Skip to main content

Posts

Showing posts from January 31, 2014

গদ্যকার্টুন- গম্ভীর ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য নয় by আনিসুল হক

কিছু কিছু মানুষ আছেন, সব সময় সিরিয়াস। তাঁরা হাস্যরস নিতে পারেন না। হাস্যকৌতুককে তাঁরা অগ্রহণীয় বলে মনে করেন। এ ধরনের এক মানুষের কথা পড়েছিলাম একটা রুশ কৌতুক ম্যাগাজিনে। অফিসের বস তিনি। তাঁর অফিসের একজন কর্মচারী বলল, ‘এই, আমি একটা কৌতুক বলব।’ সবাই বলল, ‘বলো বলো।’ কর্মচারীটি কৌতুক বলতে শুরু করল: ‘এক লোক একটা পার্টিতে ঢুকেছে। তার দু পায়ে বেড়ি করে ব্যান্ডেজ বাঁধা। সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না। সবাই বলল, তোমার পায়ে কী হয়েছে? লোকটা বলল, আমার পায়ে নয়, মাথায় হয়েছিল। আমার মাথা ফেটে গিয়েছিল। মাথা ফেটে গেছে? তাহলে তুমি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধেছ কেন? আরে, আমি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধেছি নাকি? ডাক্তারের কাছে গেছি। ডাক্তার আমার মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়েছেন। এত ঢিলা করে ব্যান্ডেজটা বেঁধে দিয়েছেন যে গড়াতে গড়াতে পায়ে এসে পড়েছে।’ এই কৌতুক শুনে অফিসের সবাই হেসে উঠল। শুধু বস হাসতে পারলেন না। তাঁর মনে হতে লাগল, এটা কি সম্ভব? মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা হলে সেটা কি পা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে? রাতের বেলায় তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি তাঁর বউকে ঘুম থেকে জাগালেন। বললেন, ‘আচ্ছা বলো তো, একটা লোকের মাথা ফেটে গেছে বলে ডাক্তার ত...

ক্রিকেট ও ভারত- অতি লোভে তাঁতি নষ্ট হবে না তো! by এ কে এম জাকারিয়া

‘ক্রিকেট একটি ভারতীয় খেলা, যা ঘটনাচক্রে আবিষ্কৃত হয়েছে ইংল্যান্ডে। এটা অনেকটা মরিচের মতো, যা আবিষ্কৃত হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়, সেখান থেকে ভারতে এসেছিল মধ্যযুগে। এখন ভারতীয় খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ এই মরিচ। ভারতে ক্রিকেটকে বিদেশি খেলা হিসেবে দেখতে পান শুধু ইতিহাসবিদ আর ভারতবিদ্যার বিশেষজ্ঞরা। অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছে ক্রিকেট এখন ইংলিশদের চেয়েও বেশি ভারতীয়।’ ভারতীয় রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ববিদ ও সমাজতাত্ত্বিক আশিষ নন্দী এই মন্তব্য করেছিলেন তাঁর দ্য তাও অব ক্রিকেট বইয়ে। ভারতে এখন ক্রিকেট যে পরিমাণ জনপ্রিয় আর সেখানে এই খেলার ‘বাজার’ এতই বড় যে এমন দাবি এখন ভারতীয়রা করতেই পারে। কিন্তু ‘অধিকাংশ ভারতীয়’ কি এখন ক্রিকেটকে ইংলিশদের চেয়ে বেশি ভারতীয় ভেবেই খুশি থাকতে রাজি নয়? খেলাটির ওপর খবরদারি ও কর্তৃত্বের নেশাও কি এখন তাদের মনোজগতে চেপে বসেছে? বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসনের মাথা থেকে বের হওয়া ন্যক্কারজনক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে কি এরই প্রতিফলন ঘটল? ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) আর ইংল্যান্ড ও ওয়ালস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে মিলে বিসিসিআই বিশ্ব ক্র...

দশম জাতীয় সংসদ- কেন বিরোধী দল জরুরি? by আলী রীয়াজ

দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আজ ২৯ জানুয়ারি। দিনটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সংসদীয় ইতিহাসের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে আমাদের বিবেচনা করা দরকার। সেটা কেবল এই কারণে নয় যে এই সংসদে আসন নেবেন এমন সাংসদের অর্ধেকেই প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। কেবল এই কারণেও নয় যে এই নির্বাচন বিতর্কিত। এই কারণে যে এই সংসদে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। গতকালের আলোচনায় আমরা দেখেছি, কেউ কেউ এই যুক্তিতে একে সমর্থন করছেন যে গত সংসদের বিরোধী দল বিএনপি তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো রকম ভিন্নমত না পোষণ করেও বলা যায়, ১৯৯১ সালে থেকেই সংসদে বিরোধী দল তার ভূমিকা পালনে সফল হয়নি। তার পরেও আমরা কেন সংসদে বিরোধী দল থাকার ওপর জোর দিতে চাই? সংসদীয় ব্যবস্থার উদ্ভবের ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁদের এ কথা অজানা নয় যে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে সাংসদেরা যদি তাঁদের ব্যক্তিগত, স্থানীয় কিংবা বিশেষ ধরনের ক্ষোভের বাইরে কিছু বক্তব্য দিতেন, তবে তাঁর পরিণতি হতো ভয়াবহ। রাজার বিরোধিতা, উত্তরাধিকারের অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি বা ধর্মের মতো জাতীয় বিষয় নিয়ে বিতর্ক করল...

দশম জাতীয় সংসদ- বিরোধী দলবিহীন সংসদ by আলী রীয়াজ

বাংলাদেশে যে অভূতপূর্ব সংসদীয় ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে এবং ২৯ জানুয়ারি যার অভিষেক হতে চলেছে, তাতে বিরোধী দলের কোনো অস্তিত্ব নেই। জেনারেল এরশাদ বা রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে গেজেট প্রকাশ করে বিরোধী দলের আসনে অভিষিক্ত করার পরেও একে সরকারি-বিরোধী দল বা বিরোধী-সরকারি দল বলেই আমরা জানব। কবি হলে জাতীয় পার্টির অবস্থানকে আমরা ‘ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি’ বলে বর্ণনা করতে পারতাম। সংসদীয় ব্যবস্থার ইতিহাসে বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কোনো ইতিহাস না থাকলেও আমরা এখন এক নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তার আবির্ভাব দেখতে পাচ্ছি। তার পরিণতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কতটুকু জ্ঞাত এবং চিন্তিত? ১৯৯০ সালের স্বৈরশাসনের অবসানের পর ১৯৯১ সালে গঠিত পঞ্চম সংসদে সব দলের সম্মতিতে সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং একটি গণভোটের মধ্যে যাতে নাগরিকদের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল, তার মর্মবাণীই কি এখন ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে? এই বিষয়টি আরও বেশি করে বিবেচনার দাবি করে এই কারণে যে আজকে বিকাশমান এই অবস্থায় তৎকালীন স্বৈরশাসকের ছায়া নয়, তাঁর এবং তাঁর দলের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি দে...

সরল গরল- ‘তথাকথিত বিরোধী দল’ ও বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি by মিজানুর রহমান খান

একজন আর্জেন্টাইন বিচারকের কথা মেনে আজকের সংসদ অধিবেশন সামনে রেখে এই লেখা। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটলে বিচারক কী করবেন? দুটো বিকল্প—ইস্তফা দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন, না-হয় স্বপদে বহাল থেকে আইনের শাসনের ঝান্ডা যদ্দুর সম্ভব আগলানোর চেষ্টা চালাবেন। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে আমার কাছে দ্বিতীয় বিকল্পই ভরসা। বিরোধী দল ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র চলতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে চলে। এবং তা এবারই প্রথম নয়। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন না। সেই প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অবৈধ উপায়ে মন্ত্রিত্ব লাভ ঠেকাতেই বঙ্গবন্ধু ৭০ অনুচ্ছেদ এনেছিলেন। এবারে তার শ্রাদ্ধ ঘটল। সরকারের ‘বিরোধিতাকারী’ দল মন্ত্রিত্ব করে গাছেরটা খাবে। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিরোধী দলে থেকে তলারটাও কুড়াবে। সত্যি, এর কোনো তুলনা নেই। অভাবনীয়, অভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব। এবারে আইনের একটা ফাঁক বলব। রওশন এরশাদের ‘সরকার বিরোধিতা’ ও তাঁর দলের মন্ত্রীদের যৌথ জবাবদিহির আইনগত বৈধতা স্বতন্ত্র সদস্যদের গ্রুপটি তুলতে পারবে। যদি কখনো পরিবেশ আসে, তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। এই গ্রুপটিতে সুযোগসন্ধানী আছেন। আবার কিছু ভূ...

যুক্তরাষ্ট্র- ‘বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে উদ্বেগ by রাহীদ এজাজ

টুইন টাওয়ারে হামলার (৯/১১) পর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে। জোরদার হয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও। আর ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর ৯/১১-এর মতো তাণ্ডব চালানোর সামর্থ্য এখন আর আল-কায়েদার নেই বলেই ধারণা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। এর পরও স্বস্তিতে নেই যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, দেশটির অভ্যন্তরের বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গজিয়ে উঠেছে। গত এক দশকে দেশের নানা প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে বেড়ে ওঠা এসব গোষ্ঠীকেই নিয়েই এখন উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের। সন্ত্রাস আর জঙ্গি তৎপরতা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরদারি বেড়েছে। নিউইয়র্কে এ নজরদারিটা অভিবাসী এশীয় ও মুসলিমদের ওপর বেশি এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নজরদারি নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ছবিটা নিউইয়র্কের ঠিক উল্টো। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) উপপ্রধান মাইকেল ডাউনিং জানান, অভিবাসী লোকজনের ওপর নজরদারি নয়, তাদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সফল হতে হবে। এরই অংশ হিসেবে এলএপিডির কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশ ...

সময়চিত্র- অদ্ভুত সংসদ, অনিশ্চিত যাত্রা by আসিফ নজরুল

দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে ২৯ জানুয়ারি। এমনিতে সংসদের উদ্বোধনী দিনটিকে ঘিরে থাকে নানা আগ্রহ আর উদ্দীপনা। এ দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণ নিয়ে বিরোধী দল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পত্রিকায় তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিশদ আলোচনা হয়। প্রথম দিনেই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাধারণত। ওয়াকআউটের আগে গরম কিছু বাক্যবিনিময় হয় সংসদে। টিভির সামনে এসব দেখে আমরা নানা আলোচনায় জড়িয়ে পড়ি। সংসদের কার্যকারিতার জন্য আসলে কী কী করা দরকার, তা নিয়ে আশাবাদ আর হায়-হুতাশ চলে। সংসদীয় কমিটিগুলো কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও চলে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। এবার তার অনেক কিছু নেই। এই সংসদে প্রকৃত বিরোধী দল নেই, এতে এমনকি প্রকৃত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলার বহু কারণ রয়েছে। সংসদ আইন তৈরি, সংশোধন আর সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে সংসদ। একমাত্র এর প্রতিনিধিরা হন জনগণ কর্তৃক সরাসরিভাবে নির্বাচিত। সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক এই বৈশিষ্ট্যই এবার সংসদে অনেকাংশে অনুপস্থিত। এই সংসদে এমন বহু প্রতিনিধি রয়েছেন, যা...

যে কারণে বিরোধী দলকে হতাশ করলো ইইউ by মীর রাশেদুল হাসান

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন উত্তেজনা একটি প্রচলিত রীতি। কিন্তু গত বছরজুড়ে যে সহিংসতা এবং ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশকে আত্মপরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় দেশ ও সংগঠন স্বীকৃতি দেয়নি বাংলাদেশের নির্বাচনকে। বিরোধী দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনমত একেবারে পরিষ্কার। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কাছে তা কোন দাগ কাটেনি। শাসকগোষ্ঠীর ভয়াবহ দুর্নীতি, নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নীরব জনগোষ্ঠীর মাঝে সৃষ্টি করেছে অসন্তোষ। ভারতের একনিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ স্পর্শকাতর ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্ম ও সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে দেশে মেরুকরণ করেছে। এ মেরুকরণ কার্যত উল্টো ফল দিয়েছে। এতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব স্থানেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। এটা অবশ্যই বলা যায় যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে ছিল। তারা যে দমন ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা সংশোধন...

তৃতীয় মত: অলঙ্কারিক সংসদ by মাহফুজ আনাম

সংসদ জনগণের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। জাতিকে দিক-নির্দেশনা দেয়ার জন্য জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী গঠন করা হয় সংসদ। যারা তাদের নির্বাচিত করেন সে জনগণের স্বার্থে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যেখানে গণতন্ত্র পূর্ণমাত্রায় কাজ করে সেখানে ধারণা, আদর্শ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সংসদ এমন একটি জায়গা যেখানে গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জাতীয় পরিকল্পনা গৃহীত হয়। যেখানে ব্যক্তির ক্ষমতা পরাভূত হয় সমষ্টিগত ইচ্ছার কাছে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের ভাগ্য এত ভালো নয়। আমাদের প্রারম্ভিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে। এরপর ১৬ বছর চলে যায় সামরিক সরকার এবং সেনা নেতৃত্বাধীন সরকারের মাধ্যমে। যখন জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য সতিক্যর অর্থে সংসদের কোন অস্তিত্বই ছিল না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর একটি কার্যকর এবং স্পন্দনশীল সংসদই ছিল আমাদের সর্বোচ্চ চাওয়া। কিন্তু আমাদের সে চাওয়া পূরণ হয়নি। এরশাদের পতনের পর প্রথম নির্বাচনে পরাজয় আওয়ামী লীগ ...

ফিলিপাইনে বিদ্রোহের অবসান হচ্ছে? by নওয়াজ ফারহিন

অবশেষে ফিলিপাইনের সরকার ও দেশটির সবচেয়ে বড় মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে (এমআইএলএফ) একটি শান্তিচুক্তি হতে যাচ্ছে। গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। অনেকে আশা করছেন, এর মধ্য দিয়ে অবসান হতে যাচ্ছে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতার। এমআইএলএফ ছাড়াও বেশ কয়েকটি মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় ম্যানিলার শাসনের বিরুদ্ধে এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই চালিয়ে আসছে। গত কয়েক দশকের লড়াইয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছে ২০ লাখ মানুষ এবং চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল। পাশাপাশি এই সহিংসতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে ইসলামি চরমপন্থা। এই সমঝোতাকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো নয়নয় অ্যাকুইনোর বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১২ সালের অক্টোবর মাস থেকে ফিলিপাইন সরকার ও এমআইএলএফের মধ্যে এই শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। চুক্তিতে কী কী থাকবে, সে ব্যাপারে তারা এত দিন আলোচনা করেছে। গত শনিবার ...

মিসর ও তিউনিসিয়া- এক যাত্রা পৃথক ফল by রোকেয়া রহমান

মিসর ও তিউনিসিয়া—আরব বিশ্বের দুটি দেশ। তাদের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি করেছে লিবিয়া। এই দূরত্ব সত্ত্বেও দেশ দুটির মধ্যে কত-না মিল ছিল। দেশ দুটি দীর্ঘদিন স্বৈরশাসকদের শাসনে ছিল। ধর্মীয় কট্টরপন্থা যাতে সে দেশের শাসনব্যবস্থায় গেড়ে না বসতে পারে, এ জন্য মিসর ও তিউনিসিয়ার শাসকেরা ছিলেন নির্দয়। কিন্তু তলে তলে দেশ দুটিতে কট্টর ইসলামপন্থীদের সক্রিয় হয়ে ওঠা ও ক্ষমতা দখল—দুটোই কঠিন বাস্তব। কিন্তু এই বাস্তবতা মোকাবিলায় দেশ দুটি আবার ভিন্ন পথে হেঁটেছে। একজন বেছে নিয়েছে আলোচনার পথ, অন্যজন বলপ্রয়োগের। অথচ ‘কথিত’ আরব বসন্তের সূত্রপাত করেছিল এই মিসর ও তিউনিসিয়া। এখন দুই বিপরীতমুখী ধারার সম্মিলন গোটা আরব বিশ্বকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলা যায়। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে তিউনিসিয়া সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল। নামে গণতন্ত্র হলেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচার ও অনাচার দেশটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। শেষমেশ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে এক গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বেন আলী। এরপর অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের ...

চারুশিল্প- বাহারামের রূপবিদ্যা by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

প্রতিষ্ঠান সনদ দেয়, বাহারামের সেটি নেই। তুলি ডুবিয়ে তবুও ক্যানভাসে রং মেশান তিনি। রিকশা, ট্যাক্সি, ট্রাক, লরি—এসব যানবাহনের গায়ে আঁকেন হরেক ছবি। দুটো পয়সা জোটে। বেশ মজার এ রিকশা পেইন্টিংয়ের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন ১১ বছর বয়সে। ‘এ মানুষটিকে একজন দর্শক হিসেবে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখতাম আমি। মাঝেমধ্যে এসে ছবি সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করতেন। বিরক্ত লাগত। কিন্তু একদিন নিজের আঁকা দুটি ছবি নিয়ে এলেন আমার কাছে। সেদিনই বুঝলাম, তিনি নিছক একজন রিকশা-পেইন্টার নন, জাত শিল্পী।’ বাহারামের সম্পর্কে শিল্পী নিসার হোসেন কথা এমনই। তাঁর জন্ম ১৯৫০-এ, ঢাকায়। আদিনাম সৈয়দ কোমার হোসেন সিরাজী। ১৫ বছর বয়সে পাকাপাকিভাবে রিকশা পেইন্টিং শুরু করেন বাহারাম। কল্পনাশক্তির প্রখরতায় প্রতিনিয়ত রিকশায় আঁকার অভ্যাসকে পরিণত করেন নতুন নতুন বিষয়ে। সিনেমার ব্যানার আঁকায় হাতেখড়ি শিল্পী আবদুল হাইয়ের কাছে। তখন পুরোনো ঢাকার আগামসি লেনে কাজ করতে যেতেন তিনি। ১৯৬০ সালের দিকে বাহারাম নায়ক-নায়িকাদের প্রতিকৃতি চিত্রের মাধ্যমে সিনেমার ব্যানার আঁকায় দক্ষতা দেখান। সেই থেকে শুরু ব্যানারের কাজ। সেই সময়কার অনেক চিত্রতারকার মধ্যে ওয়াহিদ ...