Skip to main content

সময়চিত্র- বইমেলা, বাংলা ভাষা এবং কিছু প্রশ্ন by আসিফ নজরুল

বইমেলার সঙ্গে আমার প্রজন্মের মানুষের পরিচয় আশির দশক থেকে। ১৯৮৮ সাল থেকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় আমি চাকরি করার সুবাদে এই পরিচয় আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
বিচিত্রার শাহরিয়ার কবির, মঈনুল আহসান সাবের, মাহমুদ শফিক, শামীম আজাদ তখনই ছিলেন খ্যাতিমান লেখক। বিচিত্রায় যাঁরা লিখতেন, তাঁদের আরও অনেকের বই বের হতো তখন। কাজেই বইমেলা আসার বহু আগে থেকে এর তোড়জোড় টের পাওয়া যেত সেখানে। প্রকাশক, প্রচ্ছদশিল্পী, প্রুফ রিডার আসতেন, গল্প করার জন্য আসতেন বড় লেখকেরা, প্রচারের জন্য নবীন লেখকেরা। বিচিত্রা তখন প্রভাবশালী সাপ্তাহিকী ছিল বলে বইমেলার দিনগুলোতে সাহিত্য পাতার সম্পাদক মঈনুল আহসান সাবেরের টেবিল ঘিরে থাকত নানা ধরনের সাহিত্যানুরাগী মানুষ।
বিচিত্রা সম্পাদক শাহাদত চৌধুরী বাংলাদেশে সাংবাদিকতার বহু নতুন ধারার জনক ছিলেন। বিচিত্রাই বাংলাদেশে খুব বিস্তৃতভাবে বইমেলা কাভার করা শুরু করেছিল, ফেব্রুয়ারিতে লেখকদের নিয়ে বিভিন্ন প্রচ্ছদ-কাহিনিও। শওকত ওসমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক আর হুমায়ূন আহমেদকে বিচিত্রার কাভারে দেখতাম আমরা, সশরীরে দেখতাম বিচিত্রা অফিসে। সে সময়ের বহুল আলোচিত একটি প্রচ্ছদ-কাহিনি ছিল সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের আলাপচারিতা। সৈয়দ হক হুমায়ূন আহমেদকে প্রশ্ন করেন: আপনি ছয় ফর্মায় উপন্যাস লেখেন কী করে? হুমায়ূন আহমেদের পাল্টা প্রশ্ন ছিল: আপনি ছয় লাইনে কবিতা লেখেন কেমন করে? আমরা বইমেলায় গিয়ে দেখতাম সেখানে বড় একটি আলোচনা ছিল বিচিত্রার এসব প্রচ্ছদ-কাহিনি আর বইমেলার সংবাদকে ঘিরে।
আমার ঔপন্যাসিক হওয়ার সূচনাও বিচিত্রা থেকে। সে সময়ের একজন জনপ্রিয় লেখক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে অদ্ভুত এক উপন্যাস লিখেছিলেন। সেখানে ছাত্রনেতারা মাথায় ফেট্টি বাঁধেন, হাতে থাকে তাঁদের হকিস্টিক আর হূদয়ে শুধু নারীর ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। অথচ আমাদের চেনা ছাত্ররাজনীতি ছিল তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন, এরশাদবিরোধী সময়ে ছাত্রনেতাদের জীবনযাপনও ছিল আরও অনেক অগ্রসর। খুব বিরক্ত হয়ে হয়ে আমি নিজেই লিখে ফেলি একটি উপন্যাস নিষিদ্ধ কয়েকজন। বিচিত্রার ঈদসংখ্যায় তা ছাপা হওয়ামাত্র সবিস্ময়ে দেখি কয়েকজন প্রকাশক এসে হাজির অফিসে, আমার বই বের করতে চান বইমেলায়। পিএইচডি করতে লন্ডনে যাওয়ার আগে এর পরের চার বছরে বইমেলাই হয়ে ওঠে আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রাঙ্গণ। তখনকার সময় বহু মানুষ ঈদ-পূজা-জন্মদিন, আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল খেলা বা নাটক-যাত্রার মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করত। আমরা করতাম একুশের বইমেলার জন্য। বইমেলার নতুন বইয়ের গন্ধ, নবীন লেখকের লাজুক গাম্ভীর্য, বইমেলা চত্বরের দুমড়ানো ঘাস, হঠাৎ বাতাসে ছিটানো ধুলোকণা—সবকিছুর জন্য। বইমেলার বিকেল আর সন্ধ্যা কেন সর্বদাই অস্তগামী আর বইমেলার মাস কেন দ্রুতগামী, এই আফসোস কখনো শেষ হতো না আমাদের।
একুশের বইমেলা এখন বহুগুণ বড় হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্বর থেকে এখন তা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল পরিসরে সম্প্রসারিত হয়েছে। দৈনিক পত্রিকা আর টিভিতে বইমেলা প্রধান সংবাদ হচ্ছে, প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে, বইয়ের বিজ্ঞাপনে রঙে ঢেকে যাচ্ছে অসুস্থ খবরের বিষাদ। উপন্যাস আর লেখা হয়নি, এই দুঃখে বইমেলা থেকে আমি দূরে আছি বহু বছর। তবু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি নতুন বইয়ের খবর, দূর থেকে আরও নিবিড়ভাবে অবলোকন করার চেষ্টা করি বইমেলার মাহাত্ম্য আর বিশালত্ব। অনুভব করার চেষ্টা করি বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতিকে ধারণ আর বেগবান করার ক্ষেত্রে এর অবদান। কিন্তু আমি একই সঙ্গে বিচলিত হই মধ্যবিত্ত আর নব্য ধনিক শ্রেণীর ওপর সারাটা বছর ধরে ভিনদেশি ভাষার ক্রমবর্ধমান আধিপত্যেও। ভাবি বইমেলার মর্মবাণীকে, বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসাকে আসলে কতটা অর্থবহ করতে পেরেছি আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশে?
ভাষা, সংস্কৃতি, জাতীয়তার রাজনীতি সম্পর্কে আমার জ্ঞান ও উপলব্ধি খুব সীমিত। তবু এটুকু বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বইমেলা শুধু বাংলা ভাষায় বই প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাকে প্রাণের ভাষা হিসেবে উদ্যাপন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় ধারণ ও প্রকাশ করার এক স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন। ফেব্রুয়ারির বইমেলা আমাদের অনিবার্যভাবে নিয়ে যায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতিচারণায়। বাংলাকে তখন শুধু রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি, ধর্মসর্বস্ব এক সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ থেকে মুক্ত করাও হয়েছিল এই অঞ্চলের মানুষের মনোজগৎকে। বাংলাদেশ যে কখনো পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ যে কখনো সাম্প্রদায়িক নয়, এই দেশের মানুষের ইতিহাসবোধ আর কৃষ্টির শুরু যে ১৯৪৭ সালের বহু যুগ আগে থেকে, তার জোরালো ও দৃপ্ত উচ্চারণ ছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ভাষার লড়াইয়ে বিজয়ী না হলে এত তাড়াতাড়ি আমরা পাকিস্তান নামক কূপমণ্ডূক রাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন দেশ পেতাম না, বইমেলাও হয়তো তখন হতো না এমন প্রাণের মেলা!
আমাদেরই তাই সবচেয়ে ভালো করে জানার কথা যে নিজ ভাষা মানে শুধু স্বাতন্ত্র্য নয়, এর মানে স্বাধীনতা, জাতিসত্তা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং আত্মপরিচয়। নিজ ভাষাকে জীবনযাপনে, আচার-অনুষ্ঠানে আর সব সামাজিকতায় তাই আত্মস্থ করতে হয়। কিন্তু আমরা কি আসলে তা পারছি আর? বইমেলার এক মাস আমাদের নিজ ভাষার সবচেয়ে শৈল্পিক প্রকাশ আর সৃজনশীল আত্মপরিচয়ের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক এই সংস্কৃতিবোধ বারো মাসের আকাশ সংস্কৃতির দাপটে কি দূষিত হওয়ার হুমকিতে পড়েনি? আমাদের একদল শিশু কি বাংলা শেখার আগে কিংবা বাংলার চেয়ে ভালো করে বলতে শিখছে না হিন্দি কিংবা ইংরেজি? পাকিস্তানি বর্বর শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে রক্ত দিয়ে লড়াই করে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার সময় আমরা কি এমন একটি সময়ের প্রত্যাশা করেছিলাম?
অন্য ভাষা শেখা বা বলায় আমার কেন কারোরই আপত্তি থাকার কথা না। আমি ইংল্যান্ড আর জার্মানিতে পড়াশোনা করার সময় দেখেছি সেখানকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী একাধিক বিদেশি ভাষা জানেন। ফ্রান্সের মানুষ অনর্গল বলতে পারছে চীনা ভাষা, কিংবা জাপানের মানুষ বলছে স্প্যানিশ, এটা খুবই সাধারণ এমনকি প্রত্যাশিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে গোলাকায়নের এই যুগে। কিন্তু আমার জানামতে, এই ভাষাশিক্ষা মূলত জ্ঞানচর্চা বা জীবিকার প্রয়োজনে। ঠিক সে ধরনের সচেতন সিদ্ধান্ত থেকে আমরা যেকোনো ভাষা শিখতে পারি। কিন্তু ভিনদেশি ভাষা শিক্ষা যদি হয় বাধ্য হয়ে, আকাশ সংস্কৃতির কাছে নিজের অজান্তে সমর্পিত হয়ে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ আছে।
অন্য ভাষা জানার প্রয়োজন কী, এটি কেন চর্চা করা হচ্ছে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। ইংরেজি পৃথিবীর সবচেয়ে কমন ভাষা বলে আমাদের ইংরেজি জানতে হবে, ভারতে পড়তে গেলে হিন্দি বা কোরিয়ায় পড়তে গেলে কোরিয়ানও। কিন্তু বিদেশি ভাষা যদি আমাদের সামাজিক জীবনযাপন এবং আচার-অনুষ্ঠানকে গ্রাস করে, বাংলার স্থান দখল করে ফেলে—আমার আপত্তি সেখানেই। বিয়ে, জন্মদিন, যেকোনো উদ্যাপনে কেন আমরা দেখব বিদেশি গান আর নাচের অনুকরণ সংস্কৃতি? ছাব্বিশে মার্চ বা ষোলোই ডিসেম্বর কেন পাড়ার ক্লাবেও আনন্দ করে বাজানো হয় হিন্দি এমনকি উর্দু গানও? যিনি ভারতীয় সিরিয়াল দেখবেন তিনি হিন্দিতে তা দেখুন, কিন্তু স্পোর্টস চ্যানেল বা এইচবিও হিটস-এ ছবি দেখতে গেলে কেন আমাকে শুনতে হবে হিন্দি!
অন্য ভাষা যখন প্রাত্যহিক জীবনযাপন আর সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মোবাইল ফোনের রিংটোনে প্রবেশ করে, তখন নিজস্ব সামাজিক সংস্কৃতি, স্বাতন্ত্র্যবোধ আর আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল হয়ে গেলে ভিনদেশি ভাষা-সংস্কৃতির হাত ধরে আসে ভিনদেশি পণ্য এমনকি ভিনদেশি রাজনীতির আধিপত্য। বাংলা বইমেলায় এক মাসের অনুষ্ঠানের সময়ে হলেও আমরা কি কখনো ভেবে দেখছি তা? একবারও কি আমরা আলোচনা করছি নিয়ন্ত্রণহীন আকাশ সংস্কৃতি কীভাবে গ্রাস করছে আমাদের ভাষা, কৃষ্টি আর স্বাধীন সত্তাকে? কীভাবে তা বেসুরো হয়ে আছে বইমেলা, একুশে আর পয়লা বৈশাখের আবেদনের সঙ্গে?

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments

Popular posts from this blog

‘প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নৈতিক ক্ষমতা আছে’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একতরফা কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় একতরফা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো নজির নেই। ৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছিল তাও গ্রহণযোগ্যতা পেত না। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নাগরিক হিসাবে উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগের যায়গা থেকেই প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছি। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে একই সুরে কথা বলেছি। আমাদের মূল আহ্বান ছিল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা স্পষ্ট করেছি। সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মসূচিগুলো অবস্থার অবনতি ঘটছে তাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু সমাধানের আগেই নির্বাচনে সিডিউল ঘোষণা হয়েছে। এটা আমাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদেরকে প্রেসিডেন্ট কি আশার বাণী ...

বিএনপিকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূল করতে সরকার মরিয়া বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দু:শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পুরে রাখছে। মূলত: শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল  কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই গতকাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এর বিরু...

অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন- রাজনীতির নামে নৃশংসতা

যাত্রীসমেত বাসে পেট্রলবোমা মেরে ১৯ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না, এটা কে না জানে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন এ রকমই! এ দেশের মানুষের জীবনযাপন আজ এভাবেই জিম্মি হয়ে পড়েছে নৃশংস রাজনৈতিক কৌশলের হাতে। ১৮-দলীয় জোটের তিন দিনের অবরোধের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাটির নিন্দা এবং ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিরীহ ১৯ জন মানুষ, যাঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন, আরও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি জানাই সান্ত্বনা ও সমবেদনা। পেট্রলবোমার শিকার হওয়া বাসটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মডেল। সেটিতে বাসচালক ও তাঁর সহযোগী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ—ছাত্র, ব্যাংকের কর্মকর্তা, পুলিশের কনস্টেবল, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তাঁরা কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কেন এই নৃশংসতার শিকার তাঁদের হতে হলো? এমন নৃশংসতার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে সারা দেশের মানুষ। বিরোধী দলের তিন দিনের অবরোধে না...