Skip to main content

সাহাবা চরিত : হযরত সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী ।। মুহাম্মদ নূর হাসান

আজ তোমাদের এমন এক সাহাবীর কথা শোনাবো, যার নাম হলো- হযরত সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী (রাঃ)। যার ঘটনা শুনে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারবো। আর বুঝতে পারবো আল্লাহর নবী (সাঃ) এর সাহাবীদের মতাদর্শ ও জীবন প্রবাহ কেমন ছিল। আজো যদি আমরা সেই আদর্শ গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমাদের জীবন ও সমাজ পাল্টে যাবে। তাহলে একটু পিছন থেকেই বলতে হয়।

হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর সাহাবী হযরত খোবাইব (রাঃ) কে বিশ্বাকঘাতকতার মাধ্যমে আটক করে শুলিতে চড়িয়ে হত্যার জন্য আরব নেতৃবৃন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে চারিদিকে দণ্ডায়মান। সেই শোভাযাত্রার অতি সম্মুখে অগ্রগামী ছিলেন যুবক সাঈদ। তারা খোবাইবকে হত্যার মাধ্যমে বদরের যুদ্ধে নিহত কুরাইশদের বদলা নিতে চায়। যখন তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন খোবায়েবের শেষ চাওয়া মোতাবেক তাঁকে দু’রাকাত নামায আদায়ের সুযোগ দিয়েছিল। খোবাইব কাবামূখী হয়ে দু’রাকাত সালাত আদায় করছেন। হায়! কতইনা সুন্দর ঐ দু’রাকাত সালাত। কিন্তু অতি দ্রুত শেষ হয়ে গেল মধুর দৃশ্যের সেই দুটি রাকাত। অতঃপর সে দেখল খোবাইব কুরাইশ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলছে, যদি তোমরা এই ধারণা না করতে যে, ‘মৃত্যুর ভয়ে আমি সালাত লম্বা করছি’ আল্লাহর শপথ তাহলে আমি নামায আরো দীর্ঘায়িত করতাম।
অতঃপর সাঈদ অত্যান্ত নিকট থেকে দেখতে পেল কুরাইশরা জীবন্ত বন্দী খোবাইবের দেহে শূঁচালো বর্শার শলা দিয়ে খুুঁচিয়ে খুঁচিয়ে শরীর থেকে চামড়া মাংস খুলছে। উপর্যুপুরি আঘাত করে একের পর এক দেহাংশ কেটে অঙ্গ বিকৃত করতে করতে বলছে, খোবায়েব, তুমি কি এ প্রস্তাব পছন্দ করবে যে, ‘মুহাম্মদ তোমার স্থলে হোক, বিনিময়ে তুমি মুক্ত হয়ে যাও?’ বিক্ষত সমস্ত শরীর টপ টপ করে রক্ত ঝরছে আর নেতিয়ে পড়া মৃত প্রায় দেহটি গর্জে উঠে বলছে, “আল্লাহর কসম! আমি এ প্রস্তাব পছন্দ করিনা যে, আমি আমার পরিবার পরিজন ও সন্তানাদি নিয়ে নিরাপদে শান্তিতে থাকি আর মুহাম্মদ (সাঃ) কে একটি কাঁটার আঁচড় দেয়া হবে।” এক কথা বলার সাথে সাথে উন্মুক্ত ময়দান থেকে হাঁক দেয়া হলো “তাকে হত্যা করে ফেলো, তাকে হত্যা করে ফেলো।”
অতঃপর সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী খোবায়েব (রাঃ) এর দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলেন, খোবায়েব আকাশের পানে তাকিয়ে বলছে, “হে আল্লাহ, আপনি এদের সংখ্যা গণনা করে রাখুন, এদের শক্তি খর্ব করে দিন এবং এদের একজনকেও ছেড়ে দিবেন না। একথা বলেই খোবাইব শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করে শহীদ হয়ে গেলেন তখনও এত অসংখ্য তরবারীও বর্শাঘাত তার উপর চলছিল যা গণনা করা কারো পক্ষে সম্ভব ছিলনা। কুরাইশরা সময়ের ব্যবধানে এই করুণ দৃশ্য ভুলে গিয়েছে। কিন্তু সাঈদ এক মুহুর্তের জন্যও ভুলতে পারেননি। তিনি তাকে ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে দেখতেন, জাগ্রত অবস্থায় ধ্যানের জগতে প্রত্যক্ষ করতেন।
তাঁর প্রতিচ্ছবি যেন সামনে ভাসে, দু'চোখে ভেসে উঠে খোবায়েরের বিনীত চিত্তে আদায় কৃত দু’রাকাত নামা আদায়ের মধূর দৃশ্য। তার কানে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে খোবায়েরের করুণ কান্না মিশ্রিত বদ দোয়া। খোবায়েরের মৃত্যু সাহাবী সাঈদ ইবনে আমেরকে এমন কতিপয় বিষয় শিক্ষা দিন যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১. প্রকৃত জীবন হলো একটি দৃঢ় বিশ্বাসের নাম, মৃত্যু পর্যন্ত ঐ বিশ্বাসের পথে জিহাদ করা।
২. দৃঢ় ঈমান অনেক বিস্ময়কর কিছু করতে পারে এবং অনেক অলৌকিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
৩. যে লোকটিকে তার সাহাবীরা অত্যাধিক ভালোবাসে তিনি হলেন এমন সত্য নবী, যিনি আসমান থেকে সাহায্য প্রাপ্ত।
আল্লাহ সাঈদ ইবনে আমেরের অন্তরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রশস্ত করে দেন। ফলে একদা সে এক জন- সমারোহে দাঁড়িয়ে ‘কোরাইশদের অন্যায়, পাপাচারের সাথে তার সংশ্লিষ্টহীনতা ও মূর্তিপূজা থেকে নিজকে মুক্ত ঘোষণা করে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...