Skip to main content

Posts

Showing posts from January 1, 2014

খোলা হাওয়া- এ রকম বছর যেন আর না আসে by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

২০১৩ সালটা যত তাড়াতাড়ি আমরা ভুলে যেতে পারব, ততই মঙ্গল। না, এ বছরের ভালো দিকগুলো ভুলে যাওয়ার কথা আমি বলছি না, বলছি বছরজুড়ে চলা নৃশংসতা, বীভৎসতা আর মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের কথা। রাজনৈতিক হানাহানিতে মানুষ মরেছে, পুলিশ মরেছে; মরেছেন রাজনৈতিক কর্মীরা, নিরীহ বাসযাত্রীরা, অটোরিকশার চালকেরা। গবাদিপশুও মরেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের তাণ্ডবে বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়েছে, বাস ও ট্রেন পুড়েছে, ট্রেনের লাইন উড়ে গেছে, প্রতিপক্ষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়েছে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাট, মন্দির-প্যাগোডা ধ্বংস হয়েছে, এক লাখের মতো গাছ কাটা পড়েছে। এক বছরের নিরবচ্ছিন্ন তাণ্ডবে ব্যবসা-বাণিজ্য রসাতলে গেছে, পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে, যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। কৃষকের ফসল মাঠে শুকিয়েছে, সবজি পচেছে খেতে। দুধ উৎপাদকেরা বিক্রি করতে না পেরে দুধ ফেলেছেন নালায়। কর্মহীন মানুষ কপাল চাপড়ে কেঁদেছেন। সবই হয়েছে এবং হচ্ছে যাকে কেন্দ্র করে, তার নাম ক্ষমতার লড়াই এবং আরও অবিশ্বাস্য যা, কিছু যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচানোর প্রাণপণ প্রয়াস। এবং এই প্রয়াসে যুক্ত হয়েছে হাজার হাজার তরুণ, যাঁদের কাছে দেশের স্বাধী...

সময়চিত্র- এরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি (!) by আসিফ নজরুল

২৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এসেছি। দেখি ব্যাডমিন্টন কোর্টের পাশে ম্লানমুখে বসে আছেন ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আলমগীর হোসেন। আমাকে দেখে তাঁদের ওপর কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া হামলার কথা বলেন। টি-শার্ট উঁচু করে পিঠের আঘাত দেখাতে চান—‘স্যার, একটু দেখবেন, কীভাবে মেরেছে আমাদের!’ ফিজিকসের অধ্যাপক আমিনুল তাঁর পাশে বসা। তিনি বলেন, ‘শাহবাগের ওসিকে বললাম, আমরা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, খালি হাতে এখানে বসে আছি। আর এরা লাঠি হাতে মারছে আমাদের, আপনি কিছু করবেন না? তিনি আমাদের বলেন, ওপরের নির্দেশ আছে, আমরা কিছু করতে পারব না, আপনারা চলে যান এখান থেকে!’ আমিনুল মৃদু কণ্ঠে বলেন, ‘মার আমরা আরও অনেকেই খেয়েছি, লজ্জায় বলি না কাউকে!’ আমিনুলের কথা ঠিক। পরদিন প্রথম আলোতে দেখি, মার খেয়েছেন অধ্যাপক মোস্তফা মামুনও। মামুন আমাদের ব্যাডমিন্টনে ১৯ বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন। খেলতে খেলতে আমরা কখনো সামান্য উত্তেজিত হই, একটু-আধটু মনোমালিন্যও হয় কখনো কখনো। মামুনের সঙ্গে কারও কখনো মনোমালিন্য হয় না, কখনো একটু গলা উঁচু করে কথাও বলেন না তিনি। পত্রিকায় দেখি, মার খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন ...