Skip to main content

মুহিতকে জানিয়েছেন মজীনা- নির্বাচন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

আগামী নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাখ্যার অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এ কথা জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

বৈঠক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি মজীনাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশে যা কিছু ঘটছে সবকিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী মজীনাকে বলেছেন, জামায়াত-শিবির বাংলাদেশে যে কর্মকাণ্ড করছে সে জন্য দলটিকে ‘টেরোরিস্ট পার্টি’ হিসেবে ‘ডিক্লেয়ার’ করা উচিত। এ ব্যাপারে মজীনা কী বলেছেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন,  তিনি এতে ‘ডিসএগ্রিড’ হননি।

নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কী বলেছেন, জানতে চাইলে মুহিত জানান, মজীনা তাঁকে বলেছেন, ‘অর্ধেক আসনে নির্বাচন নেই। ইলেকশন মানেই তো মানুষের ভোট দেওয়া।’

বৈঠকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন,  ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাচ্ছেন। অথচ তিনি একজন সম্মানীয় মানুষ।

আগামী ৫ জানুয়ারির পরে আওয়ামী লীগই সরকার গঠন করছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তা তো বটেই।’ এ সময় সাংবাদিকেরা মুহিতের কাছে জানতে চান, তিনিই অর্থমন্ত্রী থাকবেন কি না? উত্তরে মুহিত বলেন, ‘আমি জানি না, এটা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করেন।’ ৫ জানুয়ারির পরের সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বস্তি বোধ করবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তিনি তা বলতে পারবেন না।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...