Skip to main content

Posts

Showing posts from January 22, 2014

রাষ্ট্র ও রাজনীতি- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো by আবদুল মান্নান

আরব্য রজনীর গল্পে আছে, সিন্দবাদ সাতটি সমুদ্রযাত্রা করেছিল। প্রতিটি যাত্রায় তার যত সব রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। সিন্দবাদের পঞ্চম যাত্রার গল্পে আছে, তার কাঁধে এক বুড়ো সওয়ার হয়েছিল। বুড়ো আবার কাঁধে এমন প্যাঁচ কষে বসেছিল যে সিন্দবাদ বস্তুতপক্ষে বুড়োর ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছিল। শেষে সিন্দবাদ বিশেষ সুরা তৈরি করে বুড়োকে পান করিয়ে তাকে হত্যা করে। সিন্দবাদ তো বুড়ো থেকে নিস্তার পেতে একটা উপায় বের করেছিল। কারণ, সে বুড়োর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিএনপির ঘাড়ে জামায়াত নামের যে বুড়ো বা দৈত্যটি গেড়ে বসেছে, সবার প্রশ্ন, তার কী হবে? কারণ, বিএনপি নামের সিন্দবাদ তো এই দৈত্যটিকে বধ করতে নারাজ। বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান সম্পর্ক অনেকটা দুজন দুজনার মতো। অবশ্য এর আগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে সাম্প্রতিক কালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির যে রাজনৈতিক বিপর্যয়, তার প্রধান কারণ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর দেশ ও সম্পদ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, যা দেড় বছর ধরে চলে আসছে। আন্দোলনের না...

‘দৃশ্যত বাংলাদেশের নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন’

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি সাহায্য দেয়ার বিষয়ে বৃটেন সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকান। তবে ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) এনজিওর মাধ্যমে যেসব প্রকল্পে কাজ হচ্ছে, তা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে তিনি এ তথ্য জানান। হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অ্যালান ডানকান। লন্ডনের এনফিল্ড এলাকার এমপি নিক ডি বোয়া কমন্স সভায় জানতে চান, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কী প্রভাব পড়বে বলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মনে করেন? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃটিশ সরকার সতর্কতার সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো প্রকল্পও বাতিল হয়নি। সম্পূরক প্রশ্নে নিক ডি বোয়া জানতে চান, মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একমত হবেন কি না যে, তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যয় করা অর্থের অনেকটাই সদ্ব্যবহার হলেও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যে ...

সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা

পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ‘সংলাপ’ প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেছে কানাডা। দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন এবার জানার চেষ্টা করছেন, কাঙ্ক্ষিত ওই সংলাপ কবে নাগাদ শুরু করতে চায় সরকার। নবগঠিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে গতকাল কানাডা দূতের এক ঘণ্টা বৈঠকের মুখ্য আলোচ্য ছিল এটি। বৈঠক সূত্রের দাবি, অত্যন্ত খোলামেলা ও প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে দু’জনের মধ্যে। বৈঠকে ক্রুডেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তার দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোট গ্রহণের পর কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ‘হতাশা’ ব্যক্ত করেছেন তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বেশির ভাগ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোট না হওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। ভোটের আগে-পরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সংখ্যালঘু সমপ্রদায় যেভাবে আক্রান্ত হয়েছে তাতে কানাডা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আরেকটি নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতার জন্য প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের যে তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার প্রশংসা করেছেন হাইকমিশনার। বিরোধী জোটের হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূূচি ...

রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক

আপাতত রাজনীতি নেই এ কথা সত্য। তবে ৫ই জানুয়ারি পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু নতুন সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের জন্য বিএনপির ওপর দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এরই পটভূমিতে সর্বশেষ ২০শে জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিরোধী জোটের সমাবেশে জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতাদের দেখা যায়নি। যদিও জোটভুক্ত অন্যান্য দলের নেতারা মঞ্চে ছিলেন। এ সমাবেশের পরই ১৮ দলীয় জোটে ভাঙনের কথা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনই এ জোট ভাঙার ঘোষণা না দিলেও কৌশলগত কারণেই জোটের ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চিত। কারণ বিএনপি ও জামায়াতের বুদ্ধিদাতা হিসেবে পরিচিত অনেকেই মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ইসলাম যুক্ত আছে এমন কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খুবই কম। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো প্রতিনিয়ত খোলামেলাভাবেই কথা বলছে বাংলাদেশ নিয়ে। বর্তমান সরকারে...

প্রসঙ্গ: মানবাধিকার by মনির হায়দার

ব্যাপারটা খুবই অনুচিত। কেবল অনুচিত নয়, কিছুটা অমানবিকও বটে। আমরা এতটা অকৃতজ্ঞ কেন? অবশ্যই আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। একটুখানি নয়, অনেকখানি। এমনিতেই বাঙালির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে নানা কথা আছে। অনুযোগপ্রিয় জাতি হিসেবেও বেশ বদনাম আছে। প্রজাকুল তথা সাধারণ মানুষের এসব দোষ-ত্রুটির কথা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন জনসেবকগণ হরহামেশাই টের পান। তাদেরও তো ধৈর্যের একটা সীমা আছে। এত সমালোচনা আর বিরোধিতা সহ্য করার মুচলেকা দিয়ে তো তারা মসনদে বসেননি। তাদের কর্মকাণ্ড কারও পছন্দ না হলে চোখ বন্ধ রাখলেই পারেন। জনসেবকদের কথাবার্তা কারও ভাল না লাগলে কানে দিতে পারেন তুলো। তাই বলে অধিকারের অজুহাতে সেবকদের সমালোচনায় এত মুখর হতে হবে কেন? দেশবাসীর সুখ-শান্তি আর উন্নতির জন্য আমাদের খাদেমগণ তো কম চেষ্টা করছেন না। দিন-রাত কি অক্লান্ত পরিশ্রমই না তারা করে চলেছেন। শুধু কি কাজ? কণ্ঠকেও কোন বিশ্রাম দিচ্ছেন না বেচারারা। জনতার উদ্দেশে বিরামহীনভাবে বলে চলেছেন নানা রকম টক-ঝাল-মিষ্টি কথা। তাতে বিশেষ উপকার হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলোরও। তুলনামূলক অল্প চেষ্টাতেই মিলে যাচ্ছে দারুণ সব খবর। প্রজাকুলও সহজেই জানতে পারছে জনসেবকদের নানা ...

বাংলাদেশ সঙ্কটে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের প্রতি ভারতের সাড়াকে ‘কুসুম কুসুম গরম’ আখ্যা দিয়েছেন দিল্লি ভিত্তিক এশীয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াতের কোয়ালিশন সরকার নিস্পৃহ মনোভাব দেখিয়েছিল। এর মাশুল হিসেবেই বর্তমান সঙ্কটে ভারত [বিএনপির প্রতিকূলে] ঔদাসীন্যের পরিচয় দিচ্ছে। গতকাল ভারতের ইংরেজি দৈনিক দি এশিয়ান এজ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি অবশ্য চলতি অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় বের করতে ভারতীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। টাইম ম্যাগাজিনের সাবেক দক্ষিণ এশীয় সংবাদদাতা মীনাক্ষী লিখেছেন, ভারত নিজেকে যখন আঞ্চলিক, এমনকি বিশ্ব নেতৃত্বের দাবিদার মনে করে তখন তার উচিত বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করা এবং একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়তে সহায়তা প্রদান করা। সহিংসতা ও আটকাভিযান বন্ধ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরাধী দলকে আহবান জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেয়া কোন যৌথ উদ্যোগে ভারতের উচিত হবে অংশগ্রহণ করা। মীনাক্ষী মন্তব্য করে...

রাজনৈতিক মামলা- ফেরারি লাখো মানুষ

হরতাল-অবরোধ আর রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সারা দেশে দায়ের করা হয়েছে শ’ শ’ মামলা। রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়েছেন অন্তত আট লাখ মানুষ। তাদের কেউ কেউ জামিন পেয়েছেন। তবে অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে কাটাচ্ছেন ফেরারি জীবন। সামপ্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতায় দায়ের করা মামলার কারণে অনেক এলাকায় গ্রামের নারী-পুরুষ, শিশুরাও থাকতে পারছেন না নিজ বাড়িঘরে। নিরাপদে থাকতে তারা বাড়ি ছেড়ে বসবাস করছেন অন্যত্র। পালিয়ে থাকা এসব মানুষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ আসছে নারী নির্যাতনেরও। রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে অনেক সংখ্যালঘু পরিবারও। শ’ শ’ মামলায় অজ্ঞাত সংখ্যক আসামি করায় বিরোধীপক্ষের লোকজনকে হয়রানি করতে গ্রেপ্তার ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিরোধী জোটের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে এ পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলায় আসামি আট লাখের মতো। এসব মামলায় অন্তত অর্ধ লাখ নেতাকর্মী কারাগারে আটক আছেন। বিএনপির দাবি গত তিন মাসে ৪৫৫১টি মামলা হয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার জনকে। এদিকে কয়েকটি জেলায় মামলা ও পুলিশি হয়রানির কারণে স্বাভাবিক জীবনে স্থব...

নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই জরুরি বিষয়- স্কুলে পুলিশ ক্যাম্প

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে গত বছর নানা সময়ে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে, শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। কিন্তু ঠাকুরগাঁও জেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখনো স্বাভাবিক হতে পারছে না। স্কুলটি এখন পুলিশ ক্যাম্প, ফলে ক্লাস ও পাঠদান সবই বন্ধ! গত বছর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন বছরের শুরুতে নতুন উদ্যমে পাঠদান শুরুর বিষয়টিই ছিল প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীরা নতুন বইও পেয়েছে, কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় এই স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জীবনে গত বছরের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ক্ষতি। স্কুলটিকে পুলিশ ক্যাম্প বানানোর পেছনে বাস্তব কারণ রয়েছে। ভোটের দিন বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়া স্কুলটি। আর ভোটের পর সেই একই গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয় কাছাকাছি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকান ও বাড়িঘর। এ নিয়ে সংঘাত-সহিংসতায় একজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয় স্কুলটিতে। শিক্ষা না নিরাপত্তা—এ বিবেচনায় সম...

দায়মোচন- বিএনপির নাজুক গোড়ালি by ফারুক ওয়াসিফ

সরকারেও নেই, সংসদেও নেই। বিএনপি তাহলে কোথায় আছে? রাষ্ট্রে যা নেই, তা সমাজে থাকতে পারে। ক্ষমতার লড়াইয়ে জয়ের জন্য স্প্রিংয়ের মতো বিস্তারশীল সংগঠন লাগে, জনগণের অধিকাংশকে ধারণ করার মতো আদর্শ লাগে। দুটো ক্ষেত্রেই বিএনপি মোটামুটি ব্যর্থ। এ কারণে মহাজোট সরকারের অজনপ্রিয়তা থেকে তারা ফায়দা তুলতে পারেনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামক রাজনৈতিক যুদ্ধে বিএনপি সব সময়ই দুর্বল থেকেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি যখনই দেশে প্রবল হয়েছে—প্রথমবার জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণ-আদালতের সময়, দ্বিতীয়বার ২০০৬ সালের পর—তখনই বিএনপি পিছু হটেছে। দলের শীর্ষনেতাদের অনেকের মুক্তিযুদ্ধে অবদান থাকা সত্ত্বেও বিএনপি কেন মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে বেকায়দায় থাকে, তার উত্তর দলটির কর্মী-সমর্থকদেরই খুঁজতে হবে। বিএনপির সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক দুর্বলতার সুযোগ জামায়াতও নিয়েছে, আওয়ামী লীগও নিয়েছে। বিএনপি জামায়াত হয়ে গেছে বলে আওয়ামী লীগ যতই রব তোলে, বিএনপি যেন ততই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়। বিএনপির দুর্বলতা হলো জামায়াত। বিভিন্ন নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে, জামায়াত ছাড়াই বিএনপি এককভাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি জনসমর্থন ভোগ করে। তার পর...

অগ্রাধিকার- নির্বাচন: তারপর কী by বদিউল আলম মজুমদার

বহু তর্ক-বিতর্ক, নানা নাটকীয়তা ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। নির্বাচনটির আইনসিদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও, এটি একটি বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে অগ্রসর হওয়া ছাড়া নাগরিকদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত, আইনে ‘ডকট্রিন অব ফেকটাম ভেলেট’ (Doctrine of factum valet) বলে একটি তত্ত্ব আছে। তত্ত্বটির অর্থ হলো—যদি এমন কিছু ঘটে যায় যা আদৌ ঘটা উচিত ছিল না, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘড়ির কাঁটা উল্টে দেওয়া সম্ভবপর নয়, তাহলে সে বাস্তবতা মেনে নিয়েই সামনে অগ্রসর হতে হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অপরিবর্তনীয় ধরে নিয়েই সামনে এগোতে হবে, যেমনিভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ তারিখের বিতর্কিত নির্বাচনটি সবাইকে মেনে নিতে হয়েছিল। আর ১২ জুন ১৯৯৬ তারিখের নির্বাচনটি ছিল সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন—ষষ্ঠ নয়। একইভাবে পরবর্তী নির্বাচন হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে একাদশ সংসদ নির্বাচন ...

সংরক্ষিত স্পিকার অসাংবিধানিক by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা মুক্তিযুদ্ধের ফসল। যার মূলে ছিল জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির চেতনা। সেই লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তির সনদ হিসেবে ’৭২-এর সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায় ধারণ করার প্রক্রিয়া অনেক সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। কখনও কখনও সংবিধান ব্যক্তি, দলীয় বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থরক্ষায় পরিণত হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উদ্ভবের সম্ভাবনা দিন দিন তিরোহিত হচ্ছে। সংবিধানের প্রতি আস্থাহীনতা ভয়ঙ্কর প্রকট হয়েছে, ফলে সংবিধান লঙ্ঘন হলেও নীরবে সবাই মেনে নিচ্ছে। সরকার ও সংসদ সংবিধান লঙ্ঘন করছে, ফলে কেউ প্রতিকারের জন্য এগিয়ে আসার নৈতিক শক্তি পাচ্ছে না। দেশের নবম সংসদে একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকে অসাংবিধানিকভাবে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়েছে, দশম সংসদেও নাকি সংরক্ষিত আসন থেকে স্পিকার নির্বাচন করা হবে। আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যতীত প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কোন সাংবিধানি...

‘সোহাগ মরেনি, মরেছে আমার স্বপ্ন’ by সিদ্দিক আলম দয়াল

ছেলের হাফেজ হওয়ার আশা পূরণ করতে পারল না পিতা সফিক কাজী। নিজে কাজীর করে অসচ্ছল হিসেবে জীবনযাপন করে শুধু পেটে ভাত যোগাড় হয়েছে। নিজের সন্তানদের একটু রাস্তায় তুলে দিতে চেয়েছিলেন। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ছেলেকে দিয়েছিলেন মাদরাসায়। বড় হয়ে কিছু করবে। নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন- বুকভরা আশা আর স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে হতভাগ্য পিতার । গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র রাজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কাজী সফিক। জমিজমা সামান্য। যা আছে তাতে ছোট সংসার মোটামুটি চলে যায়। চার ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় সোহাগ। বাড়ির কাছে বলে পিতা কাজী সফিক তার ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেন খানাবাড়ি মাদরাসায়। সফলতার সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষায় সোহাগ অষ্টম শ্রেণীতে পড়লেখা করছিল । মা জেলেখা বেগম বলেন, পরিবারের সবার আদরের বলে দাদা-দাদী নাম রাখেন সোহাগ। তখন থেকেই সোহাগ হয়ে যায় সবার কাছে সোহাগী। ছোটবেলা থেকেই নামাজ পড়তো এরং রোজা রাখতো। ধর্মেও যেমন কর্মেও তেমন ছিল সে। সেজন্য গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাদরাসার সহপাঠীদের প্রিয় সোহাগ ভাই । সুন্দর মার্জিত চেহারার এক ক...

সরল গরল- রেহমান সোবহানের নির্বাচনী ভাবনা by মিজানুর রহমান খান

১৯ জানুয়ারি ডেইলি স্টার-এ অধ্যাপক রেহমান সোবহানের নিবন্ধে বাংলাদেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। তবে তিনি সম্ভবত ধরে নিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। এ ধারণা সত্যি হলে আগামী নির্বাচন যখনই হোক একই প্রশ্ন টিকে রইল, দলীয় প্রধানমন্ত্রীকে রেখে প্রকৃত বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে কি যাবে না। তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ সামান্যই। তবে তিনি যেভাবে ‘আওয়ামী লীগের ৬৫ বছরের জীবনকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের ভ্যানগার্ড’ বলেছেন, তা পুরোপুরি মানা কঠিন। দলের ৬৫ বছরকে অন্তত তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে। পাকিস্তান আমল, বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আমল। তিনি যাদের ‘সেনানিবাসে জন্ম’ বলে খোঁটা দিয়েছেন তার একটি জাতীয় পার্টি, এখন ভ্যানগার্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিগত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার কারণে যদি তাঁর দাবি অনুযায়ী দেশের গণতন্ত্র হ্রাস পায়, তাহলে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সব বিকল্প খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিটি বুথে নির্বাচনী এজেন্ট নিশ্চিত করা, ভোটারের হাতে মুঠোফোন থাকা, ...

সপ্তাহের হালচাল- ব্যাকফুটে বিএনপি by আব্দুল কাইয়ুম

সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গণসমাবেশে জামায়াত-শিবিরকে ব্যানার নিয়ে দৃশ্যমানভাবে উপস্থিত থাকতে না দেওয়ায় এটা পরিষ্কার যে বিএনপি এখন ‘ব্যাকফুটে’ খেলতে চাচ্ছে। তা-ই যদি না চাইত, তাহলে জামায়াতকে ঠেকিয়ে রাখবে কার সাধ্য। যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে না যে তাদের কোনো নিষেধ ছিল। ওদের ব্যাখ্যা হলো, সেদিন নাকি ১৮ দলের সমাবেশ ছিল না, ছিল বিএনপির সমাবেশ। কিন্তু এসব কথা বলে জামায়াতের অনুপস্থিতির সাফাই গাওয়া যাবে না। এই মুহূর্তে জামায়াতকে একটু দূরে দূরে রাখার কৌশলের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। একটি হলো বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শ। অন্যটি জামায়াতকে সঙ্গে রাখার বিপদ। বিদেশি বন্ধুরা জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে সুস্পষ্ট দূরত্ব রাখা, সোজা কথায় তাদের সঙ্গ ছাড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়ার পর বিএনপির পক্ষে আগের মতো করে চলা কঠিন। তাই অনেকটা ‘ব্যাকফুটে’ খেলার কৌশল নিতে হয়েছে। পাকা খেলোয়াড়েরা সব সময় পিটিয়ে খেলেন না। বিশেষত শতরান পূর্ণ করার বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে কিছুটা ধীরে, দেখেশুনে খেলার কৌশল নিলে দলের হতাশ হওয়ার কিছু থাকে না। বরং সবাই উত্সাহিত হয়। বিএনপি ২৯ জানুয়ারি হরতাল না ডেকে কালো পতাকা মিছিলের কর্মস...