Skip to main content

Posts

Showing posts from December 29, 2013

সমঝোতার পথ খুঁজুন- কেন সরকারি অবরোধ?

বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ২৯ ডিসেম্বর হলেও সরকার আরও আগেভাগেই প্রস্তুত। দুই দিন আগে থেকেই সম্ভব-অসম্ভব সব উপায়ে ঢাকামুখী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে সরকার। সড়ক, নৌ ও রেলপথের কোনোটিই যাতে বিরোধী দলের সমর্থকেরা ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য চলছে ‘সরকারি অবরোধ’। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি, একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহারের পরিণাম—কোনো কিছুরই পরোয়া করছে না সরকার। ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ যে কার্যত বিচ্ছিন্ন, তার পেছনে সরকারের হাত রয়েছে। সরকারের এই ‘অবরোধ’ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতার রাজার আহাম্মকি। পায়ে ধুলা লাগবে বলে সমস্ত পথঘাট চামড়া দিয়ে মুড়ে দেওয়া যায় না। বরং নিজের পায়ে জুতা পরাই বুদ্ধিমানের কাজ। সরকার বিরোধী দলের কর্মসূচি ঠেকাতে সমগ্র রাজধানীসহ সারা দেশের যান চলাচল বন্ধ করে সেই ভুলই করছে। জন চলাচলে বাধা দিয়ে, গণহারে তল্লাশি-হয়রানি-গ্রেপ্তার করা কোনো আইনি কর্তৃপক্ষের আচরণ হতে পারে না। বিরোধী দল যতবার কর্মসূচি দেবে, ততবারই কি সরকার এই আচরণ করবে? সেটা কি কার্যত সম্ভব? এতে কি সরকারের জনবিচ্ছিন্নতাই ...

গণতন্ত্র ও জবাবদিহি- আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে by মিজানুর রহমান খান

আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে। ‘সরকারি অবরোধ’ও এবারই নতুন নয়, এবারই শেষ নয়। নতুন চটকদার স্লোগান ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ মানে মসনদের দিকে অভিযাত্রা। দুই দলের নেতা-কর্মীদের আজ যাদের মাঠে সক্রিয় দেখা যাবে, তারা নিশ্চয়ই সম্পদশালী অথবা তাদের খেদমতগার। কারণ, সম্পদশালীরাই অবরোধ করার সময় পায়। ঠেকানোরও সময় পায়। তাই এ ধরনের বালা-মুসিবত থেকে রেহাই চাইলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের হদিস পেতে হবে। এটা আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়। এটা রাজনৈতিক সমস্যা নয়। এটা তথাকথিত ভোটের অধিকার হরণের সংকটও নয়। এটা মূলত অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করা ও তা রক্ষা করার সমস্যা। সম্পদ বিবরণীর খবর আমাদের নির্বাচন কমিশন শুধু নয়, সুপ্রিম কোর্ট ও দুদকের দিকেও নতুন করে তাকানোর সুযোগ করে দিল। আসুন, প্রতিহত করা ও প্রতিরোধ করার ডামাডোলের মধ্যে আমরা বরং অবৈধ সম্পদ রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাগুলোর দিকে নজর দিই। কয়েক দিন ধরে পত্রিকায় মন্ত্রী, মন্ত্রীপত্নী ও শাসকদলীয় রুই-কাতলাদের সম্পদের পাহাড় গড়ার খবর এক-এগারো কালে সুপ্রিম কোর্ট ও দুদকের বিশেষ ভূমিকাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আজকের পরিস্থিতির দায়, বিশেষ করে সুপ্রিম...

দেখবো কতোদিন আটকে রাখতে পারেন - বেগম খালেদা জিয়া

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের খুন এবং তাকে বাধা দেয়ার পরিণত শুভ হবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেছেন, আপনার পিতাও ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল। তার পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও পরিণতি ভালো হবেনা। এসবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। শেখ হাসিনা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। নিজ বাসার সামনে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেখি কতদিন আটকিয়ে রাখতে পারেন। যতদিন এরকম করবেন ততদিন কর্মসূচি চলবে। শেখ হাসিনা রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। এই রক্তের গঙ্গার ওপর দিয়ে তিনি তার নৌকা দিয়ে ক্ষমতায় যাবেন। এই ক্ষমতা দুরাশা। সেটা ভুলে যেতে বলেন। ক্ষমতা। দেখবো কতোদিন আটকে রাখতে পারেন। কর্মসূচি চলবে যতোদিন এরকম করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুলে যাননি সেই দিনগুলোর কথা। আজকে সারা দেশকে কি অবস্থা করে রেখেছেন। সাহস থাকলে ছেড়ে দিতেন। দেখতেন যে কিভাবে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। মা-বোন, ভাই, কৃষক শ্রমিক মেহনতি জনতা রাস্তায় নামতো। আপনারা জাতীয় পতাকার অব...

অবরুদ্ধ নয়াপল্টন by কাফি কামাল

নয়াপল্টনের প্রবেশমুখ নাইটিঙ্গেল মোড়ে কাটাতারের বেড়া। কয়েক স্তরে সতর্ক প্রহরায় পুলিশ। সাধারণ মানুষের প্রবেশে মানা। ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে উল্টোপথে। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া নয়াপল্টন ভিআইপি সড়কটি ঢুকতে পারছেন না গণমাধ্যমকর্মীরা। একই দৃশ্য ফকিরাপুল মোড়েও। কাটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে নয়াপল্টনের প্রতিটির গলিমুখ। সেখানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। আশপাশের প্রতিটি বিল্ডিংয়ের ছাদে দূরবীন হাতে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। নয়াপল্টনে ঢোকার সব পথে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। কাউকে কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। ভিআইপি সড়কটির সকল প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ। জনশূন্য নয়াপল্টনে টহল দিচ্ছে পুলিশের ছোট ছোট টিম। ছুটোছুটি করছে এপিসি, জলকামান। সবখানে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের আনাগোনা। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটে আগের মতোই ঝুলছে তালা। সেখানে বসে আছে পুলিশ। মাঝে মধ্যে কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মচারীরা কলাপসিবল গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে উঁকি মারছেন। কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অলস সময় পার করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সবমিলিয়ে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কে কেন্দ...

ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসুন- অলি আহমদ

সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে অলি আহমদ বলেন, বিগত কয়েক মাস ধরে প্রত্যকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্ক  ও মৃত্যুপুরীতে বসবাস করছে। সোনার বাংলা আজ শ্মশানে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভয় প্রদর্শন করে মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধকতা যত বড় তা অতিক্রম করার গৌরবও তত বড়। দেশকে রক্ষা করুন। বর্তমান প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারকে বা অন্য কাউকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পন্থা হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা। এই মুহূর্তে প্রয়োজন দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে নিজের পদ-পদবির কথা চিন্তা না করে এগিয়ে আসা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অলি আহমদ বলেন, এই মুহূর্তে দল এবং নিজের কথা চিন্তা না করে, দেশের অবস্থা অনুধাবন করুন। বহু রাজনৈতিক নেতা চূড়ান্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের ...

ক্ষমতা- আমাদের আম-আদমিরা কোথায়? by ওয়াসি আহমেদ

বিস্ময়কর হলেও মানতে হবে, পৃথিবী থেকে আম আদমি লুপ্ত হয়নি। এই সেদিন ভারতের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (এপিপি) অভাবিত সাফল্যের সুবাদে তাদের খোঁজ পাওয়া গেল। রাজনীতির গৎবাঁধা ছক উল্টে দিয়ে তারা তাদের শক্তিমত্তাকেই জানান দিল না, বড় কাজটি যা করল তা এক কথায় প্রকাশ করলে বলতে হয় প্রত্যাখ্যান। মতলববাজ, দুর্নীতিকবলিত, প্রচলিত রাজনীতিকে সরোষ প্রত্যাখ্যান। যে যেভাবেই দেখার চেষ্টা করুন, ঘটনাটা তথাকথিত নেতিবাচক ভোটের কারসাজি নয়। সাম্প্রতিক তৃতীয় বিশ্বে গণতন্ত্রচর্চা বলতে যা বোঝায় তা চার বা পাঁচ বছরের বিরতিতে নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার ভোট প্রয়োগের মধ্য দিয়ে শাসকবদল। সামগ্রিক বিচারে প্রত্যাশার চেয়ে এখানে ক্ষোভ-হতাশাই বেশি ক্রিয়াশীল। কিন্তু দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক আম-আদমি এপিপির পক্ষে রায় দিয়ে যা করল তাতে অনেকেই প্রত্যাশা দেখতে পাচ্ছেন। হ্যাঁ, ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে শাসককুলকে প্রত্যাখ্যানে, তবে ভুঁইফোড় এপিপির পক্ষাবলম্বনের মধ্য দিয়ে প্রত্যাখ্যানের শক্তিতে তারা আশার আলোর খোঁজই করেছে। সে আশা কতটা ফলবান হবে বা আদৌ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে অন্য বিতর্ক। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এপিপি...