Skip to main content

সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা

পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ‘সংলাপ’ প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেছে কানাডা। দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন এবার জানার চেষ্টা করছেন,
কাঙ্ক্ষিত ওই সংলাপ কবে নাগাদ শুরু করতে চায় সরকার। নবগঠিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে গতকাল কানাডা দূতের এক ঘণ্টা বৈঠকের মুখ্য আলোচ্য ছিল এটি। বৈঠক সূত্রের দাবি, অত্যন্ত খোলামেলা ও প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে দু’জনের মধ্যে। বৈঠকে ক্রুডেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তার দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোট গ্রহণের পর কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ‘হতাশা’ ব্যক্ত করেছেন তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বেশির ভাগ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোট না হওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। ভোটের আগে-পরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সংখ্যালঘু সমপ্রদায় যেভাবে আক্রান্ত হয়েছে তাতে কানাডা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আরেকটি নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতার জন্য প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের যে তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার প্রশংসা করেছেন হাইকমিশনার। বিরোধী জোটের হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূূচি থেকে সরে আসা, বিরোধী দলকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া এবং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ সম্পন্ন হওয়া সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে ‘ইতিবাচক’ ও ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দেশ আশা করে, উভয় পক্ষের ইতিবাচক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিরোধী জোটসহ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের কৌশল গ্রহণ ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার। তার সব জিজ্ঞাসার জবাবে নয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য আরেকটি নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পুনরুল্লেখ করেছেন। বলেছেন, সহিংসতা ও জামায়াতকে ত্যাগ করলে সরকারের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব হবে। সরকারের ভেতরে বা বাইরে যে যাই বলুল না কেন- প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটাই ‘বটম লাইন’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দীর্ঘ ওই বৈঠকে সরকারের ১০০ দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গেও জানতে চেয়েছেন প্রভাবশালী ওই দূত। জবাবে শাহরিয়ার আলম এমপি বলেছেন, গত ৫ বছরে অভিজ্ঞতার আলোকেই তার দল একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। পর্যায়ক্রমে সেটি বাস্তবায়নে তারা সচেষ্ট থাকবেন।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...