Skip to main content

রাজনীতির খেলা আর কত by মীর আবদুল আলীম

রাজনীতির খেলা, কথার খেলা আর কত দিন? এ খেলায় কে হেরেছে কে জয়ী হয়েছে তা বলে দেবে ভবিষ্যৎ। তবে এ মুহূর্তে মানুষ দেখেছে শত সংঘাতের মাঝেও বিএনপিকে ছাড়াই দশম সংসদের ভোট হয়ে গেছে।
নতুন সরকার গঠন হয়েছে। আগামী ২৯শে জানুয়ারি নতুন সংসদও বসবে। বিভিন্ন দেশ সরকারকে অভিনন্দনের পাশাপাশি সংলাপের তাগিদ দিচ্ছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে। তার মানে কারও কাছেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবে সরকারের মন্ত্রীরা অবলীলায় বলে যাচ্ছেন নির্বাচন হয়েছে ৫ বছরের জন্য। সুতরাং ৫ বছরই সরকার ক্ষমতায় থাকবে। গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে সংলাপেরও কোন সুযোগ নেই। অন্যদিকে বিএনপিসহ সমমনারা সরকারকে ছাড় দেবে না- ইতিমধ্যে তা বলেও দেয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত সংলাপের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দেশ ছিল অন্ধকারে। সহিংসতা আর অবরোধে অচল ছিল অর্থনীতির চাকা। বর্তমানে বিএনপি সরকারকে আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে। হয়তো তারা ক’মাস দেখবে। এর মধ্যে যদি সরকার সংলাপের উদ্যোগ না নেয় তাহলে দেশ ফের হরতাল-অবরোধের কবলে পড়বে এটা নিশ্চিত। রাজনীতির ইতিহাস তো তাই বলে। কয়েক মাস ধরে দেশে যে অশান্তি চলেছে তাতে দেশবাসী অতিষ্ঠ। তবে এ সময়ে খুনখারাবি হচ্ছে না তা নয়। গুম হচ্ছে। হচ্ছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। পরিস্থিতি আসলে কতটুকু ভাল, দেশবাসী বুঝতে পারছেন না। তবে এ মুহূর্তে রাজনৈতিক সংঘাত কম হচ্ছে। ১৫ই জানুয়ারির বেগম জিয়ার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে দেশবাসীর মনে শঙ্কা ছিল। আবার কোন আন্দোলনে যাচ্ছেন তিনি? কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়ার নমনীয়তা দেশবাসীকে কিছুটা হলেও শান্তি দিয়েছে। স্বস্তি দিয়েছে। অবরোধ-হরতালে না গিয়ে তিনি অন্য কর্মসূচি দিয়েছেন। একতরফা পাতানো নির্বাচনে সরকারকে পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচির কথা বলেছেন। এখন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে খোলা মন নিয়ে। সরকারকে সংলাপের, সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হবে। মন্ত্রীদের অতিকথন বন্ধ করতে হবে। তাহলে দেশ রক্ষা পাবে। কিন্তু সরকারের লক্ষণ তো ভাল দেখা যাচ্ছে না। দেশে আগের মতো সংঘাত-সংঘর্ষ না হলেও এখন চলছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কসরত। নানা কৌশল আর কূট-কৌশলের খেলা। রাজনৈতিক খেলায়ই চলছে দেশ। এ খেলার একটাই কারণ- ক্ষমতা। গদি দখলের লড়াইয়ে কেউ হারে কেউ জেতে। ক্ষমতার বাইরে থাকা দল ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল খোঁজে। আর সরকার কৌশল খোঁজে ক্ষমতায় থাকার। ক্ষমতার বাইরে থাকারা লাগাতার হরতাল অবরোধ দিয়ে দেশের অর্থনীতি, দেশের সম্পদ ধ্বংস এমনকি মানুষ হত্যার মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। কখনও বিএনপি ও সমমনারা, কখনও আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গীয় দল দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়। কয়েক মাস ধরে পেট্রল বোমা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর আর জ্বালাও পোড়াওয়ের যে নজির সৃষ্টি হয়েছে তাতে দেশবাসী চরমভাবে উদ্বিগ্ন। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতায় থাকা দল আর বিরোধী দলের এ খেলায় বলির পাঁঠা কেন হতে যাবে আমজনতা? রাজনৈতিক খেলা আর যুদ্ধে আমজনতাকে কেন মাঝখানে টেনে আনা হচ্ছে? কেন তাদের জানমালের ক্ষতি করা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের জানমাল নষ্ট করার কি অধিকার আছে রাজনীতিকদের? অনেক হয়েছে। আর নয়। এবার ক্ষান্ত হোন। দেশের মানুষের কথা ভাবুন। আর এ ভাবনা থেকে সংলাপে বসুন। সমঝোতায় পৌঁছুন। দেখবেন খুব দ্রুত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে করে। মনে রাখতে হবে ভোট জালিয়াতির পথ সঠিক নয়। জনবিরোধী কর্মসূচিও বাদ দিতে হবে। জানমাল নষ্ট আর মানুষ পুড়িয়ে মারার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। জনমুখী হতে হবে সবাইকে। দেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী। এ শান্তিটা অন্তত দিন তাদের।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...