Skip to main content

সহিংস রাজনীতি সমর্থনযোগ্য নয়- অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি

বিজয় দিবসের আগের দিন দেশজুড়ে ব্যবসায়ী সমাজ সাদা পতাকার প্রতিবাদবন্ধন কর্মসূচি পালন করল। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতি যেভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে,
তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাতে এবং ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি প্রবল অনীহা জানাতেই এই প্রতিবাদবন্ধন কর্মসূচি। কিন্তু তাদের এই বার্তা যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্ণকুহরে সেভাবে প্রবেশ করেনি, তা এখন পরিষ্কার। সব অনুরোধ-আহ্বান উপেক্ষা করে বিরোধী দল নবোদ্যমে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করল। এর ফলে কয়েক মাস ধরে হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক সহিংসতার যে নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়েছে, তা আরও প্রলম্বিত হবে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে ইতিমধ্যে কতখানি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে, তা বোঝা যায় প্রথম আলোয় প্রকাশিত একগুচ্ছ প্রতিবেদনে। এসব প্রতিবেদনে সব ধরনের ব্যবসায়ী-শিল্পপতির অসহায় অবস্থা ফুটে উঠেছে। ফুটে উঠেছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো সময়মতো রপ্তানিপণ্য জাহাজে তুলতে না পেরে চড়া মাশুল গুনছে, ২০ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া লাখ টাকা হয়ে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়েছে, স্থলবন্দরগুলোতে পণ্য জমে গেছে, যা বাজারে ও কারখানায় আনা যাচ্ছে না, বিভিন্ন কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন অনিশ্চিত সময় কাটাচ্ছেন। দাবি আদায়ের নামে হরতাল-অবরোধে এখন পুড়ছে পণ্যবাহী ট্রাক, থেমে যাচ্ছে কারখানার চাকা, আহত হচ্ছেন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নাশকতার শিকার হচ্ছে রেলপথ।

এ রকম অবস্থা আরও কত দিন চলবে, তা কেউ বলতে পারছে না। ইতিমধ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ যে গোটা অর্থনীতিকে অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে, তা কোনো রকম অঙ্ক কষা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে একটি গতিময় ও স্পন্দবান অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৫৯তম, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে তৃতীয় স্থানটি বাংলাদেশের, সহজে ব্যবসা করার বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বোপরি ২০২১ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পথে অভিযাত্রায় ছিল বাংলাদেশ। চলমান অসুস্থ রাজনীতির সহিংস ছোবলে সেই অভিযাত্রার পদযুগলে বিরাট ক্ষতের সৃষ্টি হলো। সামনে এগোনোর চেয়ে এই ক্ষত সারানোর দাওয়াই প্রয়োগই এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

এ রকম একটা অবস্থায় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে বিচক্ষণ ও দূরদর্শী আচরণই কাম্য। দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি দলের দায় যেমন বেশি, তেমনি এই ধ্বংসযজ্ঞ বিস্তারের বড় দায় প্রধান বিরোধী দলকেই নিতে হবে। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো জামায়াত-শিবির এই ধ্বংসযজ্ঞের দাবানল ছড়িয়ে দিতে যে হিংস্র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তা কঠোরভাবে দমন করার জন্য সরকারের কুশলী পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিলে তার মূল্য কমবেশি সবাইকে দিতে হবে, আর এই ক্ষতি আসলে অপূরণীয়।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...