Skip to main content

Posts

Showing posts from February 12, 2014

সুস্থ বিবেকের বিদ্রোহ by উইলিয়াম বি মাইলাম

মন্দের জয়ের জন্য শুধু যা প্রয়োজন তা হলো ভাল মানুষের নীরব ভূমিকা। কথাটি এডমান্ড বার্কের মুখনিঃসৃত বলে বহুল প্রচলিত হলেও তিনি আদৌ এমন কিছু বলেছেন তেমন সম্ভাবনা কম। তবে চরম সত্য হলো, এ শব্দগুলো গত ৩২৫ বছরের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানকে ঘিরে রেখেছে। এ সময়ের মধ্যে, কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনের আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে উত্থান হয়েছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থার। মানব ইতিহাসের বেশির ভাগ সময়ই প্রচলিত ছিল কর্তৃত্ববাদী শাসন। ১৬৮৮ সালে ইংল্যান্ডের প্রসিদ্ধ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ রাজনৈতিক রূপান্তরের সূত্রপাত হয়েছে বলে ঐতিহাসিকরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। রাজা ও দেশের কর্তৃত্বের ওপর ওই বছর সংসদীয় সীমারেখা দেয়ার অবধারিত কারণ ছিল ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। সমাজের অভিজাতরাই ছিলেন তার রূপকার। কিন্তু বৃহৎ কিছুর সূত্রপাত হয় ক্ষুদ্র। ক্ষমতার ওপর অভিজাতদের শক্ত হাতকে নড়বড়ে করার জন্য আর তাদের ক্ষমতাকে ভাগাভাগি করার জন্য শতকের পর শতক ধরে নানা দেশের ভাল মানুষরা শাসক দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সফলতার সঙ্গে রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে...

সরল গরল- কমনসের বাংলাদেশ বিতর্ক by মিজানুর রহমান খান

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচন ইতিবাচক বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দাবি সংসদে করেছেন, তা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে যখনই বৈধতার সংকট নিয়ে কেউ সরকারে বসেন, তখন তাঁরাই বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ে সচেষ্ট হন। বিভিন্ন সরকারের আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তাবিষয়ক তথ্য এবং সেসব দেশের পার্লামেন্টের নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা নির্বাচন ও সরকার সম্পর্কে যে অভিমত দিচ্ছেন, তার মধ্যে পার্থক্য আসমান ও জমিনের। বিদেশি সাংসদেরা সংসদের ফ্লোরে কীভাবে দেখছেন তা আজ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হবে এই নিবন্ধে। আজ হাউস অব কমনস। কাল ইইউ পার্লামেন্টের ভাষ্য। হাউস অব কমনসে তিন সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে তিন দফা আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সিনেটেও অল্পসময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের ওপর তৃতীয় শুনানি হচ্ছে। বাংলাদেশবিষয়ক প্রস্তাব আনার কারণটা চিহ্নিত করে সাইমন ড্যানজুক বলেন, অবশ্যই এমন উদ্বেগ রয়েছে যে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে এবং কালক্রমে উগ্রপন্থার উত্থান ঘটতে পারে। মিসেস মেইন বলেন, আমাদের ভাবতে হবে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ব্রিটিশ সাহায্য দেশটিতে কী কাজে লাগবে। প্রকৃত সুফল দেব...

অজানা গন্তব্যের পথে বাংলাদেশ by কাউসার মুমিন

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশটির গত দু’ দশকের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অর্জনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে এক অজানা গন্তব্যের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ নিয়ে যথেষ্ট শংকিত হওয়ার কারণ রয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন  ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ, বিতর্কিত। এখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যতদ্রুত সম্ভব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন প্রয়োজন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বাংলাদেশের ওপর শুনানিতে এসব কথা বলা হয়েছে। পাঁচ ইস্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুনানি। এগুলো হলো: একটি নতুন নির্বাচন, জিএসপি প্রসঙ্গ, বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্রামীণ ব্যাংক ও ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। পররাষ্ট্র বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিতে ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সিনেটর মেনেন্দেজের সভাপতিত্বে। এতে প্যানেল সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নতুন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতাপূর্ণ সংলাপ আয়োজনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে আরও বেশী চাপ দিত...

খালেদা, প্রণব এবং ওরা তিন জন by অমিত রহমান

খালেদা জিয়া জানার চেষ্টা করছেন। কেন তার ঘনিষ্ঠ ‘তিনজন’ প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাতে বারণ করেছিলেন। কি ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তারা কি দলের স্বার্থে না অন্যদের স্বার্থে খেলছিলেন তা-ও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সময় যত যাচ্ছে ততই তার মধ্যে সন্দেহ জাগছে, এটা হয়তো কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। দলের লোক, দেশী-বিদেশী শুভার্থীরা বলছেন, এটা ছিল অশোভন, অগ্রহণযোগ্য। শিষ্টাচারবহির্ভূত। তাদের যুক্তি হচ্ছে, খালেদা ভারত সফরে গেলেন। সম্পর্ক উন্নয়নের নয়া দিগন্তের সূচনা হলো। নজিরবিহীন না হলেও অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেয়া হলো। খালেদা নিজেও বিস্মিত হলেন। ঘনিষ্ঠদের বললেন, তার ধারণার বাইরে সৌজন্য দেখালো ভারত। তিনি নিজেই ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জিকে আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকা সফরের জন্য। প্রণব এলেন। কিন্তু খালেদা নেই। অকার্যকর এক হরতালের অজুহাতে নির্ধারিত সৌজন্য বৈঠক বাতিল করলেন এক ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে। কি কারণ ছিল তা নিয়ে অনেকদিন গবেষণা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ঝুঁটি বাঁধেন এমন দু’জন তাত্ত্বিক এবং একজন পেশাজীবী এক সকালে গিয়ে বললেন, ম্যাডাম সর্বনাশ হয়ে যাবে। প্রণব বাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে য...

সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে ৩১শে মার্চ অনশন

দু’বছর পার হলেও উদ্ঘাটন হয়নি সাংবাদিক সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য। হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোন প্রকার কিনারা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সমাজ। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে চাওয়ার অনুরোধ করেছেন সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মুনীর। অপরদিকে অপরাধী শনাক্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণে লজ্জা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গতকাল সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে পরিবার, সাংবাদিক সমাজের পক্ষ প্রয়াত সাগর-রুনিকে স্মরণ করা হয়। প্রকৃত খুনিদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে ৩১শে মার্চ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাংবাদিক নেতারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা দাবি করেন, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে একটি মহল সরকারকে বিভ্রান্ত করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ সাংবাদিকদের সকল সমস্যায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমাবেশে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন যোগ দেয়। সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজের এক...

বৈশ্বিক অর্থনীতি- অধিকাংশ মানুষের স্থায়ী দুর্দশা by জোসেফ স্টিগলিৎস

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার পরপরই আমি সতর্ক করে বলেছিলাম, সঠিক নীতি গ্রহণ করা না হলে জাপানের মতো বছরের পর বছর ধরে ধীর প্রবৃদ্ধি ও আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রায়-স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তখন আটলান্টিকের উভয় তীরের নেতারা দাবি করেছিলেন যে তাঁরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, কিন্তু কার্যত দ্রুতই তাঁরা একই ধরনের ভুলভ্রান্তির পুনরাবৃত্তির দিকে অগ্রসর হন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক কর্মকর্তা অর্থনীতিবিদ ল্যারি সামার্স পর্যন্ত এমন সতর্কতা উচ্চারণ করছেন যে একটা দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। আধা দশক আগে আমি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম, তার মূল কথাটি ছিল মৌলিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি রুগ্ণ হয়ে পড়েছিল, এমনকি সংকট শুরু হওয়ার আগেই। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি হয়ে উঠেছিল একটা সম্পদ-মূল্যের বুদ্বুদ, যা সৃষ্টি হয়েছিল শিথিল ব্যবস্থাপনা/নিয়ন্ত্রণ ও সুদের নিম্ন হারের কারণে। এ দুয়ের ফলে অর্থনীতিটাকে বেশ হূষ্টপুষ্ট দেখাচ্ছিল। কিন্তু উপরিতলের নিচে, ভেতরে ভেতরে অসংখ্যা সমস্যা ঘনিয়ে উঠছিল। যেমন, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়ে চলেছিল, কাঠামোগত সংস্কারের ...