Skip to main content

হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের নেপথ্যে

চার বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন হৃতিক রোশন ও সুজান রোশন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আজ তাঁদের বিয়ের ১৩ বছর পূর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩তম বিয়ে বার্ষিকীর ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৩ ডিসেম্বর হৃতিক জানালেন, তিনি ও সুজান বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। তবে কি ১৩ সংখ্যাটিই কাল হয়ে দাঁড়াল হৃতিক-সুজানের  সুখী দাম্পত্য জীবনে! বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেও, এর পেছনের কারণ সম্পর্কে হৃতিক কিংবা সুজান কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কিন্তু এত বড় ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন না করে কী বসে থাকতে পারেন সংবাদকর্মীরা! সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের নেপথ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া।

২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে সফল অভিষেক হয় হূতিকের। একই বছরের ডিসেম্বরে সুজানকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি। বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অন্যতম সফল ও সুখী দম্পতি হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে তাঁদের নাম। হৃতিক-সুজান দাম্পত্যে প্রথম অশান্তির ঢেউ ওঠে ২০১০ সালে। সে বছর মুক্তি পাওয়া ‘কাইটস’ ছবিতে সহ-অভিনেত্রী মেক্সিকান মডেল ও অভিনেত্রী বারবারা মোরির সঙ্গে হূতিকের সখ্যের খবর চাউর হলে দূরত্ব তৈরি হয় হৃতিক ও সুজানের মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, হৃতিক-বারবারা সখ্যের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই বিচ্ছেদের মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন সুজান।

অবশ্য বারবারার সঙ্গে সখ্যের আগে কারিনা কাপুরের সঙ্গেও হূতিকের প্রেমের গুজব চাউর হয়েছিল। ২০০১ সালের ২৭ জুলাই মুক্তি পাওয়া ‘ইয়াদে’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে বিবাহিত হূতিকের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন কারিনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, প্রায় এক বছর হূতিকের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন কারিনা। কিন্তু বিবাহিত হওয়ায় কারিনার প্রেমে সাড়া দেননি হৃতিক রোশন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় প্রেম কি দিওয়ানি হুঁ’ ছবিতে সর্বশেষ একসঙ্গে অভিনয় করেন হৃতিক-কারিনা। যথেষ্ট দর্শক চাহিদা থাকার পরও আর কোনো ছবিতেই এই জুটিকে চুক্তিবদ্ধ করাতে পারেননি কোনো নির্মাতা। দীর্ঘ ১০ বছর পর সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন প্রভাবশালী নির্মাতা করণ জোহর। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ‘শুদ্ধি’ ছবিতে হৃতিক-কারিনা জুটির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন করণ। তবে এখন কারিনার পরিবর্তে ছবিটিতে দীপিকাকে নেওয়ার চেষ্টা করছেন করণ জোহর।

বেশ কিছুদিন ধরেই হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের গুঞ্জন চলছিল। শুরুতে অস্বীকার করলেও চলতি মাসের ১৩ তারিখে বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেন হৃতিক। এরপর রোশন পরিবারের কাছের একটি সূত্র জানায়, চার মাস ধরে রোশন পরিবার থেকে দূরে আছেন সুজান। তিনি পেশায় একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। সম্প্রতি তিনি নিজের একটি বুটিক হাউস খুলেছেন। বুটিক হাউসের কাছেই মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় দুই ছেলে রিহান ও রিদানকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকছেন সুজান। এদিকে হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদের পেছনে বলিউডের অভিনেতা অর্জুন রামপালের হাত রয়েছে বলে খবর চাউর হয়েছে। অবশ্য বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন অর্জুন।

এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘হৃতিক ও সুজান দুজনই আমার খুব কাছের বন্ধু। কাছের কেউ যখন বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এমনিতেই মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে জীবনের কঠিনতম সময় পার করছে হৃতিক ও সুজান। এ অবস্থায় অযথা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর কোনো মানে হয় না। তাঁদের বিচ্ছেদে আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে আজেবাজে কেচ্ছা-কাহিনি রটানো হচ্ছে। এটা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। হৃতিক-সুজানের এই কঠিন সময়ে আমি ও আমার স্ত্রী মেহের সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। বরাবরের মতো এখনো আমরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।’ এদিকে অর্জুনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সুজানও। তিনি বলেছেন, ‘হৃতিক ও আমার খুবই কাছের একজন বন্ধু অর্জুন। আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন অনেক বেশি দৃঢ়। অযথাই কাউকে দোষারোপ করার বিষয়টি একদমই অনুচিত একটি কাজ।’

 বিচ্ছেদের কারণ জানতে চাইলে সুজানের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু ঘটে যায়। পরিস্থিতিই মানুষকে বাধ্য করে অপ্রত্যাশিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে আমি স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি নিজেও একজন মা ও মেয়ে।’ হৃতিক-সুজানের বিচ্ছেদ নিয়ে সুজানের বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় খানের মন্তব্য, ‘আর দশজন সাধারণ দম্পতির মতো হৃতিক-সুজানেরও ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা ছিল। হৃতিক সুপারস্টার বলে তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকবে না, তা তো নয়। তারা দুজনই বুদ্ধিমান এবং চমত্কার ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাদের বিচার-বিবেচনায় যা ঠিক মনে হয়েছে, সেটাই তারা করেছে।’

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...