস্থানের সঙ্গে অভিযোজনের প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়েছে, যা সমান্তরাল বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। দুনিয়ার মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ভেতর প্রায় ২৫ ভাগই বৃক্ষ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৯৫২ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। গাছবিহীন একমুহূর্তও আমরা কল্পনা করতে পারি না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, ধর্ম, বিশ্বাস, রীতি, শাস্ত্র-পুরাণ, নীতিকথা, প্রথা, বাণিজ্য, দর্শন, মনস্তত্ত্ব, উৎসব, পার্বণ, শিল্প-সংস্কৃতি, আশ্রয়, প্রশান্তি যাপিত জীবনের সবকিছুই গাছকে ঘিরে, গাছ নিয়ে। এমনকি এ জনপদের রাজনৈতিক ঐতিহাসিকতার সঙ্গেও গাছ জড়িত আছে ওতপ্রোতভাবে। গাছ নিয়ে, গাছ ঘিরে রাজনৈতিক দরবার ও সংগ্রামেরও কমতি নেই। ব্রিটিশ জুলুমের বিরুদ্ধে সংগঠিত নীল বিদ্রোহ জড়িয়ে আছে নীলগাছের স্মৃতি নিয়ে। তেভাগা, না...

আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো! by রফিকুজজামান রুমান

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস হৃদয়ে হাহাকারের প্রতিধ্বনি তুলছে অবিরাম। মানুষ কতোটা সইতে পারে? চোখের কান্না পানি হয়ে ঝরে বলে দৃশ্যমান। কিন্তু হৃদয়ের কান্না? রক্তক্ষরণ? কোন্ শব্দ/বাক্য/প্রতিক্রিয়া দিয়ে মাপা যায় এর গভীরতা? সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সিরিয়ার তিন বছরের এক যুদ্ধাহত শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বললো- ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ শিশুটির রক্তমাখা ছবিটির দিকে তাকালেই বুঝে নেওয়া যায় সে আল্লাহর কাছে কী বলবে। সভ্যতার দ্বান্দ্বিক যুদ্ধ চলছে। এ দ্বন্দ্ব বিশ্বাসের, এ দ্বন্দ্ব আদর্শের। একটি আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করতে হয় আর একটি আদর্শ দিয়ে। জোরের যুক্তি দিয়ে নয়; যুক্তির জোর দিয়ে। ক্ষমতা, শক্তি, জোর দিয়ে আদর্শকে মোকাবেলা করতে গেলেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। সেই দ্বান্দ্বিক যুদ্ধে আদর্শবানরা কখনো কখনো পরাজিত হলেও তাদের বিশ্বাসের পরাজয় ঘটে না। বিশ্বাসী তো সে-ই, যে  প্রয়োজনে জীবন দিয়েও প্রমাণ করতে পারে ‘আমার বিশ্বাসের প্রতি আমি অবিচল’। সিরিয়ান এই শিশুটি সভ্যতা, যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব, আদর্শ- এগুলো হয়তো পরিষ্কার করে বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার ‘বিশ্বাস’ কত...

‘ভোটার লাগবে না ১০০ কর্মী সারা দিন ভোট দেবে’ by নুর ইসলাম

সাধারণ ভোটার লাগবে না। কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে দলীয় কর্মীদের সারি। দিনভর তারাই ভোট দেবেন পর্যায়ক্রমে। অন্তত ১০০ জন কর্মীর সারি রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলীয় সমাবেশে প্রকাশ্যে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি তার আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে এমন পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য প্রচারের পর যশোরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তার এ বক্তব্যের অডিও রেকর্ড করে বিক্রি করা হচ্ছে দোকানে দোকানে। বিষয়টি নজরে দেয়া হয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের। ওই নির্বাচনী সভায় যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের দরকার নেই। ভোটাররা ভোট দেখতে আসবেন। কোন সমস্যা নেই। আর আপনারা যারা আমার নৌকা মার্কার এজেন্ট বা কর্মী তারা সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে লাইন দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট দেবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১শ’ জন করে কর্মী সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন। একজন ভোটকেন্দ্রে যাবেন। পেছনে ৯৯ জন অপেক্ষা করবেন। এভাবে সারা দিনই ওই ১০০ জন কর্মীই ভোট শেষ করবে...

তবুও জাপার অবস্থান পরিষ্কার হলো না

সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বের পরও পরিষ্কার হলো না জাতীয় পার্টি পুরোদমে নির্বাচনে আছে কি না। যদিও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন; তাঁর পাশে ছিলেন না দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এমন অনেক নেতাই। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করেছেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান জি এম কাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আলাদাভাবে দলের সভাপতিমণ্ডলীর কে, কোথায় আছেন তার উত্তর তিনি দিতে পারবেন না। তবে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি শব্দ এরশাদের অনুমোদিত। ইশতেহারটি সভাপতিমণ্ডলীর সভায় অনুমোদন পেয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তাঁরা ঘোষণা করছেন। এটি বিশ্বাস করা না-করা সংবাদমাধ্যমের ওপর ...
নিজের ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলোচিত অভিনয়শিল্পী সাদিয়া জাহান প্রভা। আরটিভির ‘আমি আর মা’ অনুষ্ঠানে মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রভা বলেন, ‘সন্তান যে ভুলই করুক, মা সব সময় আগলে রাখেন। আমার মা-ও এর ব্যতিক্রম নন। আমার সব বিপদে মা পাশে থেকে উদ্ধার করেছেন। জুগিয়েছেন সাহস।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমিও জীবনে কিছু ভুল করেছি। যদি এ ভুলগুলো বাবা-মা ক্ষমা করে দেন, তাহলে ভাবব সবাই আমাকে ক্ষমা করেছেন। আর এ জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চাই।’ আরটিভির ‘আমি আর মা’ অনুষ্ঠানের এবারের পর্বে অতিথি হয়েছেন অভিনেত্রী প্রভা ও তাঁর মা রাবেয়া রহমান। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন সোহেল রানা বিদ্যুত্। তিনি বলেন, ‘সাধারণ দর্শকদের কাছে মিডিয়া জগতের মানুষেরা স্বপ্নের মতো। তাঁরা যখন টিভি বা সিনেমায় তাঁদের সেই প্রিয় মানুষটিকে দেখেন, তখন প্রিয় মানুষটির সম্পর্কে নানান তথ্য জানার ইচ্ছা পোষণ করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষদের তাঁদের সেই সব পছন্দের তারকার নানান অজানা তথ্য জানানোর চেষ্টা করি।’ তানিয়া আহমদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের এই পর্বে ...