Skip to main content

জ্ঞানের শক্তি ।। মো: জামাল উদ্দিন

মোঘল শাসকদের আমলে এক বাদশাহ্ ছিল খুব বদ মেজাজী। এক রাতে সে স্বপ্নে দেখল তার সব গুলো দাঁত পড়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে সে তার রাজ্যের সব জ্ঞানী, বিদ্যান ও গনক-স্বপ্নের ব্যখ্যাকারীদেরকে একত্রিত করল। প্রথমে একজনকে ডেকে তার রাতে দেখা স্বপ্নের কথা বলল এবং তার ব্যখ্যা জানতে চাইল।
স্বল্প বুদ্ধির সেই ব্যক্তি বেশী কিছু চিন্তা না করেই বলল, বাদশা নামদার! আপনার এই স্বপ্নটা খুবই খারাপ। বড়ই মন্দ এর প্রভাব। এর ব্যখ্যা হলো, আপনার সামনে আপনার পরিবার ও বংশের সকলেই একে একে মৃত্যুবরণ করবে।

এই ব্যাখ্যা শুনে বাদশাহ খুবই খেপে গেল এবং জল্লাদকে ডেকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলো।
এরপর আরেক জনকে ডাকা হলো। সেও এমনই ব্যাখ্যা করল এবং পূর্বের ব্যক্তির মতো প্রাণ হারালো। এভাবে কয়েকজনের পর এক বুদ্ধিমান ও বাগ্মী গণকের সন্ধান পাওয়া গেলো। রাজ দরবারে এসেই এক নিমিষে সব কিছু বুঝে ফেলল। তাই বিচক্ষণতার সাথে সকল জিজ্ঞাসার জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।
সে এসে রাজাকে তার স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার আশ্বাস দিলো। রাজা তার কাছে স্বীয় স্বপ্ন ব্যক্ত করে তার ব্যখ্যা জানতে চাইলো। লোকটি তখন কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো। অতঃপর একটি মুচকি হাসি দিয়ে বাদশাকে লক্ষ্য করে বলল,
রাজা মশাই! আপনি তো খুবই ভালো ও উত্তম একটি স্বপ্ন দেখেছেন। এধরণের স্বপ্ন খুব কম লোকেই দেখে থাকে। আর খুব রাজা-বাদশার ভাগ্যেই এধরণের সু সংবাদ এসে থাকে।
তার এই কথায় বাদশাহ তো অস্থির। এতক্ষণ সকলেই তাকে কেবল খারাপ আর দুঃসংবাদ শোনালো। আর অপরিচিত এই নতুন আগন্তুক কিনা তাকে শোনাবে মহা সুসংবাদ! তাই অস্থির হয়ে রাজা জিজ্ঞেস করলো, কি সেই সুসংবাদ? কি সেই সৌভাগ্য? আমাকে তারাতাড়ি বলো।
পণ্ডিত তখন আয়েশ করে বলল, আপনার দেখা স্বপ্নের ব্যখ্যা হচ্ছে, আপনি আপনার পরিবার-পরিজন ও বংশের সকলের থেকে বেশী হায়াত ও দীর্ঘজীবন লাভ করবেন। আপনার বংশ ও পরিবারের মধ্যে সকলের থেকে বেশী সময় আপনি জীবিত থাকবেন। কেউ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
তার এই ব্যখ্যা শুনে রাজা তো আনন্দে আত্মহারা। খুশিতে মাতোয়ারা। আর যায় কোথায়। সাথে সাথে তাকে অঢেল ধন-সম্পদ দিয়ে তাকে নিজ রাজ্যের মন্ত্রী পদে আসীন করলো।

দেখলে তো একই বিষয় একটু ঘুরিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার কারণে একজন পেল অশেষ সাধুবাদ ও ধন-দৌলত। আর একই বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারার কারণে অন্যরা দণ্ডিত হলো মৃত্যুদণ্ডে। তাই আমাদেরকেও এমন সুন্দর উপস্থাপনা ও কৌশলপূর্ণ কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যাতে করে জালিমদের সামনে এবং প্রয়োজনে মিথ্যা না বলে থাকতে পারি।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...