Skip to main content

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- অর্থনীতির স্বার্থে সমঝোতা চাই by মোস্তাফিজুর রহমান

সরকার বলছে, এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা
রক্ষার জন্য সমঝোতার প্রয়োজন এখন আরও তীব্র হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার সঙ্গে লক্ষ করছি যে চলমান সাংঘর্ষিক রাজনীতি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগে অনুৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সরকারের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য যে কর্মসূচিগুলো ছিল, সেগুলো থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে সরে যাচ্ছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমেই লোপ পাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন চালানোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে বিদেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগসক্ষমতা কমে যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীদের। রপ্তানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে আমাদের অর্থনীতির প্রতিকূলতা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

যে সাংঘর্ষিক রাজনীতি ও সহিংসতা দেখছি, তাতে বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের সমঝোতার মধ্যে আসতেই হবে। একটা গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। এই সংকটে যে আর্থসামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা থেকে আমাদের অবশ্যই উত্তরণ পেতে হবে। সে জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে পরিত্যাগ করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতার দিকে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে। এগুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও সমঝোতার দিকেই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। তা না করতে পারলে গত দুই দশকের গণতান্ত্রিক শাসনে যে আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে, তা ধরে রাখা কঠিন হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনাগুলো আছে, সেগুলোও অর্জন করা দুরূহ হয়ে যাবে। বৈরী রাজনীতির কারণে আমরা আর পেছাতে চাই না।
মোস্তাফিজুর রহমান: নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...