Skip to main content

খালেদার আন্দোলন এবং নানা প্রসঙ্গ! by আলী রাবাত তারেক

অন্তহীন সমালোচনা খালেদা জিয়ার। ঘরে বাইরে এই সমালোচনা। যারা সমালোচনা করছেন তাদের যুক্তি হচ্ছে খালেদার আন্দোলন হঠকারী। দেশ বিরোধী। জনস্বার্থ বিরোধী।
দেশের কল্যাণে এ ধরনের আন্দোলন কোন ভূমিকা রাখবে না। বরং দেশটার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। অনেকে বলছেন, কি হলো আন্দোলন করে। সরকার তো টলেনি। ঠিক মতোই আছে। নির্বাচন হচ্ছে। মাঝখান দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হলো। ক্ষতি হলো রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের। দেশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এই যুক্তির সঙ্গে অনেকেই একমত নন। তারা বলছেন, আন্দোলন যদি ব্যর্থই হবে তাহলে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন কেন? এরশাদ কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।  কেনইবা তাকে আটকে রাখা হচ্ছে। প্রার্থীরা এলাকায় যাচ্ছেন না কেন? ব্যবসায়ীরা কেন বলছেন আন্দোলন দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দুই নেত্রীকে আলোচনার কথা বলছেন কেন? বিদেশি পর্যবেক্ষকরা কেন আসছেন না। কেন অর্থমন্ত্রী বলছেন এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন বলছে এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর কোন সুযোগ নেই। কমনওয়েলথ কেন না করে দিলো। যুক্তরাষ্ট্র কেন এই নির্বাচনের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিলো। আন্দোলন যদি সফলই না হবে তাহলে নির্ধারিত সময়ের আগে কেন সেনা মোতায়েন করা হলো। যৌথবাহিনী কেন গ্রামে গ্রামে বিশেষ অভিযানের নামে জনপ্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। সর্বোপরি ভোটারবিহীন এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার কি অর্জন করবে। নির্বাচন যে তামাশা ও কৌতুকে পরিণত হয়েছে সেটা তো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট। খালি মাঠে গোল দেয়ার কথা তিনি নিজেই বলছেন। এই দুটি মত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হারজিত নিয়ে দুই মতের মানুষেরা ব্যস্ত। কিন্তু দেশের আমজনতার দিকে কে তাকায়। তাদের কথা কে ভাবছে। দেশ জ্বলছে। পুড়ে মরছে মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষগুলো কেন বলছে আমরা বাঁচতে চাই। আমরা এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চাই না। গ্রামগঞ্জে এই আওয়াজ পৌঁছে গেছে। শাসক দলের সমর্থকরা মানুন আর না মানুন এই নির্বাচন দেশটাকে নৈরাজ্যের পথে ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচনের ইতিহাস পাল্টে দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। দেশটাকে বিভক্ত করেছে। জোর করে ক্ষমতায় থাকার পথকে উৎসাহিত করেছে। আমরা সবাই জানি নৈরাজ্য থেকে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা থেকেই একনায়কতন্ত্রের জন্ম হয়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন একনায়কতন্ত্রের জন্ম দেবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষ কি বলবে। তাদের কি বলার আছে। তাদের তো একটাই অস্ত্র ছিল ভোট। সেটা থেকেও তারা বঞ্চিত। ভোট তো দূরে কথা তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। তারা আঁতকে উঠে যৌথবাহিনীর আগমনে। জান যাচ্ছে যাক। কিন্তু সহায় সম্পদ? তাও যাচ্ছে। বুলডোজার কেড়ে নিচ্ছে তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন। মাথা গোঁজার ঠাঁই। পরিবার পরিজনের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারছে না। আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে এক বাড়িতে জামায়াত যেমন আছে, তেমনি আছে আওয়ামী লীগ-বিএনপিও। একজনের অপরাধে যখন গোটা বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তখন অন্যদের স্বপ্নও ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
এই রাজনীতির অবসান কবে হবে? মানুষ তো এই রাজনীতি চায় না। তারা তো পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন কবে কখন আসবে? যে ধারায় রাজনীতিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতে দেশের অস্তিত্বই হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই কেউ কেউ বলছেন, দল নয় দেশের স্বার্থ বড় এটা ভাবতে হবে। বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। তারা এর পরিবর্তন চান। তারা যেভাবেই পারেন চাপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এতে আমাদের রাজনীতিকদের হুশ হবে না। কারণ, তাদের কাছে দেশ নয়, ক্ষমতা বড়। এই যখন অবস্থা তখন জনবিচ্ছিন্ন এক সরকারকে কেউ কেউ দূর থেকে আশকারা দিয়ে চলেছেন। তারা এ থেকে হয়তো কিছু অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু আমরা কি কিছু পাবো? ইতিহাস বলে শূন্য হাতেই আমাদের ফিরতে হবে। তাই সময় থাকতে ভাবুন। সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...