Skip to main content

ঢাকায় ককটেল, চট্টগ্রামে গুলি, রাজশাহীতে ধানের ট্রাকে আগুন- ঝিনাইদহে সংঘর্ষে শিবির কর্মী নিহত

১৮ দলের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরুর আগ মুহূর্তে আজ শনিবার ভোরে রাজধানীর দলীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ইসরাইল হোসেন (২৪) নামের ছাত্রশিবিরের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরের এ কে খান রোড ও চাঁদগাঁও এলাকায় অবরোধ-সমর্থকদের সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া নগরের জিইসি মোড় থেকে ৪০০টি গুলিসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। রাজশাহীতে ধান ও ওষুধবাহী পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাঠানো খবর:
ঢাকা: গাবতলী বাস টার্মিনালের কাছে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কে বা কারা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় সকাল সাতটায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ সেখান থেকে আবদুল হালিম ভূইয়া ও আনোয়ারুল কবির নামের দুজনকে আটক করে। সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোডে অবরোধের সমর্থনে বের করা শিবিরের মিছিল থেকে সাত-আটটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একই সময় রামপুরায় মিছিল করতে গিয়ে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে সাভারের আমিনবাজার-সংলগ্ন সালেহপুর ব্রিজের কাছে অবরোধ-সমর্থকেরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল চারটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।



চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের একে খান ও চাঁদগাঁও এলাকায় অবরোধ-সমর্থকদের সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় আনিসুর রহমান ও অঞ্জন নামে পুলিশের  দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। অবরোধকারীদের ছোড়া গুলিতে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন বলে পুলিশের দাবি।



এদিকে পলিব্যাগে করে ৪০০টি গুলি নিয়ে যাওয়ার সময় টহল পুলিশ নগরের জিইসি মোড় থেকে আনোয়ার হোসেন ও আবুল হোসেন নামের দুজনকে আটক করে।



চট্টগ্রামের ইস্পাহানি এলাকায় রেললাইন অবরোধ করায় ঢাকা ও সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে।



রাজশাহী: অবরোধ শুরুর আগেই নগরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় ধানবোঝাই চারটি ট্রাক ও ওষুধবাহী একটি গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওষুধবাহী গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।



ধানবাহী ট্রাকগুলোর চালকেরা চালক জানান, নওগাঁ থেকে ধানবোঝাই করে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ যাচ্ছিলেন তাঁরা। চারটি ট্রাকে এক হাজার ২০ বস্তা ধান ছিল। প্রতিটি বস্তায় দুই মণ করে ধান ছিল।



চালকেরা জানান, রাত একটার দিকে দেওয়ানপাড়া এলাকায় রাস্তার ওপর কাঠের গুঁড়ি ফেলানো দেখে গাড়ি থামালে মাফলারে মুখ বাঁধা একদল মানুষ ইটপাটকেল ছোড়ে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। একজন চালক প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে গিয়ে খবর দিলে তাঁরা গিয়ে আগুন নেভান বলে ওই স্টেশনের কর্মকর্তা এনায়েতুল হক জানান।



ঝিনাইদহ: কোটচাঁদপুর উপজেলায় শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইসরাইল হোসেন (২৪) নামের একজন নিহত হন। উপজেলার হরিণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসরাইল শিবিরের কর্মী বলে জানিয়েছেন কোটচাঁদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ হোসেন।



ফেনী: দাগনভূঞায় গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে অবরোধ-সমর্থকেরা যাত্রীবাহী একটি বাস থামিয়ে প্রথমে লুটপাট চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় একটি পিকআপে অগ্নিসংযোগ এবং সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।



নোয়াখালী: অবরোধকারীরা শহরের মাইজদী বাজার, শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, পৌর বাজার, রশিদ কলোনি, দত্তেরহাট ও সোনাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। পুলিশ গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ২০টি রাবারের গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। এ ছাড়া পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আটজনকে আটক করে।



জেলার সোনাইমুড়ী এলাকায় নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করায় সংবাদপত্রের গাড়ি লক্ষ্মীপুর পৌঁছাতে পারেনি।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...