Skip to main content

Posts

Showing posts from February 7, 2014

খোলা চোখে- বিচারপতি, এবার হবে তোমার বিচার by হাসান ফেরদৌস

আইনের হাত অনেক দীর্ঘ। সেই দীর্ঘ হাত এখন ক্রমেই খালেদা জিয়াকে আঁকড়ে ধরছে। খালেদার আমলে অনেক অঘটনই ঘটেছে, তবে যে দুটি ঘটনা আর সব ঘটনাকে ছাপিয়ে যায় তা হলো ২০০৪ সালের এপ্রিলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং সে বছরের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত গ্রেনেড হামলা। শেষের ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত, কিন্তু প্রথমটির অবগুণ্ঠন খুলে গেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া শেষে রায় হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ জনের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। তাঁরা খালেদা জিয়ার আমলে মন্ত্রিসভার সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের হর্তাকর্তা ছিলেন। সেই সরকারের যিনি প্রধান, যাঁর নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটেছিল, সেই খালেদা জিয়া এখনো অভিযুক্ত হননি। তদন্ত ও বিচারের রায়ে দুটি জিনিস স্পষ্ট। এক. ১০ ট্রাক অস্ত্র অবৈধভাবে পাচারের ঘটনাটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমী নিজে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, যিনি এই মামলার অন্যতম অপরাধী, তাঁর সাক্ষ্য থেকেও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ত্র ধরা পড়ার ঘটনাটি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। দুই. খালেদা জিয়া ...

সপ্তাহের হালচাল- বিএনপি কি তাহলে হেরে যেত? by আব্দুল কাইয়ুম

বিএনপি হারত না, কিন্তু এখন হেরে গেছে!!! সর্বশেষ এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, সব দল অংশগ্রহণ করলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি অন্তত সাড়ে ৫ শতাংশ ভোট কম পেত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) এই জরিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কম। তাহলে প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে একাধিক জরিপে দেখা গেছে, ভোটে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে, সেটা কি ভুল ছিল? না, তা নয়। ওই জরিপের ফলাফলও যথার্থই ছিল। ওই সময় যদি বিএনপি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলত, ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন করব, তাহলে বিএনপির বিজয় ছিল অবধারিত। এটা মনগড়া কথা নয়। গত ২৪ জানুয়ারি রাতের ট্রেনে রাজশাহী যাচ্ছিলাম। সেখানে পরদিন গণিত উৎসব হবে। আমাদের কক্ষের বাকি দুজনের সঙ্গে আড্ডা জুড়ে দিলাম। তাঁরা রাজশাহীর অধিবাসী। বললেন, নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি মারাত্মক ভুল করেছে। তাদের বিজয় ছিল অবশ্যম্ভাবী। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আওয়ামী লীগের সাংসদেরা বহাল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়, এ অবস্থায় কি বিএনপিকে জিততে দেওয়া হতো? তাঁরা কথাটা উড়িয়ে দিলেন। বললেন, কারচুপির কোনো সুযোগই ছিল ...

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রলীগের দামি পিস্তল ও কিছু সস্তা জীবন by ফারুক ওয়াসিফ

বিশ্বজিতের খুনিরা হাড়কেপ্পন ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের মতো দামি পিস্তল দিয়ে বিশ্বজিৎকে মারতে পারত তারা। তা না করে চাপাতি দিয়ে কোপাতে কত কষ্টই না করতে হয়েছিল ছেলেগুলোকে। চাপাতি সস্তা ও দেশি, পিস্তল দামি ও বিদেশি। রাবির ছাত্রলীগ নেতা ইমন ও নাসিমরা অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে প্রমোশন পেয়েছেন বলে তাঁদের অভিনন্দন। তাতে এঁদের দামও গেছে অনেক বেড়ে। দামটা বুঝবেন যদি তাঁর পিস্তলের দামটা জানেন। এক বৈধ অস্ত্র বিক্রেতা ও বৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীর মারফত জানতে পারলাম, যে পিস্তল দিয়ে ইমন গুলি করছিলেন, তার ব্র্যান্ডের নাম বেরেটা টমক্যাট। দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ছোট কিউট স্মার্ট একটা অস্ত্র। এটা দিয়ে বেশি দূরে গুলি করা যায় না। তবে এর ক্যারিশমা অন্য জায়গায়। সুকুমার রায় বেঁচে থাকলে এটা দেখে বলতেন, ‘এতটুকু যন্ত্র হতে এত শব্দ হয়!’। অস্ত্রটা বাংলাদেশে এসেছে নাকি মাত্র তিন মাস হলো। অবশ্য অবৈধভাবে এর আগেও আসতে পারে। স্মার্ট পিস্তল হাতে ইমনকে ড্যাশিং দেখালেও কাজের বেলায় তিনি ঠনঠনা। গুলিবাজির ভিডিও দেখলে যে কেউ-ই বুঝবেন, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ ঠিকমতো হয়নি। হাত কাঁপে, বুলেটভরা ম্যাগাজ...

জাতীয় সংসদ- অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা by আলী ইমাম মজুমদার

দশম সংসদের উদ্বোধনী দিনে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সরকারের প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন তাঁর সূচনা বক্তব্যে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি তুলে সমর্থন জানায় সরকারি দল-প্রস্তাবিত প্রার্থীদের। তাঁরা নির্বাচিত হলে টেবিল চাপড়ে উল্লাসও করেন সরকারি দলের সঙ্গে। বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, কোনো দল না এলে তাদের জন্য নির্বাচন থেমে থাকতে পারে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য নির্বাচন প্রয়োজন ছিল। এটা সম্পন্ন করতে পারার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। সরকারে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আছেন তাঁর দল থেকে। আছেন মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তাঁরা আসন নিয়েছেন ট্রেজারি বেঞ্চে নয়, বিরোধী দলের সারিতে। বিরোধী দলের নেতা এটাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মতোই ‘নিউ কনসেপ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। আরও বলেছেন, এভাবেই তিনি সরকারকে সহযোগিতা আর আবশ্যক হলে সমালোচনা— উভয়টাই করতে সক্ষম হবেন। সেটা কীভাবে কতটা পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। কৌতূহলী অনেকেই। এটা অনেকটাই অচেনা আর ব্যতিক্রমী এক সংসদ। প্রথমত বলতে...

রাষ্ট্র ও রাজনীতি- সংকট উত্তরণে একটি গুচ্ছ প্রস্তাব by নূহ-উল-আলম লেনিন

গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১২ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জরিপে আওয়ামী লীগ সর্বাধিক জনপ্রিয় দল (৪২ শতাংশ সমর্থক) হিসেবে স্বীকৃত হলেও প্রধান বিরোধী দলসহ সব দল অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে অনেকে মনে করেন। তা সত্ত্বেও এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন বানচালের অসাধু প্রচেষ্টা এবং তৃতীয় পক্ষকে ডেকে এনে অসাংবিধানিক ধারা প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। আপাতত দেশবাসী হানাহানি, সন্ত্রাস, রক্তপাত ও সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার হাত থেকে কিছুটা নিষ্কৃতি পেয়েছে। অর্থনীতি ও জনজীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। আন্দোলনের নামে গত কয়েক মাস যে নারকীয় তাণ্ডব, নাশকতা ও গণহত্যা হয়েছে, দেশবাসী তার পুনরাবৃত্তি রোধে বদ্ধপরিকর। বিরোধী জোট যদি এর থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে থাকে, তাহলে তা তাদের জন্য যেমন, তেমনি দেশের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনবে। দশম জাতীয় সংসদ একটা বাস্তবতা। আইন ও সংবিধানের দৃষ্টিতে এই সংসদ যেমন বৈধ, তেমনি এই সরকারও বৈধ। অতএব, এই সংসদকে এবং সরক...

অরণ্যে রোদন- বইমেলার আকাশে অনেক তারা by আনিসুল হক

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আকাশে একটা বাঁকা চাঁদ। আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। আজ ষষ্ঠী। কমলার কোয়ার মতো আকার নিয়েছে চাঁদটা। বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের খিলানগুলোর পাশে বটগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে এই চাঁদ প্রতি ফেব্রুয়ারিতেই উঁকি দেয়। বড় হয়, ছোট হয়। একাডেমি চত্বরে বড় আমগাছটার মুকুল ঝরে পড়ে থাকে মাটিতে, গন্ধে ম-ম করে। এ ফেব্রুয়ারিতে একাডেমির মূল চত্বরে মাত্র একবার গিয়েছি, একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে। অন্য সন্ধ্যাগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরেই ঢুঁ মারি। উদ্যানের ভেতরেই তো আমার প্রিয় প্রকাশনা সংস্থাগুলো—প্রথমা, সময়, অনন্যা, কাকলি, অন্যপ্রকাশ, ইউপিএল, সাহিত্যপ্রকাশ, অনুপম, মাওলা ব্রাদার্স, জ্ঞানকোষ, পার্ল, তাম্রলিপি, জাগৃতি, শ্রাবণ, সন্দেশ, পাঠকসমাবেশ ইত্যাদি। কত প্রকাশক, কজনের নাম বলব! আমার চোখের সামনেই মেলা বড় হলো। সেই যে আশির দশকের শুরুতে বুয়েটে পড়ব বলে ঢাকায় এসেছিলাম। বন্ধুদের নিয়ে যেতাম বাংলা একাডেমির বইমেলায়। পুকুরের পাড়ে একটা স্টলে লেখা: এখানে নির্মলেন্দু গুণকে পাওয়া যায়। তখনই আরেক রসিক কবির ফোঁড়ন, নির্মলেন্দু গুণের ডজন কত? মনে হচ্ছে সেদিনের ঘটনা। আমার প্রথম কবিতার বই খোলা চিঠি ...

দিল্লির চিঠি- ভারতের দৃষ্টিতে সরকারের এক মাস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে যে তুলকালাম হয়ে গেল, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সম্ভবত তা নজিরবিহীন। প্রায় একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে বিরোধীদের যাবতীয় কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর দেশের বিরোধী রাজনীতি এ মুহূর্তে একটু থমকে গেছে। গত কয়েক মাসের তুমুল আন্দোলন ও আন্দোলনের নামে জোটবদ্ধ সহিংসতা শেষে এ মুহূর্তের বাংলাদেশ আপাতত হাঁপাতে হাঁপাতে জিরিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনের পর একটা মাস দেখতে দেখতে কেটে গেল। এই এক মাসে নির্বাচন নিয়ে দেশ ও বিদেশে কম হইচই হলো না। ভোট সাঙ্গ হওয়ার পরপরই ভারতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করল। ভারত এ নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক ও বৈধ’ বলার পাশাপাশি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়, হিংসা কখনো নির্ণায়ক হতে পারে না। সব রাজনৈতিক দল বা অধিকাংশের যোগদানের মধ্য দিয়ে দ্রুত আরেকটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে দাবি পশ্চিমা দুনিয়া থেকে উঠেছে, ভারত তেমন কোনো অভিপ্রায় প্রকাশ করেনি। শুধু বলেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে তার মতো করে চলতে দেওয়া দরকার এবং বাংলাদেশের জনগণই সে দেশের নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে ভারতের মতোই তাঁর সরকারের পাশে সমর্থন উজাড় করে...

হাম-রুবেলার গণতন্ত্র by মাকসুদুল আলম

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বেঁচে থাকলে হয়তো নতুন করে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা লিখতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রথম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলাদেশ সফরে এসে গণতন্ত্রের তালিম নিতেন। তাদের প্রবর্তিত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বাংলাদেশে অচল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীদের ধারণাপ্রসূত গণতন্ত্রের চর্চা আমাদের দেশে নেই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম না। চাইলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা নেই। পাঠ্যপুস্তকে জেনেছি গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দেখেছি গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের বা কোন সংগঠনের ধনী-গরিব প্রত্যেক নাগরিকেরই নীতিনির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। গণতন্ত্রে খেলার মাঠ সবার জন্য সমান। পাকা-কাঁচা সবাই সমান খেলোয়াড়। এ শাসনব্যবস্থায় সবার অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। আমাদের নাগরিকদের বেলায় সেই অধিকার বা সুযোগ কোনটাই নেই। আমাদের দেশে যে গণতন্ত্রের চর্চা হয় তাতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের ভূমিকা নেই। অটো-এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ...

উদ্বেগের মধ্যে ত্বকী মঞ্চের প্রতীকী অনশন পালিত by রাজীব নূর ও আসিফ হোসেন

উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছিল। তবু শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে হয়ে গেল সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের প্রতীকী অনশন। নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১১ মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার শহরের চাষাঢ়ায় প্রধান শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মসূচি পণ্ড করতে সেখানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। দুই পক্ষই শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দেওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে নাগরিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রফিউর রাব্বির ছেলে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী গত বছরের ৬ মার্চ নিখোঁজ হয়। ৮ মার্চ শহরের চারারগোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীসংলগ্ন কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ত্বকীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রফিউর রাব্বি ও ত্বকী মঞ্চের নেতারা খুনের জন্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্য ও তাঁদের সহযোগীদের দায়ী করে আসছেন। খুনিদের গ...

‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ আসামি বিরোধী দলের নেতা। এ ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিয়ে লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ ‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিজ দেশের বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করতে যা করা প্রয়োজন, সবই করছে সরকার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে অসুস্থ করার জন্য এ পদক্ষেপগুলোই যথেষ্ট। প্রতিবেদনটির শুরুতে বলা হয়েছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র পৌঁছানোর ১০ বছর পর অভিযুক্তরা শাস্তি পেলেন। বছরের পর বছর পার অতিক্রান্ত হলেও এ ইস্যুতে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা একরকম থমকে ছিল। অস্ত্র চালানের সঙ্গে জড়িতদের তখন চিহ্নিত করা হয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখাননি। ২০০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়। এ বছরের ৩০শে জানুয়ারি অস্ত্র-পাচারের অভিযুক্ত ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, যার অধিকাংশই ছিলেন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা। এ অভিযোগে জড়ানো হয়েছে তারেক রহমানের নামও...