Skip to main content

বর্তমান সরকার ৫ নম্বর পেয়েও বিজয়ী: বি. চৌধুরী

বর্তমান সরকার ৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিজয়ী বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বলেছেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছে- তারাই খেলোয়াড়, তারাই রেফারি, তারাই সব।
শতকরা ৫ মার্ক পেয়ে ফেল করা ব্যক্তিরাই এখন পাস। তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। বিরোধী দলকে (জাতীয় পার্টি) সঙ্গে নিয়ে একটি জগাখিচুড়ি মার্কা মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বি. চৌধুরী বলেন, শতকরা পাঁচ শতাংশ নম্বর পেয়ে কেউ পরীক্ষায়ও পাস করতে পারে না। তাই আওয়ামী লীগও পাঁচ শতাংশ ভোটে সরকার গঠন করতে পারে না। যারা ৯৫ শতাংশ মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসে তারা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, শিক্ষার উন্নয়নের জন্য, খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতি করুন। আমরা বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হয়ে থাকব। অন্য কোন দেশের দাসত্ব মেনে নেব না। আমাদের ইতিহাস অন্যান্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ। আমাদের ইতিহাস গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করাই জিয়াউর রহমানের একমাত্র ক্রেডিট ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পর যখন দেশের গণতন্ত্র নিহত হয়েছিল তখন গণতন্ত্রকে জীবন দিয়েছিলেন। মহিলা বিষয়ক, শিশু বিষয়ক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী ও তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিক। যখন বলা হয় জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেননি তখন দেশের মানুষ লজ্জা পায়, ইতিহাস লজ্জা পায়। তবে যারা অপপ্রচার করছে তারা লজ্জা পায় না। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, ড্যাবের সভাপতি এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আফম ইউসুফ হায়দার, দৈনিক ইনকিলাব এর সহকারী সম্পাদক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব তাহমিনা আক্তার টপি, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বক্তব্য দেন।

গণতন্ত্রের জন্য আরেকটা যুদ্ধ হতে পারে: শাহ মোয়াজ্জেম
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আগুন নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। ক্ষমতার লোভে আপনি দাবি না মানলে দেশ ভাগ হবে না তবে গণতন্ত্রের জন্য আরেকটা যুদ্ধ হতেই পারে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবাষির্কী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জেড ফোর্স আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ হাসিনার অবদান প্রসঙ্গে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, আপনি কি ত্যাগ করেছেন? জাগপার সভাপতি সফিউল আলম প্রধান সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলেন, ১৮ দল সন্ত্রাস করেনি। সন্ত্রাস করেছে রাষ্ট্র-সরকার। জেড ফোর্সের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা এটিএম মোশারফ হোসেন ও ছড়াকার আবু সালেহ বক্তব্য দেন।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...