Skip to main content

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে : ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিকরা ভোটারবিহীন নির্বাচনের পরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছেন। এটাই প্রমাণ করে তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে।
মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একের পর এক বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে বিচারবহির্ভূতভাবে। আর বলা হচ্ছে এরা সবাই সন্ত্রাসী। আসাদুজ্জামান নূর তো এখন সত্যি সত্যিই বাকের ভাই হয়ে গেলেন। আমাদের নামেও তো বোমা মারার অভিযোগে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা আছে। আমাদেরও তাহলে সন্ত্রাসী বলে হত্যা করে ফেলুক। তাদের চিন্তাচেতনায় গণতন্ত্র নেই এটা তারই প্রমাণ। ১৯ দলের তরুণ এ নেতা বলেন, সংবিধান বলছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। আর এখন প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার উৎস হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। বিরোধী জোটের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন তো শেষই হয়নি। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে তার বাড়িতে অবরোধ করে রাখার পর এটা স্পষ্ট হয়েছিল, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চেয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকাই আওয়ামী লীগের বড় বিষয়। ওই দিন কর্মীরা রাস্তায় নামলে অনেকগুলো প্রাণ হারাতো। বিরোধী দল রাস্তায় না নেমে অনেকগুলো জীবন বাঁচানো গেছে। এমন একটা সরকার গঠন করেই খেলা শেষ মনে করছে আওয়ামী লীগ। আসলে খেলা তো শেষ নয়। সামনে আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে অহিংস আন্দোলন করে কোন সরকার পতনের আন্দোলন সফল হয়নি। আমরা কোন সহিংসতা সমর্থন করি না, কিন্তু সহিংসতা হচ্ছে তা দেখতে হবে। তিন বছর ধরে দেশে আর লাঠিচার্জ বলে কিছু নেই। এখন সিনিয়র নেতাদেরও রাস্তায় নামলেই গুলি করে দেয়া হচ্ছে। কঠোর আন্দোলন শুরু হলে আর কিছু বলার থাকবে না কারও। তিনি বলেন, যারা জনগণের ইচ্ছার কথা চিন্তা করে না তাদের সঙ্গে তো লড়াই করা মুশকিল। তারা তো ভোটের কথা চিন্তাই করে না। জনগণের কাছে তো তাদের জবাবদিহির ভাবনা নেই। তারা যা খুশি করতে পারে। আমরা তো পারি না। আমাদের জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সুখ-শান্তির বিষয় ভাবতে হয়। বারবার পাঁচ বছর থাকার কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতারা স্পষ্ট করছেন তাদের পাঁচ বছর থাকার বৈধতা নেই। বিদেশী কোন বাধা নেই- এ কথা বলেই তারা প্রমাণ করছেন বিদেশীদের চাপে সরকার বিব্রত। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে পুতুল প্রার্থীদের দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয় এটা প্রমাণ হয়েছে। আমাদের আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। সরকার এখন নানাভাবে মিডিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একটা মিডিয়া বন্ধ করে ১০০টা মিডিয়াকে নার্ভাস করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আসলে সরকার নিজেই চাপে আছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন যে ব্যর্থ এটা মিডিয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে। আমরা বুঝি যে, মিডিয়া অনেক চাপের মধ্য দিয়ে কৌশল করে চলছে। কিছু কিছু ডিজিটাল বিটিভি আছে যারা সম্পূর্ণ সরকারের তোষামোদী করছে। তা ছাড়া সবাই সাহসী ভূমিকা রাখছে।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...