Skip to main content

উচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা বন্ধ হোক- পুলিশি রিমান্ড

রিমান্ড প্রশ্নে যেসব কাণ্ড চলছে, তার স্থায়ী বিহিত হওয়া দরকার। উচ্চ আদালতের রায়ের বাইরে যাওয়া যাবে না—এমন যুক্তি ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রায় প্রবাদ বাক্যে পরিণত করেছেন।
অথচ রিমান্ড-সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা বিএনপি সরকারের মতোই অগ্রাহ্য করে চলেছে তারা। অন্যদিকে রিমান্ড প্রশ্নে সাম্প্রতিক কালে হাইকোর্ট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে যে ধরনের প্রতিকার মিলছে, তাতে আইনের বৈষম্যমূলক প্রয়োগই প্রতিভাত হচ্ছে। রমনা থানায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির দুই নেতাকে নিম্ন আদালত দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। এর একজন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, অন্যজন সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুল হক মিলন। এখন হাইকোর্ট থেকে শুধু রিমান্ড আদেশ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেও বিএনপির একজন আইনজীবী নেতা অনুরূপ প্রতিকার পেয়েছেন।

রিমান্ড প্রশ্নে আইন বা উচ্চ আদালতের আদেশে কোনো আলাদা বিধান নেই। ভিআইপি ও চিহ্নিত অপরাধীর মধ্যে কোনো ফারাক সৃষ্টি করা হয়নি। বস্তুত প্রচলিত আইনের কোথাও রিমান্ড শব্দটিই নেই। অপ্রিয় হলেও সত্য, এটা আইন ও সংবিধানের চেতনাবিরুদ্ধ একটি অনুশীলন। সংবিধান বলেছে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা আদায় করা যাবে না। সরকার থেকে রিমান্ডের আবেদন করে এবং নিম্ন আদালত থেকে তা মঞ্জুর করার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে সংবিধানের ওই চেতনার ব্যত্যয় ঘটে চলেছে।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা দুর্ধর্ষ আসামির ক্ষেত্রে প্রলম্বিত জিজ্ঞাসাবাদ বিশ্বের সব ফৌজদারি অপরাধ বিচারব্যবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রিমান্ড মানেই বিভীষিকা। প্রতিপক্ষ দমনে বিএনপি সরকারও এটা ব্যবহার করেছিল বলে তারা উচ্চ আদালতের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। ২০০৩ সালে বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৫৪ ধারায় পুলিশের পাইকারি গ্রেপ্তার এবং তাদের আবেদনক্রমে আদালতের রিমান্ড মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেন। পুলিশ আচরণ বদলায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিচার বিভাগ কি বদলেছে? সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের রায় নিম্ন আদালতের জন্য অবশ্যপালনীয়।
২০০৩ সালের পর দুই দলের সরকারের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য ঘটেছে। সেটি হলো, এক-এগারোর কারণে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে। অধস্তন আদালত দাবি করে থাকেন, তাঁরা আগের চেয়ে স্বাধীন। কিন্তু রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে পুলিশের দুটি স্বভাবগত আচরণ আমরা দেখি—ওপরের হুকুমে মামলা দায়ের এবং জামিনের বিরোধিতাপূর্বক রিমান্ডের আবেদন। দুটোই অবশ্য আদালতের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
আদালতের নির্দেশনা মেনে আইনে উপযুক্ত সংশোধনী আনা হোক। ডিবি পুলিশের হাজতখানা বন্ধ হোক। অনতিবিলম্বে রায় মেনে কারাগারে পৃথক কক্ষ স্থাপন এবং সেখানে অভিযুক্তের আইনজীবী ও আত্মীয়ের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথা চালু হোক। উচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা বন্ধ হোক।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...