Skip to main content

কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- একতরফা নির্বাচন এড়ানো যেত by সালমা খান

সংবিধানের মূল চেতনা হলো গণতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হচ্ছে, আজকের নির্বাচনে সেটি হচ্ছে না।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের কথা হলো, জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। এই নির্বাচনে তাদের মালিকানা স্বীকার করা হচ্ছে না।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল, সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা অনায়াসেই সেই নির্বাচন পেতে পারতাম। দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থান সত্ত্বেও আমি মনে করি, একটি সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব হতো না। সমঝোতা মানে এক পক্ষের কাছে অপর পক্ষের হার নয়। আলোচনার টেবিলে কিন্তু অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল। সেগুলো নিয়ে বসলে একতরফা নির্বাচন এড়ানো যেত।
আন্দোলন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী দলের নেতার অবস্থান কী? সরকার বলছে, তিনি গৃহবন্দী নন। কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে যে পুলিশবেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে, তাঁকে ঘর থেকেও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।
জামায়াতে ইসলামী নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনেক কথা বলেন। তাঁরা এদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন। আমরা দেখে এসেছি, জামায়াতকে সব দলই তাদের রাজনৈতিক দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যবহার করে এসেছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীকে মতামত শুনতে হয়। কিন্তু আমাদের বোঝানো হয়, একটি দল ও গোষ্ঠীই দেশকে ভালোবাসে।
দেশে যখন একটি আতঙ্কগ্রস্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন কীভাবে নির্বাচন হবে? অনেকে স্বেচ্ছায় ভোট দিতে যাবেন না, অনেকে ভয়ে যাবেন না। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী আস্থাহীনতায় আছে। তারা বুঝতে পারছে না, কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে?
তবে আমি মনে করি, এ সংকট সাময়িক। আমাদের দেশের মানুষ অনেক বেশি সৃজনশীল ও সচেতন। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার দৃঢ়বিশ্বাস আছে। এই সাধারণ মানুষই সমাধানের একটি পথ বের করে আনবে।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূলে যে একনায়কত্ববাদী ব্যবস্থা, তারও অবসান হবে। কিন্তু সেটি বাইরের কেউ করবে না, দলের ভেতর থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।
সালমা খান: নারীনেত্রী।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

আই কিউ- মে'২০১১

আই কিউ মে'২০১১ ১। যদি একটি শার্ট শুকাতে ১০ মিনিট সময় লাগে তবে ১০টি শার্ট শুকাতে কত সময় লাগবে ? (ক) ১০ মিনিট (খ) ৪০ মিনিট (গ) ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট (ঘ) ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট। ২। নিচের কোন জন অন্যদের থেকে আলাদা ? (ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) আল মাহমুদ (ঘ) সুকুমার রায়। ৩। সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই হতে হবে- (ক) রসিক (খ) পরিশ্রমী (গ) বাধ্য (ঘ) ধনী। ৪। পল্লী কবি বলা হয় কাকে ? (ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) ফররুখ আহমদ (গ) সুকুমার রায় (ঘ) জসীম উদ্দিন। ৫। ডাব না খেলে কি হয় ? আইকিউ এপ্রিল’১১ এর সমাধান ঃ (১) ৬টি (২) টাকাটা পুড়ে ফেলবেন (৩) ১৭ টি (৪) প্রেসার বেড়েছে (৫) ডিম (বাচ্ছা জন্মানোর আগেই আমরা খেয়ে ফেলি। বিরাম চিহ্নের প্রতি আরো বেশি যতœবান হতে হবে) তিনটির সঠিক জবাব দিয়েছেন- পূর্ণিমা আক্তার, তারেক হোসেন, সাজিয়া আক্তার সীমা, আবদুস সালাম, মোবারক উল্যা ত্বোহা, আনোয়ার হোসেন, ইমরান মুহাম্মদ, আসমা আক্তার, চরপাতা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর। উম্মে হানি, নতুন বাজার, রায়পুর, আরজুন নাহার (মিতু), হাফিজুর রহমান আকাশ, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাহেদুল ইসলাম রাজু, রায়পুর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর...

ফিল্মি কায়দায় ৩ জঙ্গি ছিনতাই by মতিউল আলম, খালিদ মাসুদ, ও সাইফুল ইসলাম সানি

ফিল্মি স্টাইলে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে সাজাপ্রাপ্ত ৩ জেএমবি সদস্যকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের সাত ঘণ্টার মাথায় টাঙ্গাইল থেকে জঙ্গি সদস্য রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি দু’জনের খোঁজ মেলেনি। এদিকে এ ঘটনার পর সীমান্ত ও দেশের সব কারাগারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ ও অন্যজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে রাতে গাজীপুর থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ে সহযোগিতার অভিযোগে আটক জাকারিয়ার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। ছিনতাইকৃত আসামিরা হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন, রাকিব হাসান এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বোমা মিজান। ঘটনার সময় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলি ও বোমার আঘাতে আতিকুর রহমান (৩২) নামে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলিবিদ্ধ এসআই হাবিবুর রহমান (৫০) ও সোহেল রানাকে (৩০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  নিহত আতিকের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পণ ঘাগড়া গ্রামে। এ ঘটনার পর পালানোর সময় টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে জা...