Skip to main content

Posts

Showing posts from July 16, 2011

প্রচ্ছদ রচনা : বর্ষা ।। শাহাদাত হোসাইন সাদিক

টিপ টিপ বৃষ্টি! রোদের লুকোচুরি খেলা। মেঘেদের ছুটে চলা। সবুজ সজীবতায় চারদিক। টিনের চালায় ঝুমঝুমাঝুম বৃষ্টি। এরই নাম বর্ষা। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রধান তিন ঋতুর মধ্যে বর্ষা অন্যতম। রঙিন বৈশাখ শেষে আম, কাঁঠালের জ্যৈষ্ঠ মাস। এ মাসে রুক্ষতা ছুঁয়ে থাকে প্রকৃতিতে। এক্কেবারে কাঠফাটা রোদ্দুর। এসব থেকে মুক্তি মিলে বর্ষায়। বর্ষা বাংলাদেশের আনন্দ- বেদনার এক ঋতু। টানা বর্ষণের পর পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন জেগে উঠে। বর্ষার আগমনে তাই বাংলার রূপ বদলে যায়। এসময় আকাশে সারাক্ষণ চলে ঘনকালো মেঘের আনাগোনা। সাধারণতঃ আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ষার আগমন অনেকটা আগেই ঘটে থাকে। কোন কোন সময় জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু করে আশ্বিণ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সে হিসেবে বর্ষা বাংলাদেশের দীর্ঘতম ঋতু। অনেক সময় দেখা যায় শরৎকেও পেরিয়ে যায় বর্ষা। বর্ষার আগমনে মানুষ, জীব- জন্তু, গাছপালা, পশু- পাখি সব যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। নদী- নালা, খাল- বিল পানিতে ভরে যায়। ফোটে কদম, কেয়া ফুলসহ আরো নানা ফুল। গাছে গাছে সবুজ পাতা আর নানা ফুলের সমারোহ। উর্বর হয়ে উঠে ফসলের ক্ষেত। সব মিলিয়ে প্রকৃতি এক অফুরান্ত সৌন্দর্যের উৎস হ...

কিশোর উপন্যাস : দ্বীনের জ্ঞান অর্জন ।। কামাল উদ্দিন রায়হান

মাহীন। পুরো নাম শফী উদ্দিন মাহীন। পরিবারে মা, দুই ভাই বোন আর সে। বাবা পরলোক গমন করেছেন অনেক আগেই। প্রায় বছর তিনেক হবে। মাহীন পরিবারে সবার বড় ছেলে। বাবা আগে সিএনজি চালাতেন। এছাড়া বড় গাড়ি চালিয়েও উপার্জন করতেন। বর্তমানে সে হাল মাহীনের উপর। মা এবং মাহীনই পরিবারের একমাত্র উপার্জক। মাহীনের পরে তার ছোট ভাই এরপর তার ছোট বোন। সবাই লেখাপড়া করছে। মাহীন প্রতিদিন সকাল আটটায় স্কুলে যায়, ফেরে দুপুর একটায়। বাসায় এসে দু-চারটে ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে। মাহীনদের বাসার পাশের এক ভদ্র লোকের ভাড়া করা সিএনজি চালায়। প্রতিদিন দুশো টাকা করে দিতে হয় গাড়ির জমা। দিন শেষে মা উচ্চবিত্ত এক পরিবারের ঘরে প্রতিদিন গিয়ে ঝিয়ের কাজ করে। মাহীন এখনমাত্র নবম শ্রেণীতে উঠেছে। ছোট ভাই অন্যএক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে। সবশেষে ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণীতে। মাহীন প্রতিদিন রাত নয়টার দিকে বাসায় ফিরে। প্রতিদিন নগদে যা উপার্জিত হয় তা দিয়েই ঘরের যা দরকার তাই খাবার নিয়ে আসে। এরপর সে হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসে। পড়া চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। পরে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে দুই ভাই বোনকে তাদের স্কুলে এগিয়ে দিয়ে নিজের স্কুলে চলে যায় মাহীন। স্কুল...

কুইক ম্যাথ (২য় পর্ব) ।। সারোয়ার সোহেন

নিলয়, আমার ভাগিনা। বরাবরের মতই এসে আমার সামনে খাতা আর কলম ফেলে বললো- নিলয় : “মামা আজ আরেকটা গণিতের কৌশল শিখিয়ে দাও।” আমি : “আমি কি অংকের মাস্টার নাকি যে আমার কাছে অংকের কৌশলের গোডাউন থাকবে?” (আমি ভ্রু কুচকে বললাম।) নিলয় : “অংকের স্যাররা শিখায় অংকের নিয়ম, আর তোমার কাছে শিখতে চাইছি অংকের মজার কোনো কৌশল, দুটো কি এক হলো নাকি?” নিলয় জবাব দিলো। আমি : “ঠিক আছে কি শিখতে চাও বলো।” নিলয় : সেদিনতো বর্গের কৌশল দেখিয়েছিলে আজও আরো কিছু বর্গের কৌশলই দেখিয়ে দাও। আমি : ঠিক আছে। আজ আমরা দেখব কি করে ১ দিয়ে শুরু হওয়া দুই অংকের সংখ্যাগুলির বর্গ নির্নয় করা যায়। মোট তিনটি ধাপ মনে রাখলেই ১ দিয়ে শুরু হওয়া যেকোনো দুই অংকের সংখ্যার বর্গ করে ফেলা সম্ভব। দেখ- প্রথমেই ১ দিয়ে শুরু হওয়া দুই অংকের একটি সংখ্যা নও। যেমন- ১৭ ১ম ধাপঃ উত্তরের শেষ অংক নির্নয়। দ্বিতীয় অংকটির বর্গকরে তার শেষ অংকটি লিখে প্রথম অংকটি হাতে রেখে দাও। যেমন- ৭^২ = ৪৯। অতএব শেষ অংক _ _ ৯। (হাতে রইলো ৪) ২য় ধাপঃ উত্তরের মাঝের অংক নির্নয়। দ্বিতীয় অংকটিকে আবার ২ দিয়ে গুণ করে হাতে থাকা সংখ্যাটি যোগ করে তার শেষ অংকটি লিখে প্রথম অংকটি হাতে রেখে দাও। যেমন- ...

বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ঐহিত্য ঢেঁকি ।। জহির রহমান

বর্তমান যান্ত্রিক যুগ। আধুনিকতার যুগ। কর্মব্যস্ত মানুষের ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে তেমনি যে কোন কাজ স্বল্প সময়ে স্বল্প শ্রমে দ্রুত সম্পন্ন করতে পারলেই মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচে। আধুনিক ও নতুন নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ অতীতের ঐতিহ্যবাহী অনেক অনেক জিনিসপত্রের ব্যবহার বা কর্মকান্ড যা তাদের জীবনাচারের সাথে ছিল অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত তা পরিত্যাগ করেছে কিংবা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই বরং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং সময় বাঁচাতে অতীতের অনেক কিছুই পরিত্যাগ করতে হয় এবং নিত্য নতুন অনেক কিছু সে জায়গা পুরণ করে নেয়ায় অতীত হয়ে যায় ইতিহাসের অংশ। কিন্তু আমাদের অতীত ঐতিহ্য ভুলে গেলে চলবেনা। জানা এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও জানানো প্রয়োজন। অতীতকে জেনেই ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সুফল লাভ হয় সহজ। আমাদের অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য সমাজ সংস্কৃতি ইত্যাদি যাতে ভুলে না যাই সচেতন মহলের সেদিকে নজর দেয়া অবশ্যই প্রয়োজন। চিরায়ত বাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই ইতিহাস ঐতিহ্যেরই একটি অংশ হচ্ছে আমাদের অতীতের বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় সমাজ সংস্কৃতির অংশ হল ঢেঁকি’র ব্যবহার। আগেকার যুগে প্রায় প্রত্যেকটি ...

জ্ঞানের শক্তি ।। মো: জামাল উদ্দিন

মোঘল শাসকদের আমলে এক বাদশাহ্ ছিল খুব বদ মেজাজী। এক রাতে সে স্বপ্নে দেখল তার সব গুলো দাঁত পড়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে সে তার রাজ্যের সব জ্ঞানী, বিদ্যান ও গনক-স্বপ্নের ব্যখ্যাকারীদেরকে একত্রিত করল। প্রথমে একজনকে ডেকে তার রাতে দেখা স্বপ্নের কথা বলল এবং তার ব্যখ্যা জানতে চাইল। স্বল্প বুদ্ধির সেই ব্যক্তি বেশী কিছু চিন্তা না করেই বলল, বাদশা নামদার! আপনার এই স্বপ্নটা খুবই খারাপ। বড়ই মন্দ এর প্রভাব। এর ব্যখ্যা হলো, আপনার সামনে আপনার পরিবার ও বংশের সকলেই একে একে মৃত্যুবরণ করবে। এই ব্যাখ্যা শুনে বাদশাহ খুবই খেপে গেল এবং জল্লাদকে ডেকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলো। এরপর আরেক জনকে ডাকা হলো। সেও এমনই ব্যাখ্যা করল এবং পূর্বের ব্যক্তির মতো প্রাণ হারালো। এভাবে কয়েকজনের পর এক বুদ্ধিমান ও বাগ্মী গণকের সন্ধান পাওয়া গেলো। রাজ দরবারে এসেই এক নিমিষে সব কিছু বুঝে ফেলল। তাই বিচক্ষণতার সাথে সকল জিজ্ঞাসার জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সে এসে রাজাকে তার স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার আশ্বাস দিলো। রাজা তার কাছে স্বীয় স্বপ্ন ব্যক্ত করে তার ব্যখ্যা জানতে চাইলো। লোকটি তখন কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো। অতঃপর একটি মুচকি হ...

একটুখানি রক্ত ত্যাগ ।। রাসেল আল ইমরান

পূর্ব প্রকাশের পর অপরাধ বোধ জেগে উঠল সবুজের মনে। রক্ত পাওয়া যায়নি? জানতে চাইলো সে। শেষ পর্যন্ত জোগাড় করতে পারিনি। কি আর করা। আমি দুঃখিত, মনির ভাই। মাথা নিচু করে বললো সবুজ। না- না। তুমি দুঃখিত হবে কেন ? হাজার হলে ও তুমি তো ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলে, সেটাও বা কম কি ? আসলে.......? লজ্জা আর গ্লানিতে মাথা উঁচু করতে পারলো না সবুজ। আমার মনটা ভালো নেই, ভাইয়া আমি আসি। পরে কথা হবে, কেমন ? কথা না বাড়িয়ে রওনা দেন মনির ভাই। বিষন্ন মনে ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে পা বাড়ায় সবুজ। কাছে আসতেই বাড়ির ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ কানে এলো তার। কি ব্যাপার ?দ্রুত পায়ে প্রবেশ করলে বাড়ির ভেতর। ড্রায়ং রুমে কয়েকজন মহিলা মা- কে ঘিরে রয়েছে। অবোধ ধারায় কাঁদছেন মা। কি হয়েছে মা ? সবুজকে দেখতে পেয়ে অবেগ উথলে উঠলো তার। জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কান্না শুরু করলেন। ব্যাকুল কন্ঠে জানতে চাইলো সে। তোর বাবা এক্সিডেন্ট করেছে। হসপাতালে আছে। অজ্ঞান। কি বলছো মা কিভাবে হলো? কোথায় হলো ? চিৎকার দিয়ে ওঠে সবুজ। অফিসের সামনে। রিক্সশার পেছনে ট্রাক বাড়ি মেরেছে। অনেক রক্ত ক্ষরন হয়েছে তার বাবার। পাঁচ ব্যাগ রক্ত লাগবে। রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছোনা। কাঁদতে থাক...

রহস্যঘেরা মাকড়সার জাল ।। তৈমুর রেজা

সুপারম্যান, ব্যাটম্যানের মতোই হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় স্পাইডারম্যান। মাকড়সার জালের মতো দেখতে রঙিন পোশাকে স্পাইডারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের কী অনায়াসেই না জব্দ করে। বন্দুক বা অন্য কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়। শত্রু দমনে মাকড়সা মানবের একমাত্র ভরসা মাকড়সার জাল। দুই হাতের কব্জি আর তালুর ঠিক মাঝখানের অংশটিতে পোশাকের তলায় স্পাইডারম্যানের লুকানো থাকে দুটি বিশেষ সুইচ বা বোতাম। এতে চাপ পড়লেই বেরিয়ে আসে মাইলের পর মাইলের দীর্ঘ মাকড়সার দুর্ভেদ্য জাল। আর এই জালে জড়িয়ে বদমায়েশের দল কেমন কুপোকাত হয় তা তো তোমরা মোটামুটি সবাই জান। শুধু মানুষই বা বলি কেন, স্পাইডারম্যানের এহেন অস্ত্রের জোরে বড় বড় পাথর, রেল আরও কতসব ভারী জিনিসপত্র উলটপালট খায়। স্পাইডারম্যানের সিনেমা যতই লোমহর্ষক হোক না কেন, সামান্য মাকড়সার জালের যে তেমনটা জোর নেই একথাই আমরা সাধারণত ভেবে থাকি। সিনেমার গরু গাছে ওঠে যে! কিন্তু এবার মনে হয় এসব ভাবনাচিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, মাকড়সার জালের অদ্ভুত শক্তির কথা। বিস্তর গবেষণার পর তাদের বক্তব্য, দেখতে সামান্য মনে হলেও ঘরের আনাচে-কানাচে জমে থাকা মাকড়...

মাহবুব খাঁনের দুইটি কবিতা

প্রেম তুমি কি? প্রেম তুমি কি? শিশির বিন্দু জল কুয়াশা ডাকা ভোরে একখন্ড রোদের ঝিলিক। প্রেম তুমি কি? হৃদয়ের আহাজারি কান্নাতে জীবন চলার ভয়ঙ্কর মহামারি প্রেম তুমি কি ? আসলে কিছু নয় জীবন ধবংস করার চাবিকাঠি।  এ কবিতা আমার ? এ কবিতা আমার পরশ পাথর, নিবেদিত প্রাণ এ কবিতা আমার স্মৃতির পাতা, প্রেম ভালোবাসা। এ কবিতা আমার আকুল আবেদন, আমার নয়ন ভরা জল। এ কবিতা আমার প্রাণের নায়ের বৈঠা জীবন নদীর জোয়ার ভাটা। এ কবিতা আমার পিছন ফিরে দেখা, বিপদে পথ চলা এলোমেলো কথার মালা এ কবিতা আমার বিপন্ন জীবন, স্মৃতির ডায়েরী এ কবিতা আমার রিক্ততা, ব্যস্ততা, ব্যকুলতা শূন্যতা, দুঃখ, গ্লানি হাসি আনন্দ উল্লাস। এ কবিতা আমার সুপ্ত বেদনা, অব্যক্ত উক্তি কিংবা আর্তনাদ এ কবিতা আমার নির্বাক চাহুনী, আত্মহুতি লন্ড ভন্ড ভালোবাসা, নিঃস্ব আশা ঠুনকো আশা, প্রেমের প্রাপ্তি এ কবিতা আমার হৃদয়ের স্বরলিপি, ব্যর্থতা অথবা স্বার্থকতা।

মুনাজাত ।। নাহিদা ইয়াসমিন নুশরাত

সিজদা পাওয়ার মত কেউ নেই কভূ হে আল্লাহ্ ! তুমি ছাড়া সুবিশাল ঐ পাহাড়ে তাইতো বহে তোমার প্রেমে ঝরণা ধারা। তোমার তাস্বীহ জপে গাছ-গাছালী আকাশ বাতাস সবি, তোমার নামেই নিত্য উঠে হেসে পূর্বাকাশে উত্তপ্ত রবি। হে রহমান! তুমিই তো বিছায়ে দিয়েছ ধরাতে সবুজের গালিচা, তোমার তাস্বীহ পড়ে তাই সারাক্ষণ ঝাউ আর সেগুন বাগিচা, হে খোদা! তোমার ইশারায় হল রাত নিকট কালো, যার মাঝে আছে মুক্তা সদৃশ তারকা আর কামারের আলো। হে বিচার দিবসের স্বামী! আমি তোমার অতি নগন্য এক বান্দাহ্, তোমার রহমের বারিতে ধুয়ে দাও আমার সকল গুনাহ্।

তোর জন্য সবটুকু ভালবাসা ।। মুক্তা

২২ শে জুলাই সবাই যখন Happy Birthday বলবে, তোর মা আর্শীবাদ হিসেবে চোখের জল ফেলবে। তুই যে আমার চোখের মণি সুখের আশার আলো, একদন্ড না দেখলে তোকে লাগেনাতো ভালো। তোর-ই জন্য আমার যত স্বপ্ন, আশা তোর জন্য আমার আছে সবটুকু ভালবাসা। দুঃখটাকে পিছে ফেলে তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি বড় হয়ে করবি পূরণ মায়ের যত আশা; এ যে আমার তোর জন্য সবটুকু ভালবাসা।

চাঁদের বুড়ি ।। আয়েশা আক্তার (কাজল)

দূর আকাশে বসে আছে চাঁদের বুড়ি মা, তাকে দেখে প্রণাম করে কচি পাখির ছা। মিটমিটিয়ে হাসে বুড়ি কচি পাখি দেখে, পাখির মনের প্রশ্ন জাগে বুড়ি কেন হাসে; তার কি কোন ভুল হয়েছে প্রণামের আগে। কিচির মিচির শব্দ করে উড়ে বেড়ায় আকাশে, ছন্দ তুলে রঙ্গ করে মিশে যায় বাতাসে। এমনি করে ঘুরে ফিরে ক্লান্ত পাখির ছা, তাই না দেখে হাসে কেবল চাঁদের বুড়ি মা।

আমার প্রিয় দেশ ।। তারেক রহমান

এই দেশটি জনম ভরই চলছে লালন করে, মায়ের মতো সোহাগ দিয়ে রাখছে বুকে ধরে। এই দেশটি শান্ত বড়ই রাগ করেনা কেউ, নদীর বুকে খেলে বেড়ায় শান্ত জলের ঢেউ। ব্যস্ত থাকে দামাল ছেলে ক্ষেত খামারের কাজে, কাজের শেষে বীরের বেশে ফিরবে আবার ঘরে। আমার যত স্বপ্ন আছে এই দেশটি নিয়ে, সকল স্বপ্ন পুরন হবে সোনার মানুষ দিয়ে।

চাঁদ নানা ।। শারমিন পড়শি

চাঁদ নানা চাঁদ নানা আমার কাছে আসোনা কেনো আমি ডাকি কাছে তোমায় আমার পাশে বসোন না কেনো ? চাঁদ নানা চাঁদ নানা সকাল হলে কই যাও হারিয়ে আমায় তুমি কেন রাগাও থাকো দূরে পালিয়ে ? চাঁদ নানা চাঁদ নানা একটা কথা রাখবে কি আমায় তুমি সাথে নিয়ে মেঘের ভেলায় ভাসবে কি ?

মায়ের আদেশ ।। মোহাম্মদ আল মাহী

সৎ পথে চলবে, দেশটাকে গড়বে। অন্যায় করবে না বিপথে যাবেনা। বড়দের কথা মানবে, পৃথিবীটাকে জানবে। মন দিয়ে পড়বে, ভালো রেজাল্ট করবে।

পেয়ারা চোর ।। মৃদুল হাসান

গাছের ডালে পেয়ারা দেখে বেহায়া ছেলে ভাবে, কেমন করে লুকিয়ে গিয়ে পেয়ারা গুলি খাবে? রাতের বেলা বুদ্ধি করে উঠল যখন ডালে পা পিছলে হুমড়ি খেয়ে পড়ল টিনের চালে। সবাই এসে করলো তাকে প্রচন্ড মার-ধোর, সেদিন থেকে নাম হলো তার ব্যর্থ পেয়ারা চোর।  রায়পুর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

আই কিউ জুলাই'১১

১। আপনি সেজে গুজে কোথাও যাচ্ছেন। পথের পাশে পুকুরে সাঁতার না জানা একটি ছেলে হাবুডুবু খাচ্ছে। আশে পাশে কোথাও কোন ঘর বাড়ি নেই। এমতাবস্থায় আপনি কী করবেন ? (ক) নিজেই নেমে পড়বেন (খ) দৌড়ে গিয়ে কাউকে ডেকে আনবেন (গ) দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখবেন (ঘ) চলে যাবেন। ২। কানি পাড়া ও মালি পাড়ার মধ্যে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যক্রমে কানিপাড়ার ব্যাটসম্যানরা ১০ বলে ১০ জন আউট হয়ে গেল। কয় নং ব্যাটসম্যান আউট না হয়ে অপরাজিত রইল? (ক) ২য় (খ) ৮ম (গ) ৭ম (ঘ) ১১তম। ৩। কোনজন সবার চেয়ে বেশি আলাদা ? (ক) মাশরাফী (খ) ব্রেট লি (গ) জহির খান (ঘ) মালিঙ্গা। ৪। কোন দুটি জিনিসের মধ্যে পারস্পারিক মিল আছে ? (ক) নাইট কুইন (খ) গোলাপ (গ) রজনীগন্ধা (ঘ) হাসনাহেনা। ৫। কিশোর সাহিত্যের প্রথম বিশেষ সংখ্যা কোনটি হবে ? আইকিউ জুন’১১ এর সমাধান ঃ (১) ২য় (২) কেরোসিনের (৩) পেনাল্টি ধরবেন (৪) উঠপাখি (৫)পালকি নিয়ে। ৫টি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়েছেন- আকলিমা আক্তার, রায়পুর এল.এম. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রায়পুর, মোঃ আইয়ুব আলী, ওপেন ইউনিভার্সিটি, রায়পুর, আবদুল বারী, রায়পুর, মোহসিন কামাল, লক্ষ্মীপুর, শারমিন পড়শি, লক্ষ্মীপুর, কামাল হোসেন, রায়পুর, আব্বাস আলী, ...

হাসুন প্রাণ খুলে

এক ব্যক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গাইছিল, ‘রূপে আমার আগুন জ্বলে রে। তখন বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি গাছে পানি দিচ্ছিলেন। তখন তিনি সেই গান শুনতে পেয়ে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিলেন। তখন নিচের লোকটা রেগে গিয়ে তাকে ধমকালেন, ‘এই মিঞা, আমার গায়ে পানি ঢাললেন কেন? তখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি উত্তর দিলেন, ভাই আমার কাছে ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার নাইতো তাই আপনার আগুন নিভাইয়া দিলাম। সংগ্রহে : মেহনাজ বিনতে সিরাজ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর থেকে। একজন মানুষকে টেলিগ্রাম করা হলঃ বউ মারা গেছে, কবর দিব নাকি পুড়িয়ে ফেলব ? সেই মানুষ সাথে সাথে উত্তর পাঠালঃ কোন রিস্ক নেবার দরকার নাই; প্রথমে পোড়ান, তারপর সেই ছাই কবর দিন।  সংগ্রহে : মুক্তা আক্তার, আলোনীয়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর। দৌড়ে ডাক্তারের কাছে এসে এক ভদ্র মহিলা জানালেন তার স্বামীর পেটে একটা ইঁদুর ঢুকে গেছে। ভয় নেই, ডাক্তার অভয় দিলেন। আপনার স্বামীর মুখের কাছে একটা শুঁটকি নাড়তে থাকুন, ইঁদুর বের হয়ে আসবে। আমিও এসে যাচ্ছি কিছেক্ষণের মধ্যে। বাড়ীতে গিয়ে ডাক্তার সাহেব দেখলেন ভদ্রমহিলা তার স্বামীর মুখের সামনে এক বাটি দুধ ধরে চুকচুক করছেন। কি ব্যা...

সম্পাদক ভাইয়ার কথা

প্রাণপ্রিয় বন্ধুরা, এই রিমঝিম বৃষ্টির মাঝে তোমরা আমাদের সালাম ও শুভেচ্ছা নাও। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছো। বর্ষা মানেই মন মাতানো ছন্দ। ছন্দের সাথে কি সবুজ মায়াবী প্রকৃতি! গ্রামের পথঘাট কাদায় পিচ্ছিল। খাল বিল কানায় কানায় ভরপুর। ভেজা মাঠ ও বাঁশবাগানে পা রাখতেই নাকে ভেসে আসে এক অন্যরক গন্ধ। এই সময়ে ঘরে কিংবা বারান্দায় বসে চাল ভাজা কিংবা মুড়ি খেতে খেতে বৃষ্টি দেখার মজাই আলাদা। আর তার সাথে যদি যুক্ত হয় দাদা- দাদীর গল্প- তাহলে তো কথাই নেই। বৃষ্টির মজা যেমন আছে, তেমনি তার অপর পাশে আছে নিদারুন কষ্ট এবং দুর্ভোগ। যারা গরিব, যাদের ঘরের চালে কুটো ফাঁকা হয়ে গেছে। যেখান থেকে টুপ টাপ করে ক্রমাগত বৃষ্টি ঝরে। যার কারণে তারা বৃষ্টির সময় না পারে শান্তিতে বসতে, আর না পারে রাতে ঘুমুতে। একটানা বৃষ্টি হলে কাজ জোটে না। এজন্য তাদের প্রায়ই অভুক্ত থাকতে হয়। আর যদি বন্যার মতো ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যায়- তাহলে তো তাদের দুঃখ কষ্টের আর কোন সীমা- পরিসীমা থাকে না। বর্ষার চরিত্রতো এমনি। আমাদের উচিত- নিজেদের সাধ্যমতো দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সহযোগিতা করা।  আজ এ পর্যন্তই। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো এ প্রত্যাশায়......

এ সংখ্যার কবিতা : আষাঢ় ।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে । ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝর - ঝর , আউশের খেত জলে ভর - ভর , কালী - মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ্? চাহি রে। ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে । ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন , ধবলীরে আনো গোহালে। এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে । দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্? দেখি মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি ? রাখাল - বালক কী জানি কোথায় সারাদিন আজি খোয়ালে। এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে । শোনো শোনো ওই পারে যাবে ব'লে কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে। খেয়া - পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে । পূবে হাওয়া বয় , কূলে নেই কেউ , দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ , দরদর বেগে জলে পড়ি জল ছলছল উঠে বাজি রে ।