Skip to main content

Posts

Showing posts from January 5, 2014

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- একতরফা নির্বাচন এড়ানো যেত by সালমা খান

সংবিধানের মূল চেতনা হলো গণতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হচ্ছে, আজকের নির্বাচনে সেটি হচ্ছে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের কথা হলো, জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। এই নির্বাচনে তাদের মালিকানা স্বীকার করা হচ্ছে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল, সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা অনায়াসেই সেই নির্বাচন পেতে পারতাম। দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থান সত্ত্বেও আমি মনে করি, একটি সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব হতো না। সমঝোতা মানে এক পক্ষের কাছে অপর পক্ষের হার নয়। আলোচনার টেবিলে কিন্তু অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল। সেগুলো নিয়ে বসলে একতরফা নির্বাচন এড়ানো যেত। আন্দোলন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী দলের নেতার অবস্থান কী? সরকার বলছে, তিনি গৃহবন্দী নন। কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে যে পুলিশবেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে, তাঁকে ঘর থেকেও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। জামায়াতে ইসলামী নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনেক কথা বলেন। তাঁরা এদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন। আমরা দেখে এসে...

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- দেশ বিপাকে পড়েছে by রাশেদা কে চৌধূরী

কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের তিনটি শর্ত। তা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। বর্তমান নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে প্রশ্ন আছে। অতএব আমরা হতাশ। দ্বিতীয় হলো, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটারদের অধিকাংশই বঞ্চিত। এতে করে তাঁদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থার অভাব দেখা যাচ্ছে। এঁদের সংখ্যা কম নয়। এবার কয়েক লাখ নতুন ভোটার তাঁদের জীবনের প্রথম ভোট দিতে পারলেন না। তৃতীয় হলো, একতরফা নির্বাচন যতবার হয়েছে, ততবারই ব্যর্থ হয়েছে। বিপরীতে নির্বাচন এ দেশে হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। গত নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতিতে, বিশেষ করে নারী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এবারের পরিবেশের প্রধান চরিত্র হলো আতঙ্ক। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রধান বিরোধী দলকে বাইরে রাখায় শান্তি আসবে না। তারাও দেশবাসীকে শান্তি দেবে না। তাদেরও প্রশ্ন আছে, দাবি আছে। যখন প্রধান দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের অনাস্থা, সংঘাত ও সহিংসতা চলে, পারস্পরিক বিদ্বেষ প্রধান হয়ে ওঠে, তখন প্রতিক্রিয়াশীল চক্র রাজনীতির স্থান দখল করে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্র...

গণতন্ত্রের যুদ্ধে বাংলাদেশ হারতে পারে না by রিয়াজউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচন আজ। বিরোধী কোন দলই অংশ নিচ্ছে না এ নির্বাচনে। এরই মধ্যে বেসরকারিভাবে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে দেশের শতকরা ৫২ ভাগ ভোটার ভোট দেয়ার কোন অধিকারই পাচ্ছেন না। আমরা এটাকে জাতীয় নির্বাচন বলতে পারবো না। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা যেমনটা লিখে থাকি ‘জাতি নির্বাচনমুখী’, সে রকম কোন শিরোনামও আমরা দিতে পারছি না। আমাদের দৃষ্টিতে এটা জাতীয় নির্বাচন নয়। তাই এটাকে বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার দ্বারা সিলেকশন বলতে পারি আমরা। আমরা যে কারণে এটাকে নির্বাচন বলতে পারি না তা হলো, আমাদের সংবিধানের অধীনে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করে। তথাকথিত এই নির্বাচনে এ রকম কোনটাই ঘটেনি। সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচন তাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তাদের ক্ষমতার লালসা দেশকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছে। বাংলাদেশকে এখন দেখা হয় এমন একটি দেশ হিসেবে যেখানে কোন গণতন...

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- একাদশ সংসদই এখন লক্ষ্য by এম সাখাওয়াত হোসেন

আমরা আশা করেছিলাম, যত জটিলতার মধ্য দিয়ে হোক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে উৎসাহের মধ্য দিয়ে হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সে রকমই একটা পরিবেশে হবে। কিন্তু যখন উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হলো, তখনই আমরা বেশির ভাগই নিশ্চিত ছিলাম যে সমস্যা হবে। বাংলাদেশে সংসদ রেখে নির্বাচন করা খুব কঠিন। তার পরই দুই দলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়ে গেল। অবরোধের বেলায় দুই ধরনের শক্তি সমান্তরালে কাজ করেছে। সহিংস শক্তি কাজ করেছে, যাদের শীর্ষভাগই জামায়াত ও শিবিরের, যাদের নেতাদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলন মিলে গিয়ে সহিংস আন্দোলনের চেহারা পেয়েছে। অপরদিকে সরকার যেভাবে দমনের প্রক্রিয়ায় গেছে, তাতেও পরিস্থিতির আরও অবনতি নিশ্চিত হয়। এরই মধ্যে হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করল। আমাদের সময়ও আমরা তিনবার নির্বাচনের তারিখ বদলিয়ে তৎকালীন বিরোধীদের নির্বাচনে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এবারও যদি প্রয়োজনে তফসিল পরিবর্তন করে বিরোধী দলকে আরও স্পেস দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো ফল অন্য রকম হতেও পারত। কিন্তু সেদিকে মোটেই সচেষ্ট হওয়া...

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- এ নির্বাচন বৈধতা পাবে না by হোসেন জিল্লুর রহমান

আজ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ নয়, আমার বিবেচনায় তিনটি কারণে বৈধতাই হারিয়েছে। প্রথমত, এই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচন এবং তৃতীয়ত, এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সবই হারিয়েছে। ফলে আজ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই বৈধতা হারিয়েছে। আর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার বিষয়টি। সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কারণ, সাধারণ মানুষই এর শিকার হয় এবং এটা তাদের ওপর দিয়েই যায়। নির্বাচনকে ঘিরে এই সহিংসতা পরিহার করতে হবে। নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, এই নির্বাচন কার্যত আমাদের ভোটাধিকার হরণ করছে। এই নির্বাচনের ব্যাপারে নাগরিকদের অসম্মতি রয়েছে এবং বিষয়টি পরিষ্কার। এত কিছুর পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষতিকর দিকটি হচ্ছে, এর ফলে সার্বিকভাবে সমাজের মধ্যে একটা অসহায়ত্ব বোধ তৈরি হয়েছে। এই বোধ যদি সমাজের গভীরে চেপে বসে তবে তা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি মনে করি, ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সব পর্যায়েই দৃ...

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- হরতাল-অবরোধ বন্ধ করতে হবে by সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী

বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে আজ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হলো, এই নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে। গত কয়েক মাসে অবরোধ ও হরতালের কারণে অর্থনীতি স্থবির ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও কিছুদিন আগেও আমাদের অর্থনৈতিক সূচকগুলো অত্যন্ত ভালো ছিল। নির্বাচনের পর সরকার যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সুশাসন দিতে পারে, তাহলে জনমনে শঙ্কা কিছুটা কমবে। একজন মন্ত্রী সে রকমটি আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু সরকার যদি সেটি করতে ব্যর্থ হয়, অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য—সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। তিন মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় বন্ধ আছে। এর নেতিবাচক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু এই রাজনৈতিক হানাহানি চায় না। তারা শান্তি ও স্বস্তিতে থাকতে চায়। নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে তুলতে চায়। কারা ক্ষমতায় এল, কারা না এল—এসব নিয়ে তারা মাথা ঘামায় না। তবে এও সত্য যে, সারা দেশে যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চলছে, তার সবটাই নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের একটি রায় কার্যকর হয়েছে, যারা এর বিরুদ্ধে, বাকিগ...

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- অর্থনীতির স্বার্থে সমঝোতা চাই by মোস্তাফিজুর রহমান

সরকার বলছে, এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সমঝোতার প্রয়োজন এখন আরও তীব্র হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার সঙ্গে লক্ষ করছি যে চলমান সাংঘর্ষিক রাজনীতি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগে অনুৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সরকারের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য যে কর্মসূচিগুলো ছিল, সেগুলো থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে সরে যাচ্ছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমেই লোপ পাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন চালানোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে বিদেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগসক্ষমতা কমে যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীদের। রপ্তানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে আমাদের অর্থনীতির প্রতিকূলতা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। যে সাংঘর্ষিক রাজনীতি ও সহিংসতা দেখছি, তাতে বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের সমঝোতার মধ্যে আসতেই হবে। একটা গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। এই সংকটে যে আর্থসামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা থেকে আমাদের অবশ্যই উত্তরণ পেতে হবে। সে ...

নয়া গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ by অমিত রহমান

বাংলাদেশে ভোট কলঙ্কিত হয় বরাবরই। মাঝখানে চারটি নির্বাচন তুলনামূলকভাবে কলঙ্কমুক্ত ছিল। নব্বই দশকের পর ’৯৬ সালে ভোট হয়েছিল একতরফা এবং গায়েবি। যে নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বয়কট করেছিল। এ অবস্থায় ভোট পড়েছিল ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ভোটের ইতিহাসে উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম। কাল যে ভোট হতে যাচ্ছে সেখানে কত ভাগ ভোট পড়বে। বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব খবরাখবর আসছে তাতে মনে হয় ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। বেশিও হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাসক দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ভোটার আনার জন্য প্রয়োজনে টাকা খরচ করতে বলা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে ব্যালটের প্রতি সুবিচার করতে। শাসক দলের এমপি শেখ আফিলউদ্দিন তো প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন ভোটারের দরকার নেই। ১০০ কর্মী পর্যায়ক্রমে ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাকি কাজটা নির্বাচনী এজেন্টরা সেরে ফেলবে। এরকমই কিছু ঘটতে যাচ্ছে ৫ই জানুয়ারির ভোটে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেই এই নির্বাচনে। জামায়াতে ইসলামীও নেই। এরশাদের জাতীয় পার্টি আছে এবং নেই। প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে সরে গেছেন এরশাদ। পরিণতিতে...

৭৮ রাষ্ট্রের না, ভরসা ৪ পর্যবেক্ষক, ২১ সাংবাদিক! by মিজানুর রহমান

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশী সাংবাদিকদেরও এবার আগ্রহ নেই। অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে বিদেশী পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও এবারের চিত্র সমপূর্ণ ভিন্ন। প্রধান বিরোধী দলসহ বিরোধী জোটগুলোর বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত আজকের দশম সংসদ নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত ২১ জন সাংবাদিক ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে দাবি করেছেন সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচালক (মিডিয়া)। তার মধ্যে বিসিসি’র ১, আল জাজিরা ৯, রয়টার্স ৩, সুইস টেলিভিশন ১, এনএইচকে (জাপান) ২ এবং ফ্রিল্যান্স ৫ জন প্রতিনিধি ঢাকায় এসেছেন বলে জানান ওই পরিচালক। তবে বিদেশী সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত সোনারগাঁওয়ের মিডিয়া সেলে গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী কর্মকর্তা ১৩ জন স্ব-শরীরে রিপোর্ট করেছেন বলে জানান। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে ৪৬ জন বিদেশী সাংবাদিক নির্বাচন কভার করার জন্য ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে চূড়ান্তভাবে কত জন ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন বা রাতে পৌঁছাবেন সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন তথ্য তিনি সরবরাহ করতে পারেননি। তবে পররাষ্...

মীমের আর্তনাদ কেন বেঁচে গেলাম? by শর্মী চক্রবর্তী

তন্ময় নেই, ভাবতেই পারছি না। আমরা তো একসঙ্গে মরতে গিয়েছিলাম, আমি কেন বেঁচে গেলাম। আমি তন্ময়কে চাই বলেই চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন মীম। আমাকে একদিন না দেখতে পারলে তন্ময় পাগল হয়ে যেতো। স্কুল না থাকলে প্রায়ই সে আমার বাসার কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো একনজর দেখার জন্য। জানালার পাশে আমিও দাঁড়িয়ে থাকতাম তাকে দেখার জন্য। এসব আমি এখন কিভাবে ভুলবো। আমিও তন্ময়ের কাছে চলে যেতে চাই। আমরা ওয়াদা করেছিলাম, বাঁচতে হলে দু’জন একসঙ্গে বাঁচবো, মরলেও দু’জন একসঙ্গে মরবো। এজন্যই আমরা একসঙ্গে মরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কেন আমি বাঁচলাম? তন্ময় আমাকে রেখে একাই কেন চলে গেল না ফেরার দেশে?’ শুক্রবার বাড্ডা থানায় বসে এভাবেই আর্তনাদ করছিল শেহরীনা রহমান মীম। এর আগে ভোরে হাতিরঝিলের রামপুরা অংশের প্রথম ব্রিজ থেকে প্রেমিক তন্ময়ের হাত ধরে আত্মহত্যার জন্য ঝাঁপ দিয়েছিল দু’জন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে মীম বেঁচে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। চোখের সামনেই পানিতে ডুবে মারা যায় তন্ময়। পুলিশ মীমকে আত্মহত্যা চেষ্টা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে গাজীপুরের কিশোরী সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মীম ...

‘ভোট নাকি তাঁরাই দিয়া লইব’ by আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ ও মাসুদ রানা

‘ভোট দিতে কেন যাব? নেতারা কইছে, ভোট দিতে যাওন লাগব না। তাঁরাই নাকি ভোট দিয়া লইব।’ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়ার বলখেলা বাজারে কয়েকজন ভোটার ভোট দেওয়ার বিষয়ে এমন মন্তব্য করেন। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে আজ রোববার সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ভোট দিতে আগ্রহ ছিল কম। বলখেলা বাজারে শরীফ খান নামের অন্য একজন বলেন, ‘এবার নিরানন্দ ভোট হচ্ছে। অন্যবারের মতো আগ্রহ পাচ্ছি না। তাই ভোট দিব কি না, এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।’ নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন হামিদা বেগম। তিনি বললেন, ‘ভোট হচ্ছে, তাই ভোট দিতে আইছি। সব দল থাকলে ভালো হতো। সবাই ভোট দিতে আসত।’ এই ভোটকেন্দ্রে কয়েকজন আনসার সদস্যের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, এবার ভোটের তেমন একটা আমেজ নেই। অন্য সময়ে ভোটারদের লাইন থাকে। কিন্তু এবার কোনো লাইন নাই। এক-দুইজন আসছেন। আবার তাঁরা ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। ভোট দিয়েছেন কি না? জানতে চাইলে বাসুদেবপুর এলাকার মো. ইব্রাহীমের কাটছাঁট জবাব, ‘এখনো দিইনি, দেব কি না, তারও ঠিক নাই।’ আজ সকালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর পর ক...