Skip to main content

সফলদের স্বপ্নগাথা- দশে দশ: মার্ক জাকারবার্গ

ফেসবুকের পথচলা এক অবিস্মরণীয় গল্প, যার অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। এত মানুষের জীবন ছুঁয়ে যেতে পারাটা এক বিরল সৌভাগ্যের বিষয়।
তাই আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিই—প্রতিটি দিনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে, সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দিতে হবে।

অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে, ফেসবুকের আজকের অবস্থান আমি কখনো ভাবতে পেরেছিলাম কি না। অসম্ভব! মনে পড়ে ফেসবুকের যাত্রা শুরুর কিছুদিন পর এক রাতে কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে পিৎজা খাচ্ছিলাম। খেতে খেতে আমি তাদের বলছিলাম, আমি আমাদের কলেজের অল্প কিছু মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি। তবে দেখে নিয়ো, একদিন কেউ না কেউ সারা পৃথিবীর মানুষকে একসুতোয় গাঁথবে।
মানুষ একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, খুব সহজে তাদের জীবনের টুকরা গল্পগুলো শেয়ার করতে পারবে, নিজেদের মতো করে তাদের সামাজিক সম্পর্কগুলো সাজিয়ে নিতে পারবে—এসব আমার সব সময়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো। আজ ১০ বছর পর যখন পেছনে ফিরে তাকাই, নিজেকে প্রশ্ন করি—ঠিক কী জন্য আমাদের হাতেই ফেসবুকের সূচনা হয়েছিল? আমরা তখন ছিলাম সাধারণ শিক্ষার্থী, বড় কোম্পানিগুলোর তুলনায় আমাদের হাতে সম্পদ বলতে একদম কিছুই ছিল না। তারা যদি এই ধারণা নিয়ে কাজ করত, তবে হয়তো তারাই ফেসবুক বানিয়ে ফেলত।
এই প্রশ্নের কেবল একটি সম্ভাব্য উত্তরই আমার জানা আছে, আমরা পুরো ব্যাপারটাকে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলাম। যখন অন্যরা বুঝে উঠতে পারছিল না যে পৃথিবীর সবাইকে সংযুক্ত করার আদৌ কোনো দরকার আছে কি না, ততক্ষণে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। যখন তারা সন্দেহ করছিল এমন একটি ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারবে কি না, তখন আমরা এটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সব রকম বন্দোবস্ত করে ফেলছিলাম। পৃথিবীকে একসুতোয় গাঁথার প্রচেষ্টা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। আজ ১০ বছর পরও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
তাই আগামী ১০ বছর নিয়ে আমি আরও বেশি আশাবাদী। এখন আমরা বিশ্বজুড়ে মানুষকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে পারব। আজ পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে। আগামী এক দশকে আমাদের দায়িত্ব হবে বাকিদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মূলত জীবনের টুকরা মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে। আগামী দশকে মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর আর জটিল সব সমস্যার সমাধানেও সহায়তা করবে এই মাধ্যমগুলো। আজ আমরা হাতে গোনা কিছু উপায়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করি। আমাদের অনুভূতি আর স্মৃতিগুলোকে ধরে রাখা, কিংবা পরস্পরের সঙ্গে আদান-প্রদানের আরও অনেক নতুন উপায় নিয়ে আসবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।
আপনারা সবাই যেভাবে আমাদের উদ্ভাবনগুলো ব্যবহার করে নিজেদের সামাজিক জগৎ গড়ে তুলেছেন, তা সত্যি আমাদের হূদয় ছুঁয়ে গেছে। ফেসবুকে আপনারা যেমন জীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছেন, তেমনি দুঃখগুলোও একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছে, পুরোনো বন্ধনগুলো আরও দৃঢ় হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে। নানা নতুন পণ্য আর সেবা উদ্ভাবিত হচ্ছে, অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে পারছে। সবাই একে অন্যকে অসংখ্য উপায়ে সাহায্য করছে। আপনাদের এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব, আর তা পালনে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাব। আমাকে এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
সূত্র: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ফেসবুকের দশম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মার্কের স্ট্যাটাস।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...