Skip to main content

কুইক ম্যাথ (১ম পর্ব) ।। সারোয়ার সোহেন


সুপ্রিয় বন্ধুরা !
সালাম ও শুভেচ্ছা রইল। অঙ্ক অনেকের কাছে অনেকটা জিলাপির প্যঁচের মত মনে হয়, তবে জিলাপি যেমন মুখে দিলে সুমিষ্ট তেমনি অঙ্ক বুঝলে সহজ। অঙ্ক নিয়ে কারো কোন সমস্যা, জিজ্ঞাসা, জানতে চাওয়া ইত্যাদি থাকলে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন। আপনাদের জিজ্ঞাসা, জানতে চাওয়া এবং সমস্যার সমাধান দেবেন সারোয়ার সোহান। ধন্যবাদ সবাইকে।                                                                      - বি.স

সেদিন বসে বসে একটি উপন্যাস পড়ছি, তখন আমার ভাগনে নিলয় হঠাৎ এসে হাজির। ও আসলে আমি একটু সংকিত থাকি, হুটহাট প্রশ্ন করে বসে আমাকে। কখনো গণিত নিয়ে, কখনো বিজ্ঞান নিয়ে, কখনোবা সাধারণ জ্ঞানের। আসলে নিলয় যে প্রশ্নগুলির উত্তর জানে না, সেগুলিই এসে আমাকে জিজ্ঞাস করে-করে জেনে নেয়। নিলয় আমার সামনে এসে দাঁড়াতেই আমি বইটি বন্ধ করে ওর দিকে তাকালাম। মনে মনে ওর প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছি। শুধু বুঝতে পারছি না আজকের প্রশ্নের বিষয় বস্তু কি হবে।

আমি : কি নিলয়, কিছু বলবা?
নিলয় : হে মামা।
আমি : বলো।
নিলয় : কয়েকটা সংখ্যার বর্গ করে দিতে হবে।
(টিকা- বর্গ করার অর্থ হচ্ছে কোনো সংখ্যাকে সেই সংখ্যা দিয়ে গুণ করাযেমন ৪*৪=১৬ বা ৫*৫=২৫এখানে আমরা বলবো ৪ এর বর্গ হচ্ছে ১৬ আর ৫ এর বর্গ হচ্ছে ২৫বর্গকে প্রকাশ করা হয় সংখ্যার উপরে ছোট করে ২ লিখেযেমন ৪২=১৬ বা ৫২=২৫ ইত্যাদি।)
আমি : তা সমস্যা কি? ক্যালকুলেটারটা নিয়ে আসো, এক মিনিটও লাগবে না উত্তর বের করতে, যত বড় সংখ্যাই হোক।
নিলয় : (মুচকি হেসে) ক্যালকুলেটারের উপরে পানি পড়ে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে, কাজ করে না।
আমি : ঠিক আছে, বলো কোন সংখ্যার বর্গ করতে হবে?
নিলয় : পাঁচ অংকের সংখ্যা, পাঁচটা এক। (১১১১১২)
আমি : এর উত্তর তো একেবারে সহজ ১২৩৪৫৪৩২১। (আমি সাথে সাথে বলে দিলাম)
নিলয় : আন্দাজে বলতেছো!!! এতো বড় একটা সংখ্যার বর্গ তুমি কাগজে কলমে না করে একসেকেণ্ডের মধ্যে বলে ফেললা। নিশ্চই আন্দাজে বলছো।
আমি: না নিলয়, আন্দাজে না। এটা সত্যিই খুব সোজা।
নিলয় : তাহলে ছয়টা এক থাকলে তার বর্গ কত হবে তা বলো? (১১১১১১২)
আমি : উত্তর হবে ১২৩৪৫৬৫৪৩২১।
নিলয় : অসম্ভব!! এতো দ্রুত তুমি মুখে মুখে এতো বড় একটা সংখ্যার বর্গ কিছুতেই বের করতে পারবে না। হয় এই উত্তরটা ভুল নইলে তুমি উত্তরটা আগেই জান।
আমি : উত্তরটা সঠিক নিলয়। আসলে শুধু মাত্র এক দিয়ে তৈরি সংখ্যার বর্গ বের করা খুবই সহজ। একবার বলে দিলে তুমিও বের করেত পারবে অনায়াসে।
নিলয় : তাহলে আমাকে শিখায়ে দাও?
আমি : ঠিক আছে। একটু লক্ষ্য করো……

যদি তোমাকে কেউ প্রশ্ন করে ১১১১১১ (ছয়টি ১)এর বর্গ কত?
প্রথমেই গুণে ফেলো কতটি ১ আছে। এখানে ছয়টি এক আছে দেখতেই পারতেছো ।
যেহেতু ছয়টি এক আছে তাই তুমি ১ থেকে ৬ পর্যন্ত লিখ, এবং সেই ৬ থেকেই আবার উল্টোগুণে ১ পর্যন্ত লিখে ফেলো।
যেমনঃ ১২৩৪৫৬৫৪৩২১।
এটাই উত্তর।

নিলয় : এতো সহজ!!!
আমি : হে, এতোই সহজ।

আবার যদি ১ এর সংখ্যা হয় ৯টি (১১১১১১১১১) তাহলে?
কোনো ব্যাপারই না, আগের মতই  ১ থেকে ৯ পর্যন্ত লিখ, এবং সেই ৯ থেকেই আবার উল্টোগুণে ১ পর্যন্ত লিখে ফেলো।
যেমনঃ ১২৩৪৫৬৭৮৯৮৭৬৫৪৩২১।
বর্গ করা হয়ে গেলো।
এভাবে দুই থেকে নয়টি পর্যন্ত রিপিটেট ১ থাকলে ঝটপট তাদের বর্গ নির্ণয় করে ফেলতে পারবে তুমি।



বন্ধুরা এই বুদ্ধিটি শুধু নিলয়ের জন্য না, বরং তোমাদের সকলের জন্যই দিলাম। আমার কথা বিশ্বাস না হলে তোমরা নিজেরাই ক্যালকুলেটার নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পার। তোমাদের ক্যালকুরেটার নিশ্চই নষ্ট হয়নি। নিচে আমি উত্তরগুলি দিয়ে দিচ্ছি তোমরা মিলিয়ে নিও।

১১ = ১২১
১১১ =১২৩২১
১১১১ =১২৩৪৩২১
১১১১১ =১২৩৪৫৪৩২১
১১১১১১ =১২৩৪৫৬৫৪৩২১
১১১১১১১ =১২৩৪৫৬৭৬৫৪৩২১
১১১১১১১১ =১২৩৪৫৬৭৮৭৬৫৪৩২১
১১১১১১১১১ =১২৩৪৫৬৭৮৯৮৭৬৫৪৩২১

যেকোনো ভুল বা অস্বচ্ছতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সকলের কাছে। কোনো ভুল দেখলে বা কিছু জানার থাকলে আমাকে ই-মেইল করতে পারেন qshohenq@gmail.com ঠিকানায়।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...