Skip to main content

Posts

Showing posts from January 17, 2014

সংলাপ-সমঝোতার বিকল্প নেই- শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক

১৮-দলীয় জোটের প্রধান নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর কোনো হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিতে হয়। কারণ, কয়েক মাস ধরে এই নেতিবাচক কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশের জনগণ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে; আন্দোলনের নামে মানুষের প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থা ও জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির এই ধারা আর চলতে দেওয়া উচিত নয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নয় দিন পর গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া নতুন সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ আখ্যা দিলেও এ সরকারের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—এটাকেও আমরা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। কারণ, সংলাপ-সমঝোতা ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সমস্যা থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের ‘বৈধতা’র প্রশ্নটির থেকে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ঘটানো। শুধু সংলাপের মাধ্যমেই সেটির সূচনা ঘটানো সম্ভব, যেখানে সমঝোতার মানসিকতা অপরিহার্য। হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস কর্মসূচির উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্রের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত’ রাখার যে ঘোষণা দিয়েছেন,...

নতুন সরকার- সামনে এখন সুশাসনের চ্যালেঞ্জ by ইফতেখারুজ্জামান

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের প্রয়াণের আগের দুই সপ্তাহের মধ্যে পর পর দুটি অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে থাকার বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল। এর একটি ছিল ইতিহাসের মহিরুহ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান, যেখানে হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা ম্যান্ডেলার জীবনাদর্শ থেকে কিছুই শেখেননি। যুক্তি হিসেবে যে বিষয়ের ওপর তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা হলো ম্যান্ডেলা দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবাসের পর বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদী নেতা হিসেবে জনরায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাঁচ বছরের এক মেয়াদ পালনের পর তাঁর প্রতি পরিপূর্ণ জনসমর্থন নিশ্চিত জেনেও ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও সম-অধিকারের মূলমন্ত্রের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে মৌলিক জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কেমন করে প্রতিপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে জাতি গঠনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ম্যান্ডেলা হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বমাপের নেতা, বিশ্বব্যাপী রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ...

এরশাদ- কার হাসি কে হাসে? by আলী ইমাম মজুমদার

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে দুটো প্রধান শিবিরই এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিজেদের জোটে নিতে সক্রিয় ছিল। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যেতে সমর্থন দেন। বিনিময়ে তাঁর পাঁচ বছরের বন্দিজীবনের আপাতসমাপ্তি ঘটে। তবে সে সরকারের মেয়াদকালেই জনতা টাওয়ার মামলায় দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হন তিনি। তাই ২০০১ সালে অভিমানে আওয়ামী লীগের দিকে হাত বাড়াননি। আস্থা-অনাস্থার দোলাচলে যাননি সরাসরি অপর পক্ষের দিকেও। ভেবেছিলেন ঝুলন্ত সংসদ হবে। তাঁর দল হবে ক্ষমতার নির্ণায়ক। যেমন কিছুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সে প্রত্যাশায় ওই বছরে এককভাবেই প্রার্থী দেন। বারবার ঘোষণা করেন, শেষ হাসি তিনি হাসবেন। হাসতে পারেননি তিনি। সেই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। ২০০৭ সালের নির্ধারিত নির্বাচনের আগে মহাজোটের সঙ্গে করেন আঁতাত। সে নির্বাচনটি হয় ২০০৮ সালের শেষে। জানা যায়, মহাজোট নির্বাচিত হলে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করাসহ আরও কিছু দাবি ছিল তাঁর। মহাজোটই বিজয়ী হয়েছিল। মহাজোটের ছিল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাই তারা এসব দাবি মেটানোর কোনো গরজই অনুভব করেনি। সেবারেও তিনি তাঁর সে ঈপ্সিত হাসি হ...

গদ্যকার্টুন- গাছেরটাও খান, তলারটাও কুড়োন... by আনিসুল হক

আপনার অসুখ করেনি। কিন্তু আপনাকে দেওয়া হলো অভিজাত চিকিৎসাসেবা। আপনি ভোটে দাঁড়াননি। কিন্তু আপনি হয়ে গেলেন নির্বাচিত সাংসদ। আপনি অসুস্থ, কিন্তু আপনি খেলতে গেছেন গলফ। আপনার বউয়ের সঙ্গে আপনার বিরোধ। আপনি এখন বিরোধীদলীয় নেত্রীর সম্মানিত ও গর্বিত স্বামী। আপনার অবস্থান সরকারবিরোধী, কিন্তু আপনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। আপনি শপথ করেছিলেন, আপনি সুইসাইড করবেন, শেষে আপনি শপথ নিলেন সাংসদ হিসেবে। আপনি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী, এখন দুই গণতান্ত্রিক দলের সবচেয়ে কাম্য ধন। আপনিটা কে? আপনারা জানেন এই ধাঁধার উত্তর। এটা ছড়িয়েছে ফেসবুকে। কেউ একজন রচনা করেছেন। আদিতে কে করেছেন জানি না, তাই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পারলাম না। আচ্ছা, আপনি কে? এই নিয়ে একটা কৌতুক প্রচলিত আছে। বুশ-সংক্রান্ত কৌতুক। এটা আগে বলে নিই। বুশ গেলেন ব্রিটেনে। তিনি রানিকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, ব্রিটেনে দেশ চালানো হয় কীভাবে? রানি বললেন, বুদ্ধি দিয়ে। কেমন? আচ্ছা, এই যে টনি ব্লেয়ার। ওকে আমি জিজ্ঞেস করব একটা ধাঁধা। আচ্ছা টনি, বলো তো, একটা লোক, সে তোমার বাবার ছেলে, সে তোমার মায়ের ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নেই। লোকটা? টনি উত্তর দি...

রাষ্ট্রীয় সম্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন- চলে গেলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন by অমর সাহা @কলকাতা

দীর্ঘ ২৫ দিন লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। আজ শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল বেলভিউতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিকেল পাঁচটার দিকে ঐতিহাসিক কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর মরদেহ দাহ করা হয় চন্দন কাঠে। একমাত্র কন্যা মুনমুন সেন তাঁর মুখাগ্নি করেন। দেড়টার দিকে শ্মশানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশ মহানায়িকাকে ‘গান স্যালুট’ দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেন। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শ্মশান চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। শ্মশানের বাইরে ছিল ভক্তদের ভিড়। প্রিয় নায়িকাকে সেখান থেকেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। দুপুরে সুচিত্রা সেনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।  রবীন্দ্র সদনে কিংবদন্তি সুচিত্রা সেনের ছবি রাখা হয়। বেলা দুইটা থেকে সেখানে ভক্তেরা শ্রদ্ধা জানান। গত ২৩ ডিসেম্বর ফুসফ...