Skip to main content

‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ আসামি বিরোধী দলের নেতা। এ ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিয়ে লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ ‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নিজ দেশের বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করতে যা করা প্রয়োজন, সবই করছে সরকার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে অসুস্থ করার জন্য এ পদক্ষেপগুলোই যথেষ্ট। প্রতিবেদনটির শুরুতে বলা হয়েছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র পৌঁছানোর ১০ বছর পর অভিযুক্তরা শাস্তি পেলেন। বছরের পর বছর পার অতিক্রান্ত হলেও এ ইস্যুতে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা একরকম থমকে ছিল। অস্ত্র চালানের সঙ্গে জড়িতদের তখন চিহ্নিত করা হয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখাননি। ২০০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়। এ বছরের ৩০শে জানুয়ারি অস্ত্র-পাচারের অভিযুক্ত ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, যার অধিকাংশই ছিলেন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা। এ অভিযোগে জড়ানো হয়েছে তারেক রহমানের নামও। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর যিনি অস্ত্রের চালানের বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একে একে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। সরকারি দমন-পীড়নে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামী কোন সহিংস আন্দোলনে নামতে পারছে না বলে উল্লেখ করা হয় এতে। অন্যদিকে, একতরফা নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোশ মেজাজেই রয়েছেন। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে ভারতও বেশ সন্তুষ্ট। নির্বাচনেও শুধু ভারতের স্বীকৃতি ছিল। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত ভারত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইসলামের নীতি অনুসরণকারী কোন দলকে ভারত সরকার ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যা কমাতেও বদ্ধপরিকর ভারত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারও ভারত সরকারের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই এগোচ্ছে। সে লক্ষ্যে নিজ দেশের বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করতে যা করা প্রয়োজন, তার সবই করছে ক্ষমতাসীন দল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে অসুস্থ করার জন্য এ পদক্ষেপগুলোই যথেষ্ট। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাইরে থেকে প্রতীয়মান এ শান্ত অবস্থা কিছু সময়ের জন্য বলবৎ থাকবে।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...