Skip to main content

Posts

Showing posts from January 16, 2014

সহিংসতা- ‘ত্রাণ চাই না, চাই নিরাপত্তা’ by ইলিরা দেওয়ান

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির একটি পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে এসবের পরও প্রশাসন কিংবা সরকারের টনক নড়েনি। কিন্তু যখন সংখ্যালঘুদের পাড়াগুলো সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে, তখনই প্রশাসন এগিয়ে এসেছে। অথচ হামলার আশঙ্কায় প্রশাসন কিংবা সরকারি দলের নেতাদের সাহায্য চাওয়া হলেও তাঁরা সম্পূর্ণ নির্বিকার ছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও অন্যান্য ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালনের কথা সংবিধানে বলা আছে। কিন্তু এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রতিটি হামলায় উগ্র ধর্মান্ধতা কাজ করেছে। দেশের বাইরে কোথাও ‘ইসলাম ধর্ম’ আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর প্রভাব এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর এসে বর্তায়! এখানে জাতীয় নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের দায়ও যেন সংখ্যালঘুদের অবধারিতভাবে বহন করতে হয়! এ দেশে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি বেদখল করার অন্যতম কৌশলও হলো খোঁড়া অজুহাতে তাদের ওপর হামলা চালানো এবং রাতের আঁধারে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে দিনদুপুরে তাদের পরিবারের নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন করা! যাতে করে নিজের ও পরিবারের সম্মান বাঁচাতে ওই পরিবার কোনো এক নিশীথে দেশ ...

অমল সেন- একজন পরিপূর্ণমানব by রাশেদ খান মেনন @সভাপতি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি

কমরেড চলে গেছেন ১১ বছর হয়। কিন্তু কমরেড অমল সেন বেঁচে আছেন এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে। সবার কাছে নয়। শহুরে বুদ্ধিজীবীরা তাঁকে চিনতেন হয়তো বা। কিন্তু যে প্রচার আলোক একজন অখ্যাত ব্যক্তিকেও পরিচিতি দেয়, সে ধরনের কোনো প্রচার তাঁর সম্পর্কে ছিল না। এমনকি তাঁর মৃত্যুর সংবাদও দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ফলাও করে প্রচার হয়নি। কিন্তু তিনি বেঁচে ছিলেন এবং আছেন সেই কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে, যাদের তিনি কেবল আন্দোলনেই সংগঠিত করেননি, তাদের জীবনবোধে পরিবর্তন এনে দিয়েছিলেন। তাদের উন্নত চিন্তায় উন্নত করেছেন। এ দেশে কৃষক আন্দোলনের অনন্য অধ্যায় তেভাগা সংগ্রাম। চল্লিশের দশকে এই সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল উত্তর বাংলার দিনাজপুর, রংপুর, কোচবিহার ও মেদিনীপুর অঞ্চলে। দক্ষিণ বাংলায় সেই সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল যশোর, খুলনাকে কেন্দ্র করে। এই তেভাগা সংগ্রামের মূল অঞ্চল ছিল নড়াইলের এগারখান অঞ্চল। এ অঞ্চলজুড়ে কমরেড অমল সেন কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন প্রথমে হাটতোলা, খাজনা ইত্যাদি প্রশ্নে। পরবর্তীকালে তেভাগার দাবিতে। নড়াইল অঞ্চলের তেভাগার সংগ্রামই দাবি আদায় ও কার্যকারিতার দিক থেকে সবচেয়ে সফল সংগ্রাম ছিল। নড়াইলের ক...

গণতন্ত্র- কোন ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর বসে আছি? by শেখ হাফিজুর রহমান

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে যতটা ‘স্পেস’ নিয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি বিরল এক ঘটনা। নির্বাচনের পরে ১২ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমস-এ যে প্রতিবেদন ছাপা হয়, সেই প্রতিবেদনের একটি জায়গায় বলা হয়েছে, ‘বিজয়ীই সব ক্ষমতার অধিকারী হবে—এটাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ জন্য বিজয়ী হতে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সব ধরনের বাজি ধরেন দুই নেত্রী। এবার নির্বাচন বয়কট এবং রাজপথে সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে লক্ষ্যপূরণের বাজি ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। আর শেখ হাসিনা বাজি ধরেছিলেন প্রধান বিরোধী দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার। ধরে নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা এতটা কঠোর হবে না, যাতে তাকে পিছু হটে নতুন করে নির্বাচন করতে হয়। এখন মনে হচ্ছে, বাজিতে জিতে শেখ হাসিনা সব পাওনা কুড়িয়ে নিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে নতুন নির্বাচনের বিষয়ে কেউ আর তেমন জোর দিয়ে কিছু বলছে না...’ (প্রথম আলো, ১৩ জানুয়ারি ২০১৪।) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘একদলীয় শাসনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’। নির্বাচনের পর যে সর্বদল...

খোলা হাওয়া- সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শেষ কোথায়? by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

বাংলাদেশে গত দুই-আড়াই দশকে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতে হয় আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি জিতেছে। একটি দল একবার হারলে আরেকবার জেতার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনেই একটি পক্ষ বারে বারে হেরেছে—সেই পক্ষটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তারা ভোট দিতে গেলে জামায়াত-বিএনপির কোপানলে পড়ে, না দিতে গেলে আওয়ামী লীগের রোষের শিকার হয়। বিএনপি-জামায়াত বিশ্বাস করে, সংখ্যালঘুরা আওয়ামীপন্থী; আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, তাদের ভোট না দিয়ে সংখ্যালঘুদের উপায় নেই। ফলে নির্বাচনের মৌসুম শুরু হলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানেরা আতঙ্কে থাকেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দুদের ওপর যে বর্বর নির্যাতন করা হয়েছিল রামসাগর ও অন্যান্য জায়গায়, তার তুলনা দেখা গেছে শুধু একাত্তর সালে। দেশের মানুষ এই বর্বরতার প্রতিবাদ জানিয়েছিল, সরকার একটি কমিটি করে তদন্তও করেছিল। কমিটি একপ্রস্থ সুপারিশও তৈরি করেছিল। কিন্তু সে অনুযায়ী কোনো কাজ হয়নি। গত ১৩ বছরে বরং যা হয়েছে, তাকে বলা যায় নিরবচ্ছিন্ন ঠোঁটসেবা। যে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ হিন্দুসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর এত নির্যাতন, ঠোঁটসেবাটা তারাই বেশি দিয়েছে। কথা অনেক হয়েছে, কিন...

সরল গরল- খালেদা জিয়ার ভ্রান্তিবিলাস by মিজানুর রহমান খান

খালেদা জিয়ার গতকালের বক্তব্যের নতুন ইঙ্গিত হচ্ছে বিদ্যমান নির্বাচনী ও সংসদ গঠনব্যবস্থা পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করা। বলেছেন, সংসদে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ আনবেন। তিনি নির্বাচনকালীন সরকার চান। তবে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংসদ ও নির্বাচনপদ্ধতির যুগোপযোগী সংস্কার নিয়ে আলোচনা চান না। মনে হচ্ছে, বিধ্বস্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখতে ভাষণটিকে একটি ক্ষমতামুখী মেজাজ দিতে চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু নিজেকে কিংবা দলকে বদলানোর ইঙ্গিত দিলেন না। তাঁর দলের গণতন্ত্র যে মৃত, তা তিনি দেখেননি। এই ভাষণ তাই ভীষণ হতাশ করেছে। খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘নির্বাচনের নামে গত ৫ জানুয়ারির আওয়ামী প্রহসন হাতে-কলমে প্রমাণ করেছে, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি কতটা যৌক্তিক। প্রমাণ হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হতে পারে না।’ তাঁর এ বক্তব্যে নতুনত্ব নেই। কুড়ি দফা সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সকলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা অস্থায়ী রূপরেখা নির্ণয় করা হবে।’ আ...