Skip to main content

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- একাদশ সংসদই এখন লক্ষ্য by এম সাখাওয়াত হোসেন

আমরা আশা করেছিলাম, যত জটিলতার মধ্য দিয়ে হোক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে উৎসাহের মধ্য দিয়ে হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সে রকমই একটা পরিবেশে হবে।
কিন্তু যখন উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হলো, তখনই আমরা বেশির ভাগই নিশ্চিত ছিলাম যে সমস্যা হবে। বাংলাদেশে সংসদ রেখে নির্বাচন করা খুব কঠিন। তার পরই দুই দলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়ে গেল। অবরোধের বেলায় দুই ধরনের শক্তি সমান্তরালে কাজ করেছে। সহিংস শক্তি কাজ করেছে, যাদের শীর্ষভাগই জামায়াত ও শিবিরের, যাদের নেতাদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলন মিলে গিয়ে সহিংস আন্দোলনের চেহারা পেয়েছে। অপরদিকে সরকার যেভাবে দমনের প্রক্রিয়ায় গেছে, তাতেও পরিস্থিতির আরও অবনতি নিশ্চিত হয়।
এরই মধ্যে হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করল। আমাদের সময়ও আমরা তিনবার নির্বাচনের তারিখ বদলিয়ে তৎকালীন বিরোধীদের নির্বাচনে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এবারও যদি প্রয়োজনে তফসিল পরিবর্তন করে বিরোধী দলকে আরও স্পেস দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো ফল অন্য রকম হতেও পারত। কিন্তু সেদিকে মোটেই সচেষ্ট হওয়া হলো না।
সরকারি দলও ধাক্কা খেল। তারা ভেবেছিল যেসব দল নির্বাচনে যোগ দেবে, এমনকি যে বামপন্থী দলগুলো আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিল, তারাও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল। এমনকি জাতীয় পার্টি গত পাঁচ বছর মহাজোটে থেকেও নির্বাচনে রইল না। বিশাল প্রার্থী-সংকটের মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়া গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল এ রকম একটি ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিল না। বিরোধী দলও কিছু ছাড় দিয়ে কিছু আদায় করে নির্বাচনে আসতে পারত, কিন্তু তারা আসেনি।
এখন নির্বাচনে যা-ই ভোট পড়ুক না কেন, তা এই ১৫৩ জনের নির্বাচিত হওয়ার কলঙ্কের পরিপূরণ ঘটাবে না। নির্বাচনে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়, তখন বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও আগ্রহ হারান। কত ভোট পড়বে, তা তাই বড় বিষয় নয়, এটা গণতন্ত্রের জন্য কতখানি সহায়ক হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এরপর কী হবে? সরকারও বলছে এটা নিয়মরক্ষার নির্বাচন। ২৪ জানুয়ারির পরে আরেকটি সংসদ গঠিত হওয়ার পর সরকার শিগগিরই সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করার মনোবৃত্তি নিয়ে এগিয়ে আসে কি না, সেটা এখন দেখার বিষয়। সরকার যদি তা করতে পারে, তাহলে বর্তমানের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থা কাটিয়ে ওঠা যাবে। এর পরে সরকারের প্রধান কাজ হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিরোধী দলকে নিয়ে আসার জন্য যা যা করা দরকার, তা করা। বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে ছাড় দিয়ে হলেও নির্বাচনে আসার। ১৯৯৬ সালে যেমন হয়েছিল, আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সংহত করা না গেলে দেশে ও বাইরে আমরা খুবই চাপের মুখে পড়ব।
এম সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক নির্বাচন কমিশনার।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...