Skip to main content

ঘুরে দাঁড়াতে বিএনপির কৌশল by কাফি কামাল

রাজনীতি ও আন্দোলনে ঘুরে দাঁড়াতে তিন লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। সারা দেশে সাংগঠনিক ভিত্তি সুসংহত, স্থানীয় নির্বাচন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে জনমত জোরদার করতে চায় দলটি।
৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর নতুন উদ্যমে পথ চলতেই এ প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল ও কাউন্সিলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি। ফলে এ মুহূর্তে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে কাউন্সিল ও স্থানীয় নির্বাচন। বিরোধী জোটের নেতারা মনে করেন, একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার এক বছরের বেশি সময় স্থায়ী হতে পারবে না। ২৩শে জানুয়ারি চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে খোদ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া এমন মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে নানা ইস্যুতে আন্দোলন করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দল। এক পর্যায়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের একক দাবিতে পরিচালিত হয় তাদের চূড়ান্ত আন্দোলন। এ দাবিকে সফল করতে সারা দেশে রোড মার্চসহ অন্তত দুইবার সফর করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চারদলীয় জোটের পরিধি বেড়ে ১৮দলীয় হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে পেয়েছে সাফল্য। সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ সময়ে আন্দোলনের মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি বিরোধী নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতারা জানান, বিরোধী দলের অবস্থান থেকে দেশে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা ছিল বিএনপির। কিন্তু সরকার বিরোধী দলসহ দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষের মতামতের তোয়াক্কা করেনি। এমনকি বন্ধু রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের উদ্যোগেও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি সরকার। বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, হত্যা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে এখন তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি নেতারা বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে ১৮দলের আন্দোলনের সাফল্য-ব্যর্থতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। ইতিমধ্যে পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে সে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। ২০১৩ সালের শেষদিকে সারা দেশের মানুষের জনসমর্থনের জোয়ার, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের উদ্যোগ ও আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ছিল পুরোটাই সরকারের বিপক্ষে। কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য আসেনি বিরোধী জোটের। কেন এমনটি হলো তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণের পাশাপাশি তা থেকে উত্তরণের নানা কৌশল প্রণয়ন করছে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল। বিএনপির নীতি-নির্ধারক মহল নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন জনসমর্থন জোরালো থাকলেও পাশাপাশি দুর্বলতা ছিল সাংগঠনিকভাবে। মামলা-হামলা নিয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে একপর্যায়ে আত্মগোপনে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবদের বড় অংশটিই। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন আত্মরক্ষামূলক অবস্থানের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশটিই গা বাঁচিয়ে চলেছে পুরো সময়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি এখনও অপূর্ণাঙ্গ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেনি। মূল্যায়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশও ছিল নিষ্ক্রিয়। এছাড়া অব্যাহতভাবে দমন-পীড়নের শিকার তৃণমূল নেতৃত্ব হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সে কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতৃত্বের প্রতিটি ধাপে উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন আনতে চান শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। নিষ্ক্রিয়দের সরিয়ে ত্যাগী ও নির্যাতিতদের মূল্যায়নের মাধ্যমে তৃণমূলকে চাঙ্গা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া আন্দোলনে ব্যর্থতার বড় একটি কারণ ছিল জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। জোটের শরিক দল জামায়াতের প্রতি সরকারের চূড়ান্ত আক্রোশের শিকার হয়েছে বিএনপি। নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার দায় চাপানো হয়েছে বিএনপির ঘাড়ে। জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব রক্ষার মাধ্যমে জোটগত রাজনীতি করার কৌশল নিতে চায় বিএনপি। সেক্ষেত্রে আন্দোলনের মাঠ দখলে রাখার জন্য সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বিকল্প দেখছেন না শীর্ষ নেতৃত্ব। এছাড়া সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে শিগগিরই বিভিন্ন জেলা সফর করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জেলা সফর শুরু করেছেন। বিএনপি নেতারা জানান, সার্বিক দিক বিবেচনা করলে ১৮দলের নির্দলীয় সরকার আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি। স্বাধীনতার পর আর কোন ইস্যুতে এত বেশি জনসমর্থন সৃষ্টি হয়নি। কোন আন্দোলনে সারা দেশের মানুষ এভাবে সমর্থন দেয়নি। কোন আন্দোলনই সারা দেশে এভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- বিরোধী দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুইটি বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন ছিল বাকশাল আর এবার ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন। দীর্ঘ মেয়াদি রাজনীতিতে এটি বিএনপির পক্ষেই গেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কৌশল ঠিক না করলে দূরবর্তী সে সাফল্য হাতছাড়া হতে পারে। কারণ জনমত ধরে রাখা অনেক কঠিন বিষয়। তাই বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে জনসমর্থন আরও জোরালো করার কোন বিকল্প নেই। আর জনসমর্থনের পালে নতুন করে হাওয়া বইয়ে দিতেই স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। একক প্রার্থী সমর্থন দিতে দলের সিনিয়র নেতাদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ইতিমধ্যে দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল অনুকূলে এনে সরকারকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চায় জনসমর্থন বিএনপির পক্ষেই। বিএনপি নেতারা জানান, জনসমর্থন জোরালো করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা তদন্তের পেশাজীবীদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর আগামী জুনে সরকারের নতুন বাজেটকে কেন্দ্র করেই শুরু হবে মূল আন্দোলন। বিরোধী নেতা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন ও সেটা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করতে পারবে না সরকার। বাজেটের ঘাটতি, কর বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে শুরু হবে সে আন্দোলন। তবে কর্মসূচি প্রণয়নে তৃণমূলের মতামতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে জোর দেয়া হবে। তারই প্রস্তুতি হিসাবে শিগগিরই সারা দেশে ধারাবাহিক জেলা সফর শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...